স্টাফ রিপোর্টার: (ঢাকা, ২০ মে)- বিএনপির চেয়ারপারসন ও বিরোধী দলের নেত্রী খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবার দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। দুর্নীতির সব প্রমাণ আমাদের হাতে আছে। সময়মতো প্রমাণ দেওয়া হবে। দেশে না হলেও আন্তর্জাতিকভাবে এসব দুর্নীতির বিচার হবে।’ তিনি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, ‘আপনি যে দুর্নীতি করেননি, এটা প্রমাণ করতে পারবেন না।’
আজ রোববার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে ঢাকা মহানগর নাট্যমঞ্চে বক্তব্য দেওয়ার সময় খালেদা জিয়া এসব কথা বলেন। বক্তব্য শেষে বিএনপির নিখোঁজ নেতা ইলিয়াস আলীর মেয়ে পানি খাইয়ে তাঁর অনশন ভাঙান।
বিরোধী দলের নেতা বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিষয়ে আমরা আলোচনা করতে চাই। কিন্তু সরকারকে সুস্পষ্টভাবে বলতে হবে, তারা নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনছে। ওই সরকারের প্রধান কে হবে বা এর রূপরেখা কী হবে, তা নিয়ে বিএনপি আলোচনা করতে প্রস্তুত বলে জানান খালেদা। তিনি বলেন, এজেন্ডা ছাড়া আলোচনার মূল্য নেই।
খালেদা জিয়া সরকারকে সতর্ক করে বলেন, আলোচনা না করলে আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত থাকেন।
বক্তব্য দেওয়ার সময় বিরোধী দলের নেত্রী আরও বলেন, সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনির কাছে সরকারের দুর্নীতির অনেক গোপন তথ্য ছিল। সরকার এটি জানতে পেরেই তাদের হত্যা করেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই খুনিরা গ্রেপ্তার হবে। খালেদা জিয়া প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘তিন মাস হলো খুনিরা ধরা পড়ল না কেন? কারণ খুনিরা দেশে নাই। সরকার তাদের বিদেশে পাচার করে দিয়েছে।’
খালেদা জিয়া আরও বলেন, এই সরকারের সব মন্ত্রণালয় চরমভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত। এখন আর ব্রিফকেসে টাকা ধরে না। মন্ত্রণালয়গুলো থেকে বস্তা বস্তা টাকা নিয়ে তারা বিদেশে পাঠাচ্ছে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের বক্তব্যেই প্রমাণ হয়, সরকার কতটা দুর্নীতিগ্রস্ত।
খালেদা জিয়া পত্রিকায় ছাপা হওয়া গফরগাঁওয়ে সরকারদলীয় সাংসদ গিয়াস উদ্দিন আহম্মেদের ছবি দেখিয়ে বলেন, ‘দেখেন, তারা কীভাবে জনগণকে গুলি করছে। দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে তারা এলএমজি নিয়ে বেরিয়ে পড়বে। কাউকে ভোটকেন্দ্রে যেতে দেবে না। নিজেরাই সব সিলে ভোট দেবে।’
এর আগে বিশিষ্ট আইনজীবী রফিক-উল হক গণ-অনশনে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন। গণ-অনশনে সংহতি জানিয়েছেন বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন ও রাজনৈতিক নেতারা।
আজ সকাল ১০টা থেকে ১৮ দলীয় জোটের কারাবন্দী শীর্ষস্থানীয় ৩৩ নেতার মুক্তি, তাঁদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলীকে গুম করার প্রতিবাদ এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি পুনর্বহালের দাবিতে এই গণ-অনশন কর্মসূচি শুরু হয়। পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে বিএনপির গণ-অনশন কর্মসূচি শুরু হয়। কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন। বেলা পৌনে ১২টার দিকে বিএনপির চেয়ারপারসন ও বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া অনশনস্থলে পৌঁছেন।
১৪ মে রাতে জোটের বৈঠকে এই গণ-অনশন কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত হয়। একই কর্মসূচি ঢাকার বাইরে প্রতিটি জেলা সদর ও মহানগরেও পালন করে বিএনপির নেতৃত্বাধীন এই জোট।
গণ-অনশন ছাড়া আরও দুই দিনের কর্মসূচি রয়েছে ১৮ দলীয় জোটের। তা হলো ২৩ মে কৃষি উপকরণের মূল্যবৃদ্ধি ও কৃষকের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার প্রতিবাদে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে স্মারকলিপি পেশ এবং সরকারের ব্যর্থতার প্রতিবাদে ২৭ মে ঢাকাসহ সারা দেশে বিক্ষোভ সমাবেশ।
বিডিপ্রেস ডটনেট/এমএন/এএমইউ_১৮৩৪ ঘ.
Add Your Comment
- বিএনপির স্থায়ী কমিটির মুলতবি বৈঠক বুধবার
- জোনায়েদ বাবুনগরীর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান
- সরকারের নিষেধাজ্ঞা মানবে না বিএনপি
- দেশে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন লুণ্ঠিত: তারেক রহমান
- সভা-সমাবেশ বন্ধ করে সরকার সংবিধান লঙ্ঘন করেছে: ড. মোশাররফ
- নিউমার্কেট মোড়ে শিবিরের ঝটিকা মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ
- প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরেছেন
- বিএনপি অফিসে জাসাসের দোয়া-মাহফিলও ভণ্ডুল করেছে পুলিশ
- বিএনপির ১৪৮ নেতাকর্মীর মামলার চার্জ শুনানি ৬ জুন
- নড়াইলে সন্ত্রাসীদের হাতে যুবদল নেতা খুন



