ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: (ঢাকা, ১৪ জুলাই)- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনাদের গণহত্যা ও নারী নির্যাতনের নিন্দায় মুখর সেই সময়ে দায়িত্বে থাকা এক পাক অফিসারই। তবে জীবদ্দশায় তিনি এই সব ঘটনার কথা জানিয়ে যেতে পারেননি।
পাকবাহিনীর চতুর্দশ ডিভিশন-এর লেফটেন্যান্ট মেজর জেনারেল খাদিম হুসেন রাজা নিজের পরিবারকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, কেবলমাত্র তার মৃত্যুর পরেই যেন তার স্বীকারোক্তিমূলক গ্রন্থটি প্রকাশ করা হয়।
সম্প্রতি রাজার মৃত্যুর পর তার লেখা ‘আ স্ট্রেঞ্জার ইন মাই ওন কান্ট্রি ইস্ট পাকিস্তান ১৯৬৯-৭১’ বইটি পাকিস্তানে প্রকাশিত হওয়ায় পর প্রবল অস্বস্তিতে পড়েছে ইসলামাবাদ।
মুক্তিযুদ্ধে পাক সেনাদের নির্মম অত্যাচারের সবিস্তার চাক্ষুষ বিবরণই শুধু নয়, সেই সময় পূর্ব পাকিস্তানের কোন জেলায় কোন কোন অফিসার গণহত্যায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, তার অকপট স্বীকারোক্তিও রয়েছে বইটিতে।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে যখন বাংলাদেশে তোলপাড় চলছে, তখন স্বাভাবিকভাবেই অবসরপ্রাপ্ত সেনা অফিসারের লেখা বইটি ইসলামাবাদের অস্বস্তি বাড়িয়েছে। বাংলাদেশ বা ভারতের বাজারে এখনও বইটি আসেনি। বইটিকে নিষিদ্ধ করার জন্য জারদারি সরকারকে চাপ দিচ্ছে পাক সেনারা।
কূটনৈতিক সূত্রের খবর, খুব শিগগিরই বইটি যাতে পাকিস্তানের বাজারে আর না দেখা যায়, তার বন্দোবস্ত করা হচ্ছে।
খাদিম হুসেন রাজা তার বইটিতে জেনারেল আয়ুব খান এবং জেনারেল ইয়াকুব খানের শাসনকালের বর্ণনা দিয়েছেন। খান সেনারা কিভাবে বাঙালি মহিলাদের নির্যাতন করেছে, সাধারণ মানুষকে হেনস্থা করে অসদুপায়ে অর্থোপার্জন করেছে, তার বিশদ বর্ণনা রয়েছে রাজার লেখায়।
পূর্ব পাকিস্তানের কমান্ডার টিক্কা খানের কথাও উল্লেখ করেছেন রাজা। জানিয়েছেন, ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে ‘বিদ্রোহ ঘোষণার জন্য’ শেখ মুজিবুর রহমানকে সর্বসমক্ষে ফাঁসিতে ঝোলাতে চেয়েছিলেন টিক্কা।
মেজর জেনারেল রহিম খানের অত্যাচারের কথা বর্ণনা করে লেখক বলেছেন, ‘আমি যদিও ব্যক্তিগতভাবে রহিমের বন্ধু ছিলাম, কিন্তু সুযোগ পেলেই তিনি আমাকে ভৎসনা করতেন। তার বক্তব্য ছিল, পূর্ব পাকিস্তানের মানুষরা একেবারেই কাপুরুষ। অনেক আগেই তাদের শায়েস্তা করা উচিত ছিল। পাঠকরা এ থেকেই বুঝতে পারবেন, পূর্ব পাকিস্তানের পরিস্থিতি সম্পর্কে কাণ্ডজ্ঞানের কতটা অভাব ছিল পশ্চিম পাকিস্তানের কট্টরপন্থি সামরিক কর্তাদের’।
রাজা জানিয়েছেন, খান সেনাদের মহিলাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন আর এক কমান্ডার শেখ নিয়াজি। নির্দেশ অমান্য করার জন্য লেখকের সামনেই কোমর থেকে পিস্তল বের করে এক বাঙালি অফিসারকে গুলি করেছিলেন নিয়াজি।
এই নিয়াজিই যুদ্ধের শেষ দিকে ঢাকায় ৯০ হাজার পাক সেনাসহ ভারতের ইস্টার্ন কমান্ডের প্রধান মেজর জেনারেল জেএফআর জেকবের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। ঢাকার পতন ঘটে। তার কিছু দিন আগেই নিয়াজি লেখকের কাছে তার পূর্ব পাকিস্তানের বান্ধবীদের ফোন নম্বর চেয়েছিলেন বলে বইটিতে জানিয়েছেন রাজা।
বিডিপ্রেস ডটনেট/এমএন/এএমইউ_১৬৩২ ঘ.
Add Your Comment
- গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ইরানে ২ জনের ফাঁসি
- আফগান পুলিশ প্রধানকে গুলি করে হত্যা
- মুম্বাইয়ে ক্লিনিকে রোগীকে ধর্ষণ, অভিযোগ ডাক্তারের বিরুদ্ধে
- করাচিতে তেহরিক-ই ইনসাফ পার্টির নেতাকে গুলি করে হত্যা
- এভারেস্ট চূড়ায় প্রথম সৌদি নারী
- ‘রোটাভ্যাক’ নামের ডায়েরিয়া প্রতিরোধ টিকা আবিষ্কৃার ভারতে
- চীনে ঝড়োবৃষ্টিতে ৫৫ জনের প্রানহানি
- টেক্সাসে টর্নেডোয় প্রাণহানি ৬
- আফগানিস্তানের কাবুলে গাড়িবোমা হামলা
- মেক্সিকোতে বন্দুকধারীদের হামলায় নিহত ৬



