জেলা সংবাদদাতা: (গোপালগঞ্জ, ২১ আগস্ট)- গোপালগঞ্জে অপহরণের ৪৫ দিন পর এক প্রবাসীর স্কুল পড়ুয়া ছেলের লাশ পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার মাহফুজুর রহমান (৮) নামের ওই শিশুর লাশ তাদের বাড়ির পাশের বাগানে পাওয়া যায়।
মাহফুজ গোপালঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার বরাশুর গ্রামের ইতালি প্রবাসী রেজাউল মোল্লার ছেলে। সে কাশিয়ানী রেলওয়ে একতা কিন্ডার গার্টেনের শিক্ষার্থী।
অপহরণের পর ওই শিশুকে উদ্ধারে পুলিশের তৎপরতা যথেষ্ট ছিল না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
লাশ উদ্ধারের পর পুলিশ মঙ্গলবার সকালে পাঁচজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। তবে অপহরণের পর সন্দেহভাজন শামীম শেখকে আটকের পরও ছেড়ে দেওয়ায় এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
মাহফুজের আত্মীয়রা জানায়, গত ৫ জুলাই শবেবরাতের রাতে তাকে অপহরণ করা হয়। পরে তার মুক্তির বিনিময়ে ৭০ লাখ টাকা টাকা চেয়ে তার মা স্বপ্না বেগমের কাছে টেলিফোন করা হয়।
মাহফুজ অপহরণের পর তার সহপাঠীসহ কাশিয়ানীর সাধারণ মানুষ মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছিল।
লাশ উদ্ধারের পর বিক্ষুব্ধরা থানায় হামলা চালাতে পারে এমন আশঙ্কায় কাশিয়ানী থানার মূল ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে গোপালগঞ্জ থেকে ছুটে যান পুলিশের পদস্থ কর্মকর্তারা।
মাহফুজের চাচা জাফর মোল্লা বলেন, মাহফুজের পরিবারের সাথে পাশের মুকন্দপুর গ্রামের শামীম শেখের জমি নিয়ে বিরোধ ছিল।
তার অভিযোগ, ওই বিরোধ এবং এরপরের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে শামীম ও বিল্লাল শেখ এই অপহরণ ও হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।
তিনি বলেন, জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। এছাড়া বিল্লালের এক শ্যালিকা বিয়ের তথ্য গোপন করে পুলিশে চাকরি পেলেও বিষয়টি প্রকাশ পেলে তার চাকরি চলে যায়। তাদের সন্দেহ ছিল, আমরা খবরটি প্রকাশ করেছি।
কাশিয়ানী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নিজামউদ্দিন জানান, গত ৫ জুলাই শবেবরাতের রাতে মাহফুজ নামাজ পড়তে মসজিদে রওনা হয়। এরপর থেকে সে নিখোঁজ।
মাহফুজের পরিবার পুলিশের কাছে অভিযোগ করে, শামীম ও বিল্লালের পরিকল্পনায় হোসেন, সাদ্দামসহ কয়েকজন শিশুটিকে অপহরণ করে।
অপহরণের রাতেই স্বপ্না বেগমের কাছে টেলিফোন করে প্রথমে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ চায়। এরপর দফায় দফায় তা ৭০ লাখ টাকা পর্যন্ত ওঠে বলে জানান মাহফুজের চাচা জাফর।
তিনি বলেন, অপহরণের পরদিন এসআই ফুল মিয়া অপহরণের মূল নায়ক শামীম শেখকে আটক করলেও রহস্যজনক কারণে ছেড়ে দেয় এবং অন্যান্য আসামিদের পালিয়ে যেতে সহায়তা করে।
তবে অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে কাশিয়ানী থানার ওসি সৈয়দ মান্নান আলী বলেন, মাহফুজ অপহরণের পর আমরা অভিযুক্ত বেল্লাল, হোসেন, সাদ্দামসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করি। তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেয়।
তবে ওসি স্বীকার করেন, আটকদের দেয়া তথ্য মতে অভিযান চালিয়েও মাহফুজকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
বিডিপ্রেস ডটনেট/এসআর/এ এসআর_২১২৭ ঘ.
Add Your Comment
- স্ত্রীকে জবাই করলো এক পাষণ্ড স্বামী
- নয়াদিল্লিতে ১৭ বছরের এক তরুণীকে গণধর্ষণ
- ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে শিক্ষক গ্রেপ্তার
- এভারেস্ট চূড়ায় প্রথম পাকিস্থানি ও ভারতীয় নারী
- শিশুর কান্না শুনে মায়েরা কেন আগে দৌঁড়ান ?
- মা-বাবা ছাড়া বেড়ে ওঠা শিশু মধ্যে হতাশা প্রকট
- প্রমোদতরীর প্রথম নারী ক্যাপ্টেন সারাহ ব্রেটন
- জনশক্তি রপ্তানী বিদেশে প্রশিক্ষিত নারীর চাহিদা বেশি
- এবার ভারতে ৮০ বছরের বৃদ্ধাকেও ধর্ষণ!
- উখিয়ায় প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণ: গ্রেপ্তার ১



