ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: (মিশর, ২৬ জুন)- মিশরের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি বলেছেন হোসনি মোবারক বিরোধী বিপ্লবে শহীদদের রক্ত তিনি বৃথা যেতে দেবেন না।
নির্বাচনের পর মিশরের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেয়া এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি বলেন, ২০১১ সালে যে বিপ্লবের মাধ্যমে সাবেক স্বৈরশাসক হোসনি মোবারকের পতন হয়েছে তার ধারা অব্যাহত থাকবে।
মিশরের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হবার আহবান জানিয়ে মুরসি বলেন, ‘আমি মিশরের প্রতিটি নাগরিকের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবো।’
তিনি আরো বলেন, ‘মিশরের জনগণকে তাদের ঐক্য ও সংহতি জোরদার করতে হবে। একমাত্র জাতীয় ঐক্যই পারে দেশকে চলমান সংকট থেকে মুক্তি দিতে।’
মোহাম্মাদ মুরসি মুবারক বিরোধী বিপ্লবের শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বলেন, শহীদদের রক্ত বৃথা যেতে দেব না। তাদের আত্মত্যাগ ছাড়া কখনই স্বৈরাচারের পতন ও এ বিপ্লব সম্ভব হত না।
মোহাম্মদ মুরসি তার ভাষণে মিশরের জনগণকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনাদের কাছে দেয়া আমার ওয়াদা ভাঙ্গলে আমাকে সম্মান করার কোনো প্রয়োজন নেই।
শান্ত ও ধীর কণ্ঠে মুরসি বলেন, আপনাদের কাছে দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সর্ব্বোচ্চ চেষ্টা করব। যতক্ষণ আমি নিরপেক্ষ ও আল্লাহকে মেনে চলব ততক্ষণ হে আমার জনগণ, আমাকে সাহায্য করবেন, নচেৎ নয়।
মুরসি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা দেন, কিন্তু যদি আমি আমার দেয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করি বা আল্লাহকে মেনে না চলি তাহলে আমাকে অনুসরণ করবেন না।
মুরসি সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষ, পুলিশ, বিচারক, পেশাজীবীদের সম্মান জানিয়ে মিশরের উন্নয়নে স্বাধীনভাবে কাজ করার আহবান জানান।
মুরসি মিশরের সাথে সকল আন্তর্জাতিক চুক্তি মেনে চলার অঙ্গীকার করে বলেন, ভারসাম্যপূর্ণ আন্তর্জাতিক সম্পর্ক মেনে চলবে তার সরকার। তিনি বলেন, মিশর যে কোনো আগ্রাসন মোকাবেলা সক্ষম। এবং বিশ্বের যে কোনো স্থানে মিশরের নাগরিককে রক্ষার প্রতিশ্রুতি দেন মুরসি।
মুরসি বলেন, মিশরের সকল নাগরিকের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে জাতির উজ্জ্বল ভবিষ্যত গড়াই আমার প্রধান ও অন্যতম কর্তব্য। বিপ্লবের লক্ষ্য অর্জনের জন্যেই তা অপরিহার্য।
মিশরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মুরসি পেয়েছেন এক কোটি ৩২ লাখ ভোট । তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হোসনি মোবারকের শাসনামলের প্রধানমন্ত্রী ও সাবেক বিমান বাহিনী প্রধান জেনারেল আহমেদ শফিক পেয়েছেন এক কোটি ২৩ লাখ ভোট।
দেশটিতে এবারের নির্বাচন ছিল গত ছয় দশকের সামরিক শাসনের মধ্যে প্রথমবারের মতো বহুদলীয় নির্বাচন।
এদিকে মিশরের নব নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মাদ মুরসি’কে শুভেচ্ছা জানিয়েছে ইরান।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, মিশরের জনগণ দেশটির ইতিহাসে গণতান্ত্রিক নির্বাচনের এক অভূতপূর্ব নজীর স্থাপন করেছে। এ নির্বাচনের মাধ্যমে তারা প্রমাণ করেছে, মুবারক বিরোধী বিপ্লবের ধারা এগিয়ে নিয়ে যেতে দেশটির জনগণ বদ্ধপরিকর।
রোববার বিকেলে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর গোটা মিশরের পাশাপাশি গাজা উপত্যকার ফিলিস্তিনি জনগণও রাস্তায় নেমে উল্লাস প্রকাশ করেন।
এদিকে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল হাসান ফিরোজাবাদি বলেছেন, গণতান্ত্রিক মাপকাঠিতে মিশরের ক্ষমতাসীন সর্বোচ্চ সেনা পরিষদের কোনো আইনগত বৈধতা নেই।
জেনারেল ফিরোজাবাদি আরো বলেন, বৈধ সরকারের মানদণ্ড হলো হয় ঐশি মনোনয়ন না হয় সুষ্ঠু নির্বাচন ও জনগণের ভোট।
Add Your Comment
- বিয়ের উদ্দেশ্যে সম্মতিসূচক যৌন সম্পর্ক ধর্ষণ নয়: ভারতের সুপ্রিম কোর্ট
- গোলানে ইসরাইলি ও সিরীয় সৈন্যদের মধ্যে গোলাবিনিময়
- ওকলাহোমায় শক্তিশালী টর্নেডোর আঘাতে নিহত ৯১, আহত শতাধিক
- আফগানিস্তানে আত্মঘাতি বোমায় নিহত ১১
- ইরাকে গাড়ি বোমা বিস্ফোরণে নিহত ৩৪
- যুক্তরাষ্ট্রে ঐতিহাসিক সফরে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট
- ইরাকে অব্যাহত সহিংসতায় ১০ পুলিশ নিহত
- করাচিতে পুনঃনির্বাচনে ইমরানের দলের জয়
- যুক্তরাষ্ট্রে টর্নেডোয় নিহত ১
- গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ইরানে ২ জনের ফাঁসি



