পানি সংকট নিরসনে দ্রুত পদ্মা-তিস্তা ব্যারাজ নির্মাণ করা হবে: প্রধানমন্ত্রী
মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬ ০৭:৪০ পিএম | আপডেট: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬ ০৭:৪৩ পিএম
পানি সংকট মোকাবিলা ও কৃষকদের সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে যত দ্রুত সম্ভব পদ্মা ও তিস্তা নদীতে ব্যারাজ নির্মাণ করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একই সঙ্গে পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
তারেক রহমান বলেন, পদ্মা নদী ক্রমেই শুকিয়ে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে পদ্মা ও তিস্তা নদীতে ব্যারাজ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দেশের পানিসংকটের জন্য যারা দায়ী, তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। বাংলাদেশের পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ নেবে। পাশাপাশি যত দ্রুত সম্ভব ব্যারাজ নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করা হবে।
কৃষকদের সেচ সুবিধা বাড়াতে দেশজুড়ে খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়নের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে আট মাসে ৮০০ কিলোমিটার খননকাজ সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি বলেন, খাল খননের ফলে কৃষকেরা সেচের পানি পাবেন এবং ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণে সহায়তা হবে। উত্তরাঞ্চল দেশের অন্যতম শস্যভাণ্ডার হলেও এ অঞ্চলের মানুষ পানির সংকটে ভোগেন। দেশের অন্যান্য এলাকাতেও একই সমস্যা রয়েছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয়েছিল। ওই সময়েই বরেন্দ্র প্রকল্প কার্যকর হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
জনসভায় বক্তব্যের একপর্যায়ে জুলাই আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কয়েকটি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি উপস্থিত না থাকায় সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, স্বৈরাচারী সরকারের পতনের আগে শত শত মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল। তাঁদের স্মরণে সোমবার ঢাকায় একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে। বিএনপি একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ও চব্বিশের জুলাই আন্দোলন—দুটোকেই ধারণ করে। জুলাই আন্দোলনে আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতেও সরকার কাজ করছে।
তারেক রহমান বলেন, স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে সব রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। কিন্তু যারা প্রকাশ্যে জুলাই আন্দোলনের চেতনার কথা বলে, তাদের কয়েকটির কোনো প্রতিনিধি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না। তাঁর অভিযোগ, একাত্তরের মতো চব্বিশের আন্দোলন নিয়েও কিছু দল জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। তাদের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডে অসংগতি রয়েছে।
দেশের বিভিন্ন শিল্পকারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টির চেষ্টা নিয়েও সতর্ক করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, গোয়েন্দা সংস্থার কাছে এ বিষয়ে তথ্য রয়েছে। তাঁর দাবি, পলাতক স্বৈরাচারী শক্তি সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ সরবরাহ করছে এবং দেশের ভেতরে একটি পক্ষ সেই অর্থের সহায়তায় অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে।
নির্বাচনের আগে মিথ্যা তথ্য দিয়ে টিকিট বিক্রির চেষ্টা করা ব্যক্তিদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এ দুই পক্ষ এক হয়ে কাজ করছে। দেশের স্থিতিশীলতা নষ্টের যেকোনো প্রচেষ্টা মোকাবিলায় সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
আরও পড়ুন
- চট্টগ্রামে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- রাজশাহীর ধর্মসভা মন্দিরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও মতবিনিময় করলেন প্রধানমন্ত্রী
- খুলনার সেই খান সাইফুল এখন সুস্থ, বাড়ি ফেরার আগে আবারও খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- রাজশাহীতে ৩৮ হাজার ৯৭০ আখচাষির মাঝে প্রণোদনার অর্থ বিতরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী
- ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ এবং আধুনিকায়নকৃত ওসমানী উদ্যান উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
- মঙ্গলবার রাজশাহী যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
- দুপুর ২টায় পদত্যাগের ঘোষণা দেবেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন
- সওজের ৪০০ স্থাপনায় বসবে সৌর প্যানেল, লক্ষ্য ৫ হাজার ১৪৪ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন