স্টাফ রিপোর্টার: (ঢাকা, ২১ মে)- রাষ্ট্রীয় তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) কৈলাসটিলা ও হরিপুর গ্যাসক্ষেত্র দুটিকে তেলক্ষেত্র ঘোষণা করেছে।
রোববার এক সংবাদ পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান অধ্যাপক হোসেন মনসুর সম্মেলনে সরকারের পক্ষে এই ঘোষণা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে হোসেন মনসুর বলেন, দেশে এই প্রথম অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক তেলক্ষেত্রের সন্ধান পাওয়া গেল। আগামী এক বছরের মধ্যে এখান থেকে তেল উত্তোলন শুরু করা হবে। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও সম্মতি দিয়েছেন।
পেট্রোবাংলার অধীন তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন কোম্পানি (বাপেক্স) পরিচালিত ত্রিমাত্রিক ভূকম্পন জরিপে ওই দুটি ক্ষেত্রে তেল আবিষ্কারের খবর আনুষ্ঠানিকভাবে দেশবাসীকে জানানোর জন্য এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্বের এই অধ্যাপক আরও বলেন, দেশে অদূরভবিষ্যতে আরও বড় তেলক্ষেত্র আবিষ্কৃত হবে।
তিনি বলেন, আমাদের দেশের তেলের উৎস শিলা হচ্ছে বোড়াইল গ্রুপ অব সেডিমেন্টস। ভারতের আসাম রাজ্যে আবিষ্কৃত বিপুল তেলভান্ডারের উৎস শিলাও একই। তাই আসামে বিপুল পরিমাণ তেলের মজুদ থাকলে বাংলাদেশেও আছে।
তবে এই তেল খুঁজে পাওয়ার জন্য আমাদের ভূগর্ভের সাড়ে ছয় থেকে সাত কিলোমিটার গভীরে পর্যন্ত কূপ খনন করতে হবে, যা এখন পর্যন্ত চার কিলোমিটারের মধ্যেই সীমিত আছে।
সংবাদ সম্মেলনে পেট্রোবাংলার পরিচালক ও কর্মকর্তারা, এই ক্ষেত্র দুটির পরিচালক সিলেট গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি ও বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদ্বয় এবং বিশিষ্ট ভূতত্ত্ববিদ অধ্যাপক বদরূল ইমাম উপস্থিত ছিলেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বদরূল ইমাম বলেন, বাপেক্স ১৯৮৭ সালেই হরিপুরে তেলের সন্ধান পেয়েছিল। তা তোলার জন্য একটি বিদেশি কোম্পানিকে (সিমিটার) দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু তারা যথাযথ প্রযুক্তি ব্যবহার ছাড়াই তেল তোলার চেষ্টা করায় বাণিজ্যিক ভিত্তিতে তোলা যায়নি। এরপর কৈলাসটিলা ক্ষেত্র থেকেও বিশ্বব্যাংকের একটি প্রকল্পের অধীনে তেল তোলা হয়েছে।
তিনি বলেন, তবে এবার যেমন ত্রিমাত্রিক ভূকম্পন জরিপের মাধ্যমে পুরো ক্ষেত্রের আকার-আয়তন, তেলের মোট ও উত্তোলনযোগ্য মজুদ প্রভৃতি সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে, তখন তেমন করা যায়নি। সেদিক থেকে এবারই প্রথম তেলক্ষেত্র আবিষ্কার। এই আবিষ্কারের জন্য বাপেক্স ও পেট্রোবাংলাকে অভিনন্দন।
বাপেক্সের ত্রিমাত্রিক ভূকম্পন জরিপে কৈলাসটিলায় ভূপৃষ্ঠের ৩২০০ মিটার থেকে ৪০০০ মিটার গভীরতার মধ্যে পাঁচটি স্তরে মোট ১০ কোটি ৯০ লাখ ব্যারেল তেলের মজুদ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া গেছে। এর মধ্যে চার কোটি ৪০ লাখ ব্যারেল (মজুদের ৪০ শতাংশ হিসেবে) উত্তোলনযোগ্য বলে বলা হয়েছে।
হরিপুরে ভূপৃষ্ঠের ২৬০০ মিটার নিচে তেলের স্তরের অবস্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখানে মজুদের পরিমাণ দুই কোটি ৮০ লাখ ব্যারেল বলে ধারণা পাওয়া গেছে। এর মধ্যে এক কোটি ১০ লাখ ব্যারেল উত্তোলনযোগ্য বলে বলা হয়েছে।
এই তেল উত্তোলনের জন্য কোথায় কোথায় কূপ খনন করতে হবে, তা-ও বাপেক্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখন কাজ হচ্ছে কূপ খনন করে তেল তোলার পদক্ষেপ নেওয়া।
বিডিপ্রেস ডটনেট/এসআর/এ এসআর_০৯৫২ ঘ.
Add Your Comment
- কানাডায় যাচ্ছে দুদক টিম
- ঢাকা আইনজীবী সমিতির নবীনবরণ অনুষ্ঠান-২০১৩
- প্রেসক্লাব এলাকায় কর্মসূচি পালনে পুলিশের নিষেধাজ্ঞা জারী
- জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সঞ্চালন শুরু
- আশুলিয়ায় ফের শ্রমিক অসন্তোষ
- সংসদে এসে কথা বলুন: শেখ হাসিনা
- ‘মহাসেন’ নাম নিয়ে মহা সংকট!
- উপকূলীয় ৫ জেলায় ১৫ জনের মৃত্যু
- কাঁচপুরের ঘটনায় ১২ সামরিক কর্মকর্তার এক মাসের আগাম জামিন
- মহাসেন এখন ত্রিপুরায়: বিপদ সংকেত প্রত্যাহার



