এই দেশ আর কখনো তাবেদারী রাষ্ট্রে পরিণত হবে না : প্রধানমন্ত্রী
বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:৪০ পিএম | আপডেট: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:৪০ পিএম
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আজকের এই দিনটি বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে আরেকটি যুগান্তকারী মাইলফলক। তিনি বলেন, দেড় দশকের বেশি সময় ধরে চলা ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে হাজার হাজার মানুষ গুম-অপহরণের শিকার হয়েছেন এবং লাখো মানুষ নির্যাতন, হামলা বা মিথ্যা মামলায় বছরের পর বছর ঘরবাড়ি ছাড়া হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই বাংলাদেশ আর কখনোই তাবেদারী রাষ্ট্রে পরিণত হবে না’
আজ বুধবার (৫ জুলাই) চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সব শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে হতাহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করে তিনি বলেন, শুধু জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানেই শহীদ হয়েছেন হাজারো ছাত্র-জনতা, নারী ও শিশু এবং আহত হয়েছেন অন্তত ত্রিশ হাজার মানুষ বলে।
তিনি বলেন, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান ঠেকাতে ফ্যাসিস্ট চক্র হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালিয়ে গণতন্ত্রকামী মানুষ হত্যা করেছিল, যা সভ্য জগতে বিরল নৃশংসতা।
তিনি আরও বলেন, গুম-খুন-অপহরণকে স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত করে ফেলা দেড় দশকের এই শাসনামলের তুলনা কেবল স্বাধীনতা-পরবর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের সাড়ে তিন বছরের শাসনের সঙ্গেই চলে।
তারেক রহমান বলেন, এই স্মৃতি জাদুঘর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে পূর্বসূরিদের সংগ্রামের ইতিহাস যেমন তুলে ধরবে, তেমনি উন্মোচিত হবে বিতাড়িত ফ্যাসিস্টদের মুখোশ।
তিনি প্রত্যাশা করেন, জাদুঘরটি শুধু ২০২৪ সালের ঘটনার স্মারক না হয়ে বাংলাদেশের সামগ্রিক গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাসও ধারণ করবে—১৯৭৫ সালে সংবিধান পরিবর্তন করে গণতন্ত্রের কবর রচনা এবং পরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাতে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার ইতিহাসসহ।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, অসম্পূর্ণ বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বয়ান ইতিহাসের বিশ্বাসযোগ্যতা দুর্বল করে, তাই প্রতিটি বিষয়ে সত্যতা নিশ্চিত হওয়া জরুরি এবং তথ্যাদি বাংলার পাশাপাশি ইংরেজি ও অন্যান্য ভাষাতেও উপস্থাপনের আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, জাদুঘরটি কোনো একক দল, গোষ্ঠী বা ব্যক্তির রাজনৈতিক ভাষ্য প্রতিষ্ঠার স্থান হবে না, কারণ ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের মহানায়ক দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ।
প্রধানমন্ত্রী জানান, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে হতাহতদের প্রতিটি ঘটনার বিচার পর্যায়ক্রমে হবে, তবে তা হবে প্রতিহিংসামূলক নয়, বরং আইনের যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে।
তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহত যোদ্ধাদের সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং গুরুতর আহতদের থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, তুরস্ক ও রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বর্তমানে ৫০ জন জুলাই যোদ্ধা বিদেশে চিকিৎসাধীন এবং গেজেটভুক্ত ১৩ হাজারের বেশি যোদ্ধাকে শ্রেণিভিত্তিক মাসিক সম্মানী ভাতা দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী জানান, শহীদদের কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়তে ৩১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ও জাতীয় সংসদের সাউথ প্লাজায় স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে, পাশাপাশি গণভোটের লক্ষ্যে সংসদে গঠিত সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটিও কাজ শুরু করেছে।
একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে কেউ কেউ অহেতুক ইস্যু তৈরি করে অস্থিরতা সৃষ্টির যে অপচেষ্টা করছেন, তা অজান্তেই পতিত স্বৈরাচারের পুনরুত্থানের পথ সুগম করছে কি না তা ভেবে দেখার আহ্বান জানান তিনি।
জাদুঘর প্রতিষ্ঠায় সংশ্লিষ্ট স্থপতি, ইতিহাসবিদ, গবেষক, শিল্পী, সংগ্রাহক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ধন্যবাদ জানিয়ে এবং শহীদ পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই বাংলাদেশ আর কখনোই তাবেদারী রাষ্ট্রে পরিণত হবে না’—এই প্রত্যাশায় তিনি জাদুঘরের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
আরও পড়ুন
- পথ হারালে জুলাই জাদুঘরই দেখাবে নতুন পথ : ড. ইউনূস
- জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেকে রহমান
- পানি ব্যবস্থাপনার টেকসই সমাধানে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর মতবিনিময়
- দেশজুড়ে র্যাবের নিরাপত্তা জোরদার
- আগামীকাল জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
- ঢাকায় সৌদি যুবরাজের বিশেষ দূত
- ভোটার তালিকা পেলেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তফসিল: ইসি সচিব
- প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ