জেলা সংবাদদাতা: (মুন্সীগঞ্জ, ১৬ জুন)- পদ্মা সেতুর অর্থায়নে বিকল্প উৎস নিয়ে আলোচনা চালালেও বিশ্ব ব্যাংকের সঙ্গে সমঝোতা করে কাজ করাকেই সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
শনিবার মুন্সীগঞ্জের কুমারভোগে পদ্মা সেতুর কারণে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন এলাকা পরিদর্শনের সময় তিনি একথা জানান। মন্ত্রী বলেন, আগামী আট মাসের মধ্যে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হবে।
ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, “সমঝোতার ভিত্তিতে বিশ্ব ব্যাংক সম্মত হলে তাদের অর্থেই সেতুর মূল অবকাঠামো নির্মাণ শুরু করতে চায় সরকার।”
পদ্মা সেতু নির্মাণে চুক্তি করলেও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে গত বছর অর্থায়ন স্থগিত করলে বহু প্রতীক্ষিত এই প্রকল্প আটকে যায়। ২৯০ কোটি ডলারের এই প্রকল্পে ১২০ কোটি ডলার দেওয়ার কথা ছিল সংস্থাটির।
বিশ্ব ব্যাংকের সঙ্গে কোনো বৈরিতা নেই জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, এখনো বিশ্ব ব্যাংকসহ অন্য দাতা সংস্থাগুলোর প্রতিশ্রুত অর্থ দিয়ে পদ্মা সেতু নির্মাণই সরকারের অগ্রাধিকার।
“আমরা চাই, বিশ্ব ব্যাংকের চুক্তিতেই পদ্মা সেতু করতে। কারণ এটি হচ্ছে এপেক্স প্রতিষ্ঠান। তাদের সঙ্গে সমস্যা থাকলেও অন্য ক্ষেত্রে এর প্রভাব পড়ে।”
যোগাযোগমন্ত্রীর আগে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতও বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের পক্ষে তৎপরতা দেখিয়েছেন।
বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়ন স্থগিতের পর পদ্মা সেতুর অর্থায়নে মালয়শিয়া প্রস্তাব দিলে তা ধরে ইতোমধ্যে এগিয়েছে সরকার। সমঝোতা স্মারকের পর দেশটি ইতোমধ্যে বিনিয়োগ প্রস্তাব দিয়েছে।
বিশ্ব ব্যাংকের বিকল্প পরিকল্পনার কথা জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, “বিকল্প প্রস্তাবও সরকারের হাতে রয়েছে। বিকল্প অর্থায়নের প্রস্তাব ইতিবাচক না হলে সরকার নিজস্ব অর্থেই এ সেতু নির্মাণ শুরু করবে।”
তিনি বলেন, আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে পদ্মা সেতুর মূল অবকাঠামোর নির্মাণ শুরু করতে চায় সরকার। চারটি পুনর্বাসন এলাকা ৯০ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এছাড়া কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডের নির্মাণকাজও শেষ পর্যায়ে।
মাওয়া যাওয়ার আগে যোগাযোগমন্ত্রী ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থানগুলো পরিদর্শন ও সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সচেতনতা তৈরির কর্মসূচিতে অংশ নেন।
নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন ও গণসচেতনতা তৈরিতে কাজ করে ইলিয়াস কাঞ্চন মন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন। এছাড়াও ছিলেন সাংবাদিক এ বি এম মূসা, কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ, সংসদ সদস্য তারানা হালিম, সুকুমার রঞ্জন ঘোষ প্রমুখ।
ট্রাফিক আইন মেনে চলা, অবৈধভাবে অতিক্রম (ওভারটেকিং) না করা, যত্রতত্র পার্কিং বন্ধ, ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার না হওয়াসহ অন্য বিষয়ে জনসাধারণের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তারা।
ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, “সড়ক নিরাপদ করতে ১৯ বছর ধরে আন্দোলন করছি। এবারই প্রথম কোনো মন্ত্রী এই আন্দোলনে আমাদের সঙ্গে রাস্তায় নেমেছেন। তাই দীর্ঘ সময়েও যে সমস্যা সমাধান করা যায়নি, তা শিগগিরই সমাধান হবে বলে আশা করছি।”
মন্ত্রী দ্বিতীয় বুড়িগঙ্গা সেতু, ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের প্রথম ও দ্বিতীয় ধলেশ্বরী সেতু, নিমতলী, লৌহজং ও শ্রীনগরের বিভিন্ন স্থানে বিআরটিএ’র ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।
নকল লাইসেন্স ও লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালনা, ফিটনেস বিহীন ও অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে গাড়ি চালানোসহ বিভিন্ন অপরাধে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত জরিমানাসহ আইনগত ব্যবস্থা নেয়।
বিডিপ্রেস ডটনেট/এমএন/এএমইউ_২১০৩ ঘ.
Add Your Comment
- কানাডার উদ্দেশে দুদক তদন্ত দল ঢাকা ছেড়েছে
- বিরামপুরের কাটলা সীমান্ত থেকে এক বাংলাদেশিকে ধরে নিয়ে গেছে বিএসএফ
- ফাঁসি তো দিবেনই একটি প্রশ্ন করার সুযোগ দেন: সালাউদ্দিন কাদের
- সুখরঞ্জন বালীর সন্ধানে খারিজ রিটের শুনানির আবেদন গ্রহণ
- সামাজিক মাধ্যম তদারকি করবে সরকার
- স্বর্ণের দাম ফের কমলো
- ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন আগামী রমজানের আগেই
- হেফাজত-পুলিশ সংঘর্ষ: তৈমুর আলমসহ ১০ বিএনপি নেতার জামিন
- চট্টগ্রামে মিদাত হত্যা: সৌরভের ফাঁসির আদেশ
- জিয়াউদ্দিনের আদালত অবমাননার অভিযোগ নিষ্পত্তি



