স্টাফ রিপোর্টার: (ঢাকা, ১৬ মে)- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, নেতাদের জেলে পাঠিয়ে আন্দোলন থামানো যাবে না। আরো মামলার জন্য প্রস্তুত রয়েছে বিএনপি।
বুধবার বিকেলে কারাগারে বন্দী বিএনপি ও ১৮ দলীয় জোটের র্শীর্ষ নেতাদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। সংবাদ সম্মেলন থেকে বৃহস্পতিবার সারা দেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডাকা হয়।
হরতালে গাড়িতে অগ্নিসংযোগের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের ৩৩ নেতা বুধবার দুপুরে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পন করে জামিন আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠায়।
নজরুল বলেন, দলের নেতাদের জেলে পাঠিয়ে আন্দোলন থামানো যাবে না। অতীতেও দেখা গেছে নেতাদের গ্রেপ্তার করার পর আন্দোলন আরো দুর্বার হয়ে উঠেছে। বর্তমান ফ্যাসিস্ট সরকারের আগ্রাসনের শিকার হয়ে বিএনপি শীর্ষ নেতারা এখন কারাগারে, আমরাও কারাগারে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত আছি।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ শীর্ষ নেতারা বন্দী হওয়ায় বিএনপির হরতাল পালনের শক্তি কমে গেছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে নজরুল ইসলাম খান বলেন, বিএনপির নেতা-কর্মীর অভাব নাই, দলের প্রয়োজনে কর্মীরাই নেতা হয়ে যায়। আর বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপি অনেক বড় একটা দল। সুতরাং হরতাল পালনের সামর্থ্য আমাদের আছে, ভয় পাওয়ার কিছু নেই।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দায়ের করা মামলায় আমাদের নেতারা জামিনের জন্য আদালতে গিয়েছিলেন। তাদের জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে, এটা হাস্যকর। এই ঘটনায় আমরা হতবাক হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, মিথ্যা মামলায় কারাগারে আটক নেতাদের মুক্তি, আদালত চত্বরে পুলিশ কর্তৃক সাংবাদিকদের উপর নির্যাতন ও আইনজীবীদের ওপর পুলিশের হামলা ও ইলিয়াস আলীকে ফিরে পাওয়ার দাবিতে আমরা বাধ্য হয়ে এই হরতাল ডাক দিয়েছি। হরতাল দেওয়ার কোন ইচ্ছা আমাদের ছিলনা কিন্তু সরকার আমাদের কে বাধ্য করেছে হরতাল দিতে।
সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে নজরুল ইসলাম বলেন, আমরা আদালতের বিরুদ্ধে হরতাল দেয়নি, আমরা হরতাল দিয়েছি যারা শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা দিয়েছে, তার প্রতিবাদে।
মঙ্গলবার ও বুধবার বিনা উস্কানিতে পুলিশ প্রায় শতাধিক বিএনপি ও ১৮ দলের শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তার করেছে বলেও অভিযোগ করেন বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা।
এদিকে, সংবাদ সম্মেলন চলাকালে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেচ্ছাসেবক দলের নেতা সোহাগ ও কয়েকজ কর্মী উপস্থিতি বেশ কয়েকজন সিনিয়র সাংবাদিকদের সাথে বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। পরে নজরুল ইসলাম খান ও সিনিয়র নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
এ ঘটনায় সাংবাদিকরা সংবাদ সম্মেলন বর্জন শুরু করলে নজরুল ইসলাম খান ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং দোষীদের শাস্তির মুখোমুখি করা হবে বলেও জানান।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিতি ছিলেন- দলের স্থায়ী কমিটির অপর সদস্য ড. মঈন খান, ভাইস-চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শাহজাহান ওমর, হারুনুর রশিদ, আহমেদ আযম খান, যুগ্ম-মাহসচিব মাহবুব উদ্দিন খোকন, বরকত উল্লাহ বুলু, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আ ন ম এহসানুল হক মিলন প্রমুখ।
বিডিপ্রেস ডটনেট/এসআর/এ এসআর_২০২৪ ঘ.
Add Your Comment
- রাজধানীতে চলতি মাসে সমাবেশের অনুমতি পাবে না বিরোধী জোট
- রবিবার সাতক্ষীরায় আধা বেলা হরতাল জামায়াতের
- সোমবার রংপুরে হরতাল ডেকেছে যুবদল
- জাতি দুই নেত্রীর সংলাপ চায়: রফিক-উল হক
- মওদুদের বক্তব্য একান্তই নিজের
- জামিনে মুক্তির পর ফের বিএনপির ৫৩ নেতা গ্রেপ্তার
- রাতে জরুরী বৈঠক ডেকেছেন খালেদা জিয়া
- ঘূর্ণিঝড় মহাসেন: খালেদা জিয়ার শোক ও আহ্বান
- মৎস্যজীবী দলে অসন্তোষ: অভিযোগের তীর সভাপতির দিকে
- জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের জন্য নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিন: বিএনপি



