বিনোদন ডেস্ক: (ঢাকা, ২৩ এপ্রিল)- ৫৯ বার কাটছাঁটের পরে মিলেছিল সম্প্রচারের ছাড়পত্র। তা সত্ত্বেও টিভির পর্দায় আটকে গেল ‘ডার্টি পিকচার’। কিন্তু এখন আবার শোনা যাচ্ছে, টিভিতেই দেখা যাবে বিদ্যার এই সফল ‘ডার্টি’ ছবিটি, তবে গভীর রাতে।
রোববার ভারতের বেসরকারি টিভি চ্যানেলে সনি এন্টারটেইনমেন্টে ‘ডার্টি পিকচার’ দেখানোর কথা ছিল। দুপুর ১২টা এবং রাত ৮টায়। এমনকি রোববার সকালেও ছবিটি প্রচারের প্রমো দেখানো হয়েছিল চ্যানেলটিতে। কিন্তু এরপরও শেষমেশ তা আর দেখানো হলো না।
শনিবার ভারতের কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের তরফে চ্যানেলকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়, দুপুর বা সন্ধ্যায় নয়। ছবিটি দেখাতে হলে গভীর রাতে দেখাতে হবে। কম করে হলেও রাত ১১টার পর। কিন্তু চ্যানেল কর্তৃপক্ষ রাত ১১টার স্লটেও ‘ডার্টি পিকচার’ দেখায়নি।
রোববার সকাল থেকেই ওই চ্যানেলে বারবার বিজ্ঞপ্তি দেখানো হয়, আমরা দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি, অনিবার্য কারণে আজ ‘ডার্টি পিকচার’ দেখানো যাচ্ছে না। দর্শকের অসুবিধার জন্য দুঃখিত।
লাস্যময়ী দক্ষিণী নায়িকা সিল্ক স্মিতার জীবন অবলম্বনে ‘ডার্টি পিকচার’ ছবিটি এমনিতেই মুক্তির সময় ‘এ’ সার্টিফিকেট পেয়েছিল। সাধারণভাবে ‘এ’ অর্থা অ্যাডাল্ট বা প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নির্মিত ছবির ক্ষেত্রে টেলিভিশনে দেখানোর জন্য একটি আলাদা সংস্করণ তৈরি করা হয়।
এর আগে ‘দিল্লি বেলি’ ছবিটির ক্ষেত্রেও একই পদ্ধতি নেয়া হয়েছিল। ‘ডার্টি পিকচার’-ও সেই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই গিয়েছিল। ৫৯টি দৃশ্যে এবং সংলাপে কাটাকাটির পর ছবিটিকে টেলিভিশনের জন্য ছাড়পত্র দেয় ভারতের ফিল্ম সার্টিফিকেশন বোর্ড (সিবিএফসি)।
সংবাদসংস্থার খবরে প্রকাশ, সিবিএফসি’র নিয়ম অনুযায়ী টিভিতে দুপুর বা সন্ধ্যার স্লটে কেবল ‘ইউ’ সার্টিফিকেট প্রাপ্ত ছবিই দেখানো যায়। ‘ইউ/এ’ বা ‘এ’ সার্টিফিকেট প্রাপ্ত ছবি রাতের আগে দেখানো যায় না।
এর আগে রামগোপাল ভার্মার ‘সত্য’ ছবিটিও রাতের স্লটেই দেখানো হয়েছিল। অথচ ফিল্ম এবং টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে জড়িতদের অনেকেরই বক্তব্য, ‘ইউ/এ’ সার্টিফিকেট প্রাপ্ত ছবির জন্য এমন কোনো বিধিনিষেধ নেই।
উদাহরণ হিসেবে তারা মনে করিয়ে দিয়েছেন, টালিউডের ‘বাইশে শ্রাবণ’ বা ‘শূন্য এ বুকে’র মতো ছবি প্রেক্ষাগৃহে ‘এ’ সার্টিফিকেট নিয়ে মুক্তি পেয়েছিল।
পরে টেলিভিশনের জন্য কাটছাঁট করে দু’টি ছবিই ‘ইউ/এ’ তকমা নিয়ে দুপুর এবং সন্ধ্যার সময়েই দেখানো হয়েছিল। তাহলে ‘ডার্টি পিকচার’ নিয়ে আপত্তি কেন? রাত পর্যন্ত চেষ্টা করেও এ নিয়ে সেন্সর বোর্ডের তরফে কেউ মুখ খোলেননি।
‘ডার্টি পিকচার’র সম্প্রচার স্থগিত হয়ে যাওয়া নিয়ে সংশ্লিষ্ট চ্যানেলের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিবৃতি দেয়া হয়নি। তবে ঘনিষ্ঠ সূত্রের খবর, বিষয়টি তারা মোটেই ভালো ভাবে নেননি।
তাদের প্রশ্ন, টিভিতে দেখানোর উপযোগী কাটছাঁট এবং ছাড়পত্রের পরেও যদি রাতের আগে ছবি দেখানো না যায়, তা হলে লাভটা কী? যে সরকার ছবিটিকে জাতীয় পুরস্কার দিল, সেই সরকারই ছবিটা দেখাতে দিচ্ছে না!
ছবিটির প্রযোজক সংস্থা বালাজি’র শাখা বালাজি টেলিফিল্মসের সিইও তনুজ গর্গ টুইটারে লিখেছেন, সরকারের রাজস্ব আদায়ের অন্যতম উৎস ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি। অথচ তার প্রতি সরকারের আচরণে সহযোগিতার ছিটেফোঁটা নেই।
করন জোহর, তসলিমা নাসরিনরাও এই ঘটনার তীব্র বিরোধিতা করে টুইট করেছেন! সব মহলেই একটাই প্রশ্ন উঠে আসছে এই মুহূর্তে, সিল্কের ভূমিকায় অভিনয় করে বিদ্যা বালান ভারতের সবচেয়ে বড় সম্মাননা ‘জাতীয় পুরস্কার’ পেতে পারেন! কিন্তু টেলিভিশন সেটের পর্দায়, দর্শকের ঘরে ঢুকে পড়ার ক্ষেত্রে ‘সিল্ক’ কাহিনি কি এখনো এতটাই ‘বিপজ্জনক’? সূত্র: ওয়েবসাইট।
বিডিপ্রেস ডটনেট/এসআর/এ এসআর_১৯৫০ ঘ.
Add Your Comment
- আদালতে আত্মসমর্পণ করলেন সঞ্জয় দত্ত
- বউ করে নিয়ে আসা মেয়েটি এমন!
- বলিউডে আলোচিত ১০ ‘চুম্বন’
- এবার কুক অথবা কাঠমিস্ত্রি হবেন সঞ্জয় দত্ত!
- আরো খোলামেলা 'অসিন'
- মাধুরীকে চুমু দিতে রণবীরের ঘুষ
- সঞ্জয়কে আর সময় দেয়া হবে না: সুপ্রীম কোর্ট
- ক্লোজআপ ওয়ান-২০১২ বিজয়ী লায়লা
- কামসূত্র থেকে ‘কান’-এ যাচ্ছেন শার্লিন চোপড়া
- বিয়ে না করেই...



