স্টাফ রিপোর্টার: (ঢাকা, ১৩ আগস্ট)- ঈদের আগে হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে কলমানি মার্কেটে সুদের হার। রোববার আন্ত:ব্যাংক লেনদেনে কলমানির সুদের হার সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন ছিলো ১৫ শতাংশ ও ৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ। এর আগে গত সপ্তাহে রোববার এ হার ছিলো ১০ দশমিক ৫০ শতাংশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে ।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চলতি মাসের শুরুতে কলমানির সুদের হার ছিলো ৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ। ঈদের আগে মানুষের নগদ টাকা তোলার পরিমাণ বেড়ে যায়। এজন্য কলমানির সুদের হার কিছুটা বেড়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, এটা এখনো সহনীয় পর্যায়ে আছে। কারণ, গত বছর এ সুদের হার ১৯০ শতাংশ পর্যন্ত উঠেছিল।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বড় অংকের তারল্য সহায়তার পরও রোববার আন্ত:ব্যাংক মুদ্রাবাজারে ৬ হাজার ২৩৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে। এদিন ব্যাংকগুলোর মধ্যে লেনদেন হয়েছে ৫ হাজার ৫৮৬ কোটি টাকা।
এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন চারটি ব্যাংক নিয়েছে ১ হাজার ৮২৯ কোটি টাকা, বিশেষায়িত খাতের দুইটি ব্যাংক নিয়েছে ৪২৬ কোটি টাকা, বেসরকারি ১৬টি ব্যাংক নিয়েছে ৩ হাজার ১৮৭ কোটি টাকা এবং বিদেশি ৩টি ব্যাংক নিয়েছে ১৪৪ কোটি টাকা। এসব ঋণের বেশিরভাগই ১৩ শতাংশ সুদে লেনদেন হয়েছে।
অন্যদিকে এদিন ১৪টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান নিয়েছে ৬৫১ কোটি ৫০ লাখ টাকা। যার সবই ১৫ শতাংশ সুদে লেনদেন হয়েছে। সব মিলিয়ে ১ আগস্ট থেকে রোববার পর্যন্ত সাত কার্যদিবসে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো কলমানি বাজার থেকে মোট ৫২ হাজার ২২০ কোটি টাকা ধার নিয়েছে।
রোববার কলমানি থেকে টাকা ধার নেওয়ার শীর্ষ পাঁচের তালিকার চারটিই রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংক। এদিন সব চেয়ে বেশি ধার নিয়েছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সোনালী ব্যাংক। এ ব্যাংকটি ধার নিয়েছে ৭৫১ কোটি টাকা। ৬৭৪ কোটি টাকা ধার নিয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অগ্রণী ব্যাংক। আর তৃতীয় সর্বোচ্চ বেসরকারি খাতের প্রাইম ব্যাংক। এ ব্যাংকটির ধারের পরিমাণ ৪৭৬ কোটি টাকা।
এর পরে রয়েছে রাষ্ট্রীয় মালিকানার বিশেষায়িত খাতের বেসিক ব্যাংক। এ ব্যাংকটি কলমানি থেকে ধার নিয়েছে ৪১১ কোটি টাকা এবং ৪০৪ কোটি টাকা ধার নিয়ে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন জনতা ব্যাংক।
কলমানি সুদহার নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যাংকগুলোকে প্রতিনিয়তই তারল্য সহায়তা দিয়ে আসছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। একটি সময়ে যেখানে ২ থেকে ৩ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হতো সেখানে এপ্রিল থেকে জুলাই পর্যন্ত গড়ে ১১ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে।
ঈদ উপলক্ষে সে পরিমাণও বাড়িয়ে গড়ে ১৪ হাজার টাকার বেশি দেওয়া হচ্ছে। রোববার প্রথমবারের মতো ১৫ হাজার কোটি টাকার বেশি দেওয়া হয়েছে। আগামী দুই কার্যদিবস সোম ও মঙ্গলবার এই সহায়তা আরও বাড়ানো হবে বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে রেপোর মাধ্যমে তারল্য সহায়তা নিতে বর্তমানে ব্যাংকগুলোকে ৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ এবং বিশেষ রেপোর মাধ্যমে তারল্য সহায়তা নিতে ১০ দশমিক ৩০ শতাংশ থেকে ১০ দশমিক ৮০ শতাংশ সুদ দিতে হয়। এর আগে এই সুদ হার এক অংকে ছিলো।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, গত দুই সপ্তাহে ঈদ উপলক্ষে ব্যাংকগুলো থেকে প্রচুর নগদ টাকা তোলা হয়েছে। এর পরেও কলমানি মার্কেটে সুদের হার উল্লম্ফন পর্যায়ে যায়নি। আর কেন্দ্রীয় ব্যাংক তারল্য সংকট মোকাবেলার জন্য ব্যাংকগুলোকে রেপো ও বিশেষ রেপোর মাধ্যমে সহায়তা প্রদান করছে। ঈদের কারণে কলমানির সুদের হার কিছুটা বাড়লেও এটা আবার স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে তারা মনে করেন।
প্রসঙ্গত, আন্ত:ব্যাংক কলমানি বাজার হলো এমন একটি বাজার যা মূলত অবিলম্বে তারল্য সংকট মেটানোর জন্য ব্যাংক ও নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সাহায্য করে।
বিডিপ্রেস ডটনেট/এমএন/এএমইউ_১৫৩৫ ঘ.
Add Your Comment
- নৌযানের সর্বশেষ অবস্থান জানা যাবে গ্রামীণফোনে
- ক্যাডবেরি চকলেটে আলপিন
- সুদিনের অপেক্ষায় বাংলাদেশ
- বেনাপোলে আমদানি-রফতানি বন্ধ
- মোবাইল ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু: এনসিসি ব্যাংক
- রাজবাড়ীতে বসুন্ধরা সিমেন্ট নির্মাণ কর্মশালা
- হরতালে একদিনের ক্ষতি ১৬শ’ কোটি টাকা: ডিসিসিআই
- নতুন বীমার লাইসেন্স ৭৬টি কোম্পানির আবেদনপত্র জমা
- গ্যাস সংযোগ নিয়ে রশি টানাটানি মন্ত্রণালয়-পেট্রোবাংলা
- সরকারের শেষ বাজেট অধিবেশন শুরু ৩ জুন



