bdpress.net: World & Bangladeshi News in bangla
সর্বশেষ সংবাদ :
শনিবার, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২০; ১৮ মে ২০১৩;
 
গোলাম আযমের বিরুদ্ধে এসপি মাহবুবের জেরা সম্পন্ন
গোলাম আযমের বিরুদ্ধে এসপি মাহবুবের জেরা সম্পন্ন

স্টাফ রিপোর্টার: (ঢাকা, ৩১ জুলাই)- মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযোগের মামলায় আটক জামায়াতের সাবেক আমীর গোলাম আযমের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের দ্বিতীয় সাক্ষী এসপি মাহবুব উদ্দিনের জেরা সম্পন্ন করেছেন আসামীপক্ষের আইনজীবীরা।

জেরা শেষে আগামী ৬ আগস্ট প্রসিকিউশনের তৃতীয় সাক্ষী হাজিরের দিন ধার্য করে দেন ট্রাইব্যুনাল।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এসপি মাহবুব উদ্দিনের জেরা শেষে পরবর্তী সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করে দেন।

গোলাম আযমের মামলার দ্বিতীয় সাক্ষী মাহবুবউদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম (৬৭) গত ১৫ জুলাই তার জবানবন্দি পেশ করেন।

মঙ্গলবার তাকে জেরা করেন আসামীপক্ষের আইনজীবী এডভোকেট মিজানুল ইসলাম ও মনজুর আহমেদ আনসারী।

মাহবুবউদ্দিন জেরাকালে আসামীপক্ষের আইনজীবী প্রশ্ন করেন, দালাল আইনে পর্যালোচনার জন্য যে কমিটি ছিল সে কমিটিতে সংশ্লিষ্ট থানার ওসি ও এসপির একজন প্রতিনিধি থাকতো।

উত্তরে সাক্ষী বলেন, থাকতো কিনা আমার মনে নেই।

পরের প্রশ্নে আইনজীবী সাক্ষীকে বলেন, আটকে পড়া পাকিস্তানী সৈন্যদের বিষয়ে পাকিস্তান, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে একটা ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

সাক্ষী বলেন, হয়েছিল।

আইনজীবী: ওই চুক্তি অনুযায়ী আটকে পড়া পাকিস্তানী সেনাদের মধ্যে যারা যুদ্ধাপরাধী ছিল তাদেরকে বিনা বিচারে পাকিস্তান পাঠানো হয়েছিল।

সাক্ষী: আমার সঠিক জানা নাই।

আইনজীবী: রাজাকার বাহিনী সরকারী এবং নির্দিষ্ট পোশাকে ছিল।

সাক্ষী: ছিল কিনা জানিনা তবে দু’একজনকে ধরে আনলে তাদেরকে পোশাক পড়া দেখতাম।

আইনজীবী: আল-বদর, আল শামস কোন বিধিবদ্ধ সংগঠন ছিল না?

সাক্ষী: ছিল কিনা জানি না তবে তাদের বেশির ভাগ সদস্যরা ছিল ইসলামী ছাত্র সংঘের।

আইনজীবী: আপনি যে অঞ্চলে দায়িত্ব পালন করেছেন সে অঞ্চলের আল-বদর, আল শামস ও রাজাকারদের প্রধানদের নাম কি ছিল জানেন?

সাক্ষী: আমার স্মরণ নেই।

আইনজীবী: ওই এলাকায় কতজন আল-বদর, শামস ও রাজাকারকে চিনতেন?

সাক্ষী: একজনকেও চিনতাম না।

আইনজীবী: ড.এমএ হাসান সম্পাদিত স্বাধীনতার দলিল পত্র বই সম্পর্কে আপনার ধারণা আছে?

সাক্ষী: বইয়ের সবগুলো খন্ড আমার কাছে আছে।

আইনজীবী: এ বই সম্পাদনের সময় ড. হাসান বিভিন্ন পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ছিলেন, যুদ্ধ সম্পর্কিত কোন দলিল পত্র থাকলে তা দেয়ার জন্য বিষয়টি আপনি জানতেন কিনা।

সাক্ষী: এ সম্পর্কে আমি জানি না।

আইনজীবী: চুক নগর হত্যা কান্ড সম্পর্কে কোন তথ্য আপনি তাকে দিয়েছিলেন কিনা।

সাক্ষী: না।

আইনজীবী: অন্যকোন গবেষক তার গবেষণা কালে আপনার সাথে যোগাযোগ করেছিলেন?

সাক্ষী: না।

আইনজীবী: শহীদুল হক মামা মিরপুরের অধিবাসী নাম শুনেছেন?

সাক্ষী: ইদানিং শুনেছি পত্র-পত্রিকার মাধ্যমে।

আইনজীবী: তার সাথে আপনার দেখা হয়েছে?

সাক্ষী: দেখা হয়েছে, তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা।

আইনজীবী: স্বাধীনতার পর বুদ্ধিজীবী হত্যা সম্পর্কে একজন মুসলিম লীগের নেতার বাড়ি থেকে পরিকল্পনার কাগজ পত্র উদ্ধার করা হয়েছিল।

সাক্ষী: আমি জানি না।

বঙ্গবন্ধু সরকারের আমলে গোলাম আযমের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ বা মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ উত্থাপিত হয়নি আইনজীবীর এমন এক প্রশ্নের জবাবে সাক্ষী সত্য নয় বলে উত্তর দেন।

এরপর সাক্ষীর জেরা সমাপ্ত করা হয়। জেরা শেষে ট্রাইব্যুনাল গোলাম আযমের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের পরবর্তী সাক্ষীর জন্য ৬ আগস্ট দিন ধার্য করে দেন।

গোলাম আযমের বিরুদ্ধে গত ১ জুলাই ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি পেশ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, গবেষক ও ইতিহাসবিদ মুনতাসির মামুন (৬১), এরপর দ্বিতীয় সাক্ষী এসপি মাহবুব উদ্দিন আহমদ তার জবানবন্দি দেন।

সকালে গোলাম আযমকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিজন সেল থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

মুক্তিযুদ্ধের সময় সংগঠিত মানবতাবিরোধী ৫ ধরনের অপরাধের ৬২টি অভিযোগে অভিযুক্ত করে গত ১৩মে গোলাম আযমের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে  ট্রাইব্যুনাল-১।

গত ১১ জানুয়ারি গোলাম আযম ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন জানান। এ আবেদন নাকচ করে দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়।

এর আগে ৯ জানুয়ারি তার বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের দেয়া আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল।

 

বিডিপ্রেস ডটনেট/এএফ/এএইচ_১৫৩০  ঘ.

CommentAdd Your Comment



2011 © Copyright to BDPRESS.NET.
Editor: A H M Obaidur Rahman, 33 Karwan Bazar, Dhaka-1215,
Phone: +8802 8189524,
Email: bdpress.net@gmail.com,bdmediahouse@yahoo.com
Powered by Kernel Soft Ltd.