স্টাফ রিপোর্টার: (ঢাকা, ১০ জুলাই)- মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আটক জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী আব্দুল কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের দ্বিতীয় সাক্ষী সৈয়দ শহিদুল হক মামা তার সাক্ষ্য দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল-২ এ।
মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে দ্বিতীয় সাক্ষী মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে মামা বাহিনীর প্রধান কমান্ডার শহিদুল হক মামা তার জবানবন্দি দেন।
মামা তার জবানবন্দিতে বলেন, ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ মিরপুরে কবি মেহেরুন্নেছা, তার দুই ভাই ও মাকে টুকরা টুকরা করে হত্যা করেছে কাদের মোল্লা, হাশেম হাশমী, আব্বাস চেয়ারম্যান, আক্তার গুন্ডা, হাক্কা গুন্ডা ও নেহারসহ আরো অনেকে। সকাল ১১টার দিকে এ ঘটনা আমি শুনতে পাই।
আরকটি ঘটনা হলো- ২৯ মার্চ ঢাকার ঠাটারী বাজার (কাপ্তান বাজার) থেকে পল্লব ওরফে টুনটুনিকে ধরে নিয়ে মিরপুর ১২ নাম্বার মুসলিম বাজার নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর প্রথম তার আঙ্গুল কাটা হয়। পরে তাকে গাছের সাথে ঝুলিয়ে নির্মম ভাবে ৫ এপ্রিল হত্যা করা হয়। এ হত্যার সাথে কাদের মোল্লা, আক্তার গুন্ডাসহ আগে যাদের নাম বলেছি তারা ছিল।
এছাড়াও সাক্ষী মামা মুক্তিযুদ্ধের সময়কার বিভিন্ন ঘটনার কথা জানান।
তিনি বলেন, একাত্তর সালে আমার বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা মামলা হয়। সে মামলায় যারা আমার পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দিয়েছিলেন ২৫ মার্চ ভয়াল রাতে তাদেরকে নির্মমভাবে টুকরো টুকরো করে হত্যা করে কাদের মোল্লা, আফসার, নেহার, হাশমী, আব্বাস চেয়ারম্যানসহ বিহারী ও জামাতিরা, যারা একই মায়ের সন্তান।
সাক্ষী বলেন, ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর প্রিয় এড. জহির উদ্দিনকে জাতীয় পরিষদের প্রার্থী করা হয়। এ প্রার্থীর স্বপক্ষে নৌকা প্রতীক নিয়ে আমরা ভোট চেয়েছি। ঐ নির্বাচনে অপজিশন প্রার্থী হিসেবে কুখ্যাত গোলাম আযম দাঁড়ি পাল্লা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেছে। আঞ্জুমান মহাজেরীর পক্ষে এড. দেওয়ান বারাসাত হাতী মার্কা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে।এক পর্যায়ে দেওয়ান সাহেব গোলাম আযমের পক্ষে তার প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে।
এ সময় কাদের মোল্লাসহ জামায়াতি ও বিহারীরা আনন্দে আত্মহারা হয়ে, গালি গালি মে শোর হে শেখ মুজিব পাকিস্তানকা দুশমন হে গাদ্দার হে’ স্লোগান দিতে থাকে।
এরপর সাক্ষী শহিদুল হক মামা বলেন, ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানী বাহিনী আত্মসমর্পণ করলেও ৩১ জানুয়ারী মিরপুর শত্রু মুক্ত হয়নি। ১৭ ডিসেম্বর আমি রায়ের বাজার বদ্ধভূমিতে যাই সেখানে বুদ্ধিজীবীর অনেক লাশ এবং এক বস্তা চোখ উদ্ধার করি। পরে তা পাশে কবর দিয়ে দেই।
এছাড়াও সাক্ষী ভারতে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি এবং দেশে এসে যুদ্ধকালীন বিষয়ে কথা বলেন।
গত ২৮ মে কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে ৬টি অভিযোগ গঠন করে ট্রাইব্যুনাল-২।
একটি মামলায় তাকে ২০১০ সালের ১৩ জুলাই সুপ্রিমকোর্ট এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে ট্রাইব্যুনালে তদন্তকারী সংস্থার এক আবেদনের প্রেক্ষিতে ওই বছরের ২ আগষ্ট কাদের মোল্লাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় আটক রাখার আদেশ দেয়া হয়।
বিডিপ্রেস ডটনেট/এমএন/এএমইউ_১৬৩০ ঘ.
Add Your Comment
- রাতে হস্তান্তর হচ্ছে ‘বিএনএস সমুদ্র জয়’
- হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলো বিজিএমইএ
- আশুলিয়ায় শ্রমিক বিক্ষোভের মুখে ২৫ গার্মেন্ট বন্ধ ঘোষণা
- বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার ৩০, গুম ১০: অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
- সাভারে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সংখ্যা বেড়েই চলেছে
- বৃষ্টিতে নাকাল নগরজীবন: উপকূলে ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেত
- আজ বুদ্ধ পূর্ণিমা
- জামালপুর প্রেসক্লাবে সন্ত্রাসী হামলা, যুবলীগ নেতা গ্রেফতার
- রানার যাবজ্জীবন দণ্ডের সুপারিশ তদন্ত কমিটির
- ইসির অসদাচারণ, আন্দোলনে যাচ্ছেন ক্ষুব্ধ সাংবাদিকরা



