স্টাফ রিপোর্টার: (ঢাকা, ১৪ মে)- ১০ জুনের মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুর্নবহালে ফের দাবি জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অন্যথায় সারা দেশে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে আর সেই আন্দোলনের মাধ্যমে বর্তমান সরকারকে ক্ষমতা থেকে নামানো হবে বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।
তিনি সরকারকে উদ্দেশ করে বলেন, বাংলাদেশের মানুষ জানে কিভাবে দাবি আদায় করতে হয় সুতরাং খালেদা জিয়ার দেওয়া আলটিমেটামের মধ্যেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহাল করুন।
সোমবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এম. ইলিয়াস আলীকে ফেরত, ১৮ দলীয় র্শীষ নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং রিজভী আহমেদ সহ সকল রাজবন্ধীদের নি:শর্ত মুক্তির দাবীতে পূর্ব ঘোষিত গণমিছিলের পরিবর্তে বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, সরকার আল্লাহর উপর আস্থা উঠিয়ে দিয়েছে, বিরোধী দলের উপর হামলা-মামলা করছে, বিরোধী দলের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা দিচ্ছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করে দিয়েছে, হয়রানির উদ্দেশ্যে ১৮ দলের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়েছে, রিজভী আহমেদর মত নেতাকে তারা গ্রেপ্তার করেছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার ভাবছে এই সব করলে বিএনপি ভয় পাবে, তারা এই সুযোগে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিবে। কিন্ত বাংলাদেশের জনগণ তা কোন দিনও মেনে নিবে না। বাংলাদেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া কোন নির্বাচন হবে না, হতে দেওয়াও হবে না।
তিনি আরো বলেন, দেশকে অন্ধকার রাজনীতির দিকে ঠেলে দেওয়ার জন্যই এই সরকার গুম হত্যা নির্যাতনের পথ বেছে নিয়েছে। তারা রাজনৈতিক ভাবে দেউলিয়া হয়ে গেছে তাদের পায়ের নিচে কোন মাটি নাই। এই সরকার জনগণের একটা সমস্যারও সমাধান করতে পারেনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পিতা ৭৫ সালে ৪০ হাজার মানুষকে বিচার বহির্ভূত ভাবে হত্যা করেছে । আর বর্তমান সরকার সেই একই পথে হাটছে। তাদের এই তিন বছরে ২৭ জন মানুষ গুম হয়েছে। ইলিয়াসের ছোট শিশু এখনো অপেক্ষা করছে, তার বাবা কখন ফিরে আসবে কিন্তু সরকার তাকে এখনো তার কোনো সন্ধান দিতে পারছে না।
তিনি বলেন, বঙ্গপোসাগরে যে সব ব্লকে তেল, গ্যাস পাওয়া যায়, বর্তমান সরকার যেই সব ব্লক মিয়ানমারকে দিয়েছে। তারা বাংলাদেশকে একটি করদ রাস্ট্রে পরিণত করতে চায়।
প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে ফখরুল বলেন, দয়া করে গণতান্ত্রিক কর্মসূচির পথ বন্ধ করবেন না। এর পরিণতি শুভ হবে না। নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের দাবি মেনে নিন। ইলিয়াসকে ফেরত দিন, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করুণ এবং রাজবন্দীদের মুক্তি দিন।
এদিকে, সোমবারে গণমিছিল থেকে আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষনা করার কথা থাকলেও তা পরে জানিয়ে দেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
উল্লেখ্য, বিএনপির ‘নিখোঁজ’ সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস আলীকে ফেরত, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ১৮ দলীয় জোট নেতাদের নামে দেওয়া মামলা প্রত্যাহার, রিজভী-রতনের মুক্তি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবিতে গত বৃহস্পতিবার রাজধানীতে গণমিছিল কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
কিন্তু নির্ধারিত দিনে গণমিছিলের অনুমতি না দেওয়ার বিষয়টি ১৮ দলকে জানিয়ে দেয় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। এর বদলে ১৮ দলকে নয়াপল্টনে বিক্ষোভ সমাবেশ করার অনুমতি দেওয়া হয়।
বিএনপির ঢাকা মহানগরের আহ্বায়ক সাদেক হোসেন খোকার সভাপতিত্বে বিক্ষোভ সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, নজরুল ইসলাম খান , ড. মইন খান, মির্জা আব্বাস, রফিকুল ইসলাম মিয়া, দলের যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান, বরকত উল্লাহ বুলু, প্রচার সম্পাদক জয়নল আবদীন ফারুক, যুবদল সভাপতি মোহাজ্জেম হোসেন আলাল, ছাত্রদল সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু প্রমুখ।
১৮ দলের নেতাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জামায়াত নেতা অধ্যাপক মজিবুর রহমান, হামিদুর রহমান আযাদ এমপি, এটিএম মাসুম, জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব আবদুল লতিফ নেজামী, বিজেপি মহাসচিব শামিম আল মামুন, এনডিপি চেয়ারম্যান গোলাম মর্তুজা, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান প্রমুখ।
বিডিপ্রেস ডটনেট/এমএন/এএমইউ_২১২৮ ঘ.
Add Your Comment
- ময়মনসিংহে জাগরণী সমাবেশ স্থগিত
- হে’ ইসলামের তিন কেন্দ্রীয় নেতা গ্রেফতার
- ‘সাধারণ’ সভা-সমাবেশের ব্যাপারে আপত্তি নেই
- জামিনে মুক্ত হলেন বগুড়া জেলা যুবদল সভাপতি
- দু'দলকে সংলাপে বসার আহ্বান বিদেশী কূটনৈতিকদের
- মুন্সীগঞ্জে টেন্ডার নিয়ে ছাত্রলীগ কর্মীদের পল্লী বিদ্যুত অফিসে হামলা-ভাংচুর
- সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করে গণতন্ত্রের পথ রুদ্ধ করেছে সরকার: ব্যারিস্টার রফিকুল
- বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ হাসপাতালে ভর্তি
- ডিটিসিএ এখন কাগজে কলমে: ওবায়দুল কাদের
- সংসদীয় গণতন্ত্র রক্ষায় সংসদে সংলাপ প্রয়োজন: স্পিকার



