bdpress.net: World & Bangladeshi News in bangla
সর্বশেষ সংবাদ :
রবিবার, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২০; ১৯ মে ২০১৩;
 
বিএডিসি’র বীজ কিনে সর্বস্বান্ত নীলফামারীর কৃষকরা
বিএডিসি’র বীজ কিনে সর্বস্বান্ত নীলফামারীর কৃষকরা

জেলা সংবাদদাতা: (নীলফামারী, ১৮ মে)- বাংলাদেশ এগ্রিকালচারাল ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন-বিএডিসি’র ধান বীজ কিনে এবার সর্বস্বান্ত হয়েছে নীলফামারীর কৃষকরা। সদ্য শেষ হওয়া ইরি চাষে ধানের বদলে চিটা হওয়ায় পথে বসার উপক্রম ওই এলাকার কৃষকদের।


কিন্তু বরাবরের মত বিএডিসি’র বীজ বিক্রয় কেন্দ্র অস্বীকার করছেন- এসব ক্ষেতের বীজ ধান তাদের নয়।

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, সৈয়দপুর উপজেলার বাঙ্গালীপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মণপুর গ্রামের বালাপাড়ার দরিদ্র কৃষক তছর উদ্দিন চলতি মৌসুমে দুই বিঘা জমিতে ব্রি-২৮ ধান রোপন করে। কিন্তু ধান পাকতে শুরু করলে ধান ক্ষেত দেখে তার মাথায় হাত পড়ে।

রোপনকৃত ব্রি-২৮ ধানের চারায় ওই জমিতে ব্রি-২৮ ধানের সাথে ব্রি-২৯, বিআর-১৬ ও নাম না জানা একটি ধানসহ মোট চার ধরনের ধান পাকতে শুরু করেছে। কিন্তু ধানের বদলে তা হয়েছে চিটা।

তিনি তাৎক্ষণিক এক আঁটি ধান কেটে ছুটে যান সৈয়দপুর উপজেলা কৃষি অফিসে পরামর্শ নেয়ার জন্য। কিন্তু এতোদিনে সব শেষ।

এছাড়াও ওই পাড়ার কৃষক সবুর আলী, গোলাম মোস্তফাও ছুঁটে যান তাদের ধান ক্ষেতে। ক্ষেতে গিয়ে দেখেন তাদের ক্ষেতেরও একই অবস্থা। এরপর প্রতিকারের আশায় তারাও ছুঁটে যান উপজেলা পরিষদ কৃষি অফিসে।

কৃষক তছির সাংবাদিকদের জানান, সৈয়দপুর উপজেলা বীজ বিক্রয় কেন্দ্র থেকে ৩৬৫ টাকা দিয়ে ১০ কেজি ওজনের ব্রি-২৮ ধান বীজের একটি প্যাকেট কিনে চারা তৈরি করেছেন। বিএডিসি’র বীজ তাই নিশ্চিন্তে ছিলাম। কিন্তু এখন এর জন্য দায়ী কে?

একই কথা জানান অন্যান্য কৃষকরা। বর্গা চাষি মোস্তফা জানান, কাকে বিশ্বাস করবো? বিএডিসি’র বীজ ভালো মনে করে অন্যের জমি বর্গা নিয়ে আবাদ করেছি। ধানের আবাদ ছেড়ে দিয়ে কি করবো। তারা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দিয়ে এর সুবিচার দাবি করেন।

এ ব্যাপারে বিএডিসি’র সৈয়দপুর উপজেলা বীজ বিক্রয় কেন্দ্রের উপ-সহকারী পরিচালক (বীজ বিপণন) শামসুজ্জামান ভেজাল বীজ দেয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, ‘এ পর্যন্ত কোন কৃষক এমন অভিযোগ আমার কাছে করেনি। তাছাড়া ব্রি-২৮ মান ঘোষিত বীজে শতকরা ৫ ভাগ মিক্সার থাকে।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি বুঝে উঠতে পারছি না। হয়তো ওই কৃষকরা নিয়মতান্ত্রিকভাবে বীজতলা তৈরি করতে পারেনি। পূর্বের কোনো ধানের ক্ষেতে বীজতলা তৈরি করেছে। কিংবা একই বীজতলায় ভিন্ন ভিন্ন ধান বপন করেছে। তাছাড়া এখান থেকে বীজ নিয়েছে কিনা তাতেও সন্দেহ রয়েছে।’

এসময় তিনি ওই কৃষকদের বীজের প্যাকেটের ভেতরের ট্যাগ কার্ডটি দেখানোর জন্য বলেন। কিন্তু কৃষকেরা জানান, বিএডিসি’র বীজ তাই শতভাগ গ্যারান্টি। ফলে ওই কার্ডগুলো সংগ্রহ করা হয়নি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বিধু ভুষণ রায় কৃষকের অভিযোগ প্রাপ্তির কথা স্বীকার করেছেন।

 

বিডিপ্রেস ডটনেট/এএফ/এএইচ_১৫১৮ ঘ.

CommentAdd Your Comment



2011 © Copyright to BDPRESS.NET.
Editor: A H M Obaidur Rahman, 33 Karwan Bazar, Dhaka-1215,
Phone: +8802 8189524,
Email: bdpress.net@gmail.com,bdmediahouse@yahoo.com
Powered by Kernel Soft Ltd.