bdpress.net: World & Bangladeshi News in bangla
সর্বশেষ সংবাদ :
শুক্রবার, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২০; ২৪ মে ২০১৩;
 
ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে ঢাকা, টার্মিনালগুলোতে উপচেপড়া ভিড়
ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে ঢাকা, টার্মিনালগুলোতে উপচেপড়া ভিড়

স্টাফ রিপোর্টার: (ঢাকা, ১৭ আগস্ট)- ঈদ এ মাসের ১৯ কিংবা ২০ আগস্ট। প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে বাড়ি ছুটছেন মানুষ। এক সপ্তাহ ধরেই মানুষ ছুঁটছে গন্তব্যের দিকে। ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে রাজধানী ঢাকা।

 

শুক্রবার সকাল থেকেই রাজধানীর সায়েদাবাদ, গুলিস্তান, মহাখালী ও গাবতলী বাস টার্মিনাল, সদরঘাট লঞ্চ টার্নিমাল, কমলাপুর ও বিমানবন্দর স্টেশনে ঈদযাত্রীদের ভিড় দেখা গেছে। ঘরমুখো মানুষের ভিড়ে টার্মিনালগুলো লোকে লোকারণ্য। গন্তব্যে ফিরতে সবাই ব্যাকুল।

শুক্রবার সরেজমিনে দেখা গেছে, সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল ও কমলাপুর রেলস্টেশন, গাবতলী বাস টার্মিনালে সকাল থেকেই ছিল যাত্রীদের ভিড়। আগাম টিকিট সংগ্রহ করতে সমর্থবানরা কিছুটা স্বাচ্ছন্দ্যে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা দিতে পারলেও বিপাকে পড়েছেন টিকিটবিহীন যাত্রীরা। বাসযাত্রীরা টিকিট কাউন্টারে ছুটছেন কোনও যাত্রীর টিকিট ফেরত দিচ্ছেন কিনা জানতে। কেউ কেউ কালোবাজারিদের কাছ থেকে টিকিট সংগ্রহ করতে পেরেছেন। বেশিরভাগ বাসের যাত্রীই টিকিট না পেয়ে হতাশ। যাচ্ছেন ভেঙে ভেঙে। আইন-কানুন উপেক্ষা করে বাস, লঞ্চ ও  ট্রেনের ছাদে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সওয়ার হচ্ছেন।

অপরদিকে দক্ষিণাঞ্চলের ঈদযাত্রীরা সকাল থেকেই সদরঘাটে ভিড় জমাতে থাকে। একেকটি লঞ্চ এলেই মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়ছে জায়গা দখলের জন্য।

প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে হুলারহাটের উদ্দেশে ছেড়ে যায় এমভি শুভরাজ-২ লঞ্চ। এ লঞ্চের ভেতর ও পুরো ছাদে ছিল ভরপুর যাত্রী। বরগুনার আমতলীগামী লঞ্চ সৈকত ৮-এরও একই অবস্থা। এছাড়া ভোলাগামী শ্রীনগর-৩, কর্ণফুলী-৪ ও এমভি ভোলা, পটুয়াখালীগামী সুন্দরবন-৫।
 
লঞ্চ টার্মিনালের ঊর্ধ্বতন উপ-পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম জানান, ভোর ছয়টা থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত  ৮০টি লঞ্চ এসেছে। এর মধ্যে ৫৫টি লঞ্চ ছেড়ে গেছে। প্রত্যেকটি লঞ্চেই অতিরিক্ত যাত্রী ছিল। শরীয়তপুর, পটুয়াখালী, ভোলা, মাদারীপুর, চাঁদপুর ও বরগুনাগামী লঞ্চগুলোতে যাত্রীর সংখ্যা ছিল অনেক বেশি।
 
এদিকে যাত্রীসেবার মান বাড়াতে বিআইডব্লিউটিএ, বিএনসিসি, গার্লস গাইড, রোভার স্কাউটের সমন্বয়ে একটি সংগঠন গঠন করা হয়েছে।

 

শুক্রবার সকালে সংগঠনের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে সদরঘাট টার্মিনালে নৌ পরিবহনমন্ত্রী শাহজাহান খান বলেন, দুই ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের সেবার মান নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় এই সংগঠনের উদ্বোধন করা হচ্ছে। সংগঠনের সদস্যরা বিভিন্ন পয়েন্টে যাত্রী সেবা নিশ্চিত করা, অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন রোধে কাজ করবে।
 
বিআইডব্লিউটিএর সচিব মাহবুবুল আলম জানান, অন্যদিনের তুলনায় লঞ্চ যাত্রীদের ভিড় বেশি। যেসব নৌযানের উপরে যাত্রী দেখা যাচ্ছে, তাদের নিচে নামিয়েই লঞ্চ ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হবে। যাতে করে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করতে না পারে এজন্য মনিটরিং টিম রয়েছে।

অতিরিক্ত যাত্রী বহন প্রসঙ্গে লঞ্চ মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থার সহ-সভাপতি সাহাবউদ্দিন মিলন বলেন, সব যাত্রী যাতে গন্তব্যে যেতে পারেন, সেজন্যই অতিরিক্ত যাত্রী বহন করা হচ্ছে। মালিকরা লঞ্চের নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করছেন। তিনি আরও বলেন, যাত্রী থাকাসাপেক্ষে যত প্রয়োজন তত লঞ্চ দেয়া হবে। এতে মালিকদের লোকসান হলেও ঈদে ঘরমুখো যাত্রীর স্বার্থে তারা তা মেনে নিয়েছেন। সরকার কতৃক নির্ধারিক ভাড়াই তারা আদায় করছেন। সরকার নির্ধারিত ভারার চেয়ে কেই বেশি নেয়ার অভিযোগ প্রমান হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সড়কপথের যানজট ও সারাদেশে সড়ক-মহাসড়কগুলোর বেহাল দশার কারণে যাত্রীদের বেশি পছন্দ ট্রেন।

কমলাপুর স্টেশনে কথা হয় রাজশাহীগামী হুমায়ুন চৌধুরীর সঙ্গে। তিনি জানান, সকাল ১০ টায় ট্রেন আসার কথা থাকলেও সাড়ে ১১ টায়ও ট্রেন আসেনি। অনেক কষ্ট করে রেলের এক কর্মকর্তাকে ধরে ৩টি টিকিট সংগ্রহ করেছেন। তার উপরে রয়েছে লোকজনের ভিড়। অসুস্থ মাকে নিয়ে অনেকক্ষণ ধরে বসে আছি।
 
একই কথা বলেন নীলফামারীর যাত্রী। তিনি বলেন, অনেক কষ্টে টিকিট সংগ্রহ করতে পারলেও এখনও ট্রেনের দেখা মিলছে না। কাউন্টারে খোঁজ নিয়েও কিছুই জানা গেলা না।

শিডিউল বিপর্যয়ের কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে তাদের। কমলাপুর স্টেশনে বসার ভালো ব্যবস্থা নেই। তাই প্ল্যাটফরমে ব্যাগ-লাগেজের উপর যাত্রীদের বসে থাকতে দেখা গেছে। আর ট্রেন এলেই হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন যাত্রীরা। দরজা ও জানালা দিয়ে উঠছেন তারা।

গাবতলী ও সায়দাবাদ ঘুরে দেখা গেছে, আগাম টিকিট সংগ্রহকারীদের সাথে পাল্লা দিয়ে অন্যরাও বাসে উঠার সুযোগ খুঁজছেন।

পরিবার নিয়ে পটুয়াখালী যাচ্ছেন মো. আলমগীর। তিনি বলেন, ১০ দিন আগে টিকিট করেছেন ৬টি, এখন দেখা যাচ্ছে ৪টি টিকিট রয়েছে। দু’টি টিকিট অন্যত্র বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। এনিয়ে সাকুরা সার্ভিসের সঙ্গে চলছে বসচা।

খুলনাগামী যাত্রী জাহান জানান, কারোবাজারি থেকে ২টি টিকিট সংগ্রহ করেছেন ১ হাজার টাকা দিয়ে। তারপরেও সন্দেহ যে একই টিকিট দ্বিতীয়বার বিক্রি হয়নি তো।'

 

বিডিপ্রেস ডটনেট/এএফ/এএইচ_১৭২৮ ঘ.

CommentAdd Your Comment



2011 © Copyright to BDPRESS.NET.
Editor: A H M Obaidur Rahman Chandan, House 60 , Road , 03 , Block B
Niketon , Dhaka , 1212
Phone: +8802 9884147
News Room : +8801195 338565
Email: bdpress.net@gmail.com