স্টাফ রিপোর্টার: (ঢাকা, ১৮ আগস্ট)- ঈদের চাঁদ দেখা নিয়ে আনন্দময় উৎকণ্ঠায় কেটে যাবে শনিবার পুরোদিন। সূর্য অস্ত যাওয়ার পর সবার দৃষ্টি থাকবে পশ্চিমাকাশে। শাওয়ালের চাঁদ দেখা গেলে রাতকে ঘিরে ধর্মপ্রাণ মানুষের উত্তেজনার কমতি থাকবে না। রাত পোহালেই যে কাল খুশির ঈদ।
আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্র জানায়, শনিবার বাংলাদেশের আকাশে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই ক্ষীণ। আগামীকাল রবিবার পূর্ণ হবে ৩০ রোজা। সে ক্ষেত্রে সোমবার সারাদেশে পালিত হবে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর।
ঈদ উদযাপনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে কয়েকদিন আগে থেকেই। রাজধানীসহ সারা দেশে যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্বীর্য ও উত্সাহ-উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে ঈদ উদ্যাপনের সকল প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং হচ্ছে।
পশ্চিমাকাশে শাওয়ালের চাঁদ দেখার পরই সরগরম হয়ে উঠবে সকল টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার এবং এফএম রেডিও থেকে ভেসে আসবে চিরচেনা সেই গান ‘ও মন রমজানের ওই রোজার শেষে এল খুশীর ঈদ’। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের অভুতপূর্ব সৃষ্টি এই গানটি সবাই একবার হলেও গুন গুন করে গেয়ে উঠবে।
ঈদ-উল-ফিতর আরবী শব্দ। বাংলায় এর অর্থ আনন্দ-উত্সব ও খুশী। রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস রমজান। ঈদের চাঁদ পশ্চিম আকাশে দেখার পর ছোট-বড়, ধনী-গরীব, নির্বিশেষে সকল মুসলমানের অন্তর আনন্দে ভরে উঠে। রাতে বাসা-বাড়িতে মহিলারা ঈদের সকালের নাস্তাসহ রান্না ও ঘর সাজানোর কাজে ব্যস্ত সময় কাটান। আবার অনেকেই ছোটেন বাজারে শেষ মুহূর্তের কেনাকাটা করতে। চাঁদ দেখার পর সবচেয়ে ভিড় হয় কাঁচা-বাজারে।
ঈদ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান, সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জুসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন। একই সাথে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনও দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছে।
রাজধানীতে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল সাড়ে ৮টায় জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে। শনিবার মাগরিবের নামাজের পর ইসলামিক ফাউন্ডেশনে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। দেশের কোথাও শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেলে দ্রুত সে খবর ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের টেলিফোন নম্বরগুলো হচ্ছে ৯৫৫৯৪৯৩, ৯৫৫৯৬৪৩, ৯৫৫৫৯৪৭, ৯৫৫৬৪০৭ এবং ৯৫৫৮৩৩৭। ফ্যাক্স নম্বর ০২-৯৫৬৩৩৯৭।
এবারই ঈদে টানা এক সপ্তাহের ছুটির ফাঁদে পড়েছে দেশ। গত ১৪ আগস্ট অফিস করেই নাড়ির টানে শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত গ্রামের বাড়ির পথে শত কষ্ট উপেক্ষা করে হাসিমুখে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছে লোকজন।
জাতীয় শোক দিবস, পবিত্র শবেকদর, শুক্র ও শনিবার দুদিন সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় এবার ঈদের ছুটি প্রকৃত অর্থে টানা সাতদিন অর্থাৎ পুরো একটি সপ্তাহ। আর এ সুযোগকে কাজে লাগাতে অনেকে গত মঙ্গলবার অফিস করেই চলে গেছেন।
ইতিমধ্যে লাখ লাখ লোক গ্রামের বাড়িতে চলে গেছে। আত্মীয়-স্বজনকে নিয়ে একত্রে ঈদ উদযাপনের জন্য শেষ মুহূর্তে রাজধানীর পার্শ্ববর্তী জেলার লোকজন আজ বাড়ির পথে পা বাড়িয়েছেন। গতকালের অধিকাংশ লোক রাজধানী ছেড়েছেন। রাজধানীর চিরচেনা ব্যস্ততা ও নিত্য যানজট চলতি সপ্তাহে দেখা যাবে না।
শনিবার থেকে আগামী সোমবার পর্যন্ত সংবাদপত্রে ছুটি থাকায় আগামীকাল রোববার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত পত্রিকা প্রকাশিত হবে না। তবে ঈদ সোমবার হলে এ ছুটি মঙ্গলবার পর্যন্ত থাকবে এবং সে ক্ষেত্রে আগামী বুধবারও পত্রিকা প্রকাশিত হবে না। সেক্ষেত্রে বুধবার সংবাদপত্র অফিস খুলবে এবং পরদিন বৃহস্পতিবার থেকে যথারীতি পত্রিকা প্রকাশিত হবে।
ঈদ-উল-ফিতরের তাত্পর্য উল্লেখ করে সংবাদপত্র বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করেছে। তাছাড়া বই আকারে ঈদে বিশেষ সংখ্যা বের করেছে। প্রতিটি টিভি চ্যানেল ও বাংলাদেশ বেতারসহ এফএম ব্যান্ডের প্রতিটি চ্যানেল সপ্তাহজুড়ে ঈদের বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করবে। রাজধানীর প্রধান প্রধান সড়ক এবং সড়কদ্বীপ জাতীয় পতাকা ও ঈদ মোবারক খচিত পতাকায় সজ্জিত করা হচ্ছে।
ঈদের দিন সরকারি হাসপাতাল, এতিমখানা, কারাগার ও ভবঘুরে আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ খাবার পরিবেশন করা হবে। শাহবাগে শিশুপার্ক ঈদের দিন সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
বিডিপ্রেস ডটনেট/এসআর/এ এসআর_১২৪৩ ঘ.
Add Your Comment
- আসিফ নজরুলকে প্রাণনাশের হুমকি
- ১১ জুন কেন্দ্রীয় পরীক্ষা নিয়ে উদ্বিগ্ন কওমি মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতি
- চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও মংলা সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেত
- জুন মাসে খুলছে যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভারের একাংশ
- এখনও নীরবে-নিভৃতে ফেলছেন চোখের জল
- ঠাকুরগাঁওয়ে সীমান্তবর্তী গ্রামবাসীর মনে বিএসএফ আতঙ্ক
- রাতভর বৃষ্টি হওয়ায় ফের রাজধানীতে জলাবদ্ধতা
- ৩৪তম প্রিলিমিনারি আজ, প্রশ্ন ফাঁসের গুজব
- রাতে হস্তান্তর হচ্ছে ‘বিএনএস সমুদ্র জয়’
- হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলো বিজিএমইএ



