1. »
  2. রাজনীতি
গভীর শোক ও আবেগঘন মুহূর্তে

দায়িত্বশীল ও পেশাদারিত্বের জন্য তারেক রহমানের কৃতজ্ঞতা

বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ পিএম | আপডেট: বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ পিএম

দায়িত্বশীল ও পেশাদারিত্বের জন্য তারেক রহমানের কৃতজ্ঞতা

গভীর শোক ও আবেগঘন মুহূর্তে দায়িত্বশীলতা, মানবিকতা ও পেশাদারিত্বের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করায় খালেদা জিয়ার জানাজা ও দাফনকাজে নিয়োজিত সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, দেশের মানুষের অংশগ্রহণে যথাযথ শ্রদ্ধা ও মর্যাদার সঙ্গে সম্পন্ন হওয়া এই বিদায় ছিল ঐতিহাসিক।

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকাল সোয়া ৭টার কিছু আগে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তারেক রহমান এসব কথা বলেন। পোস্টে তিনি দেশবাসীসহ জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানে দায়িত্ব পালনকারী সব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তারেক রহমান লেখেন, গভীর শোকের এই সময়ে সবার দেখানো সহমর্মিতা, সম্মানবোধ ও দায়িত্বশীলতা তাঁর এবং তার পরিবারের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।

পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, তার জীবনের অন্যতম বেদনাদায়ক মুহূর্তে মায়ের শেষবিদায় এমনভাবে সম্পন্ন হয়েছে, যা দেশের মানুষের জন্যও ছিল সম্মানজনক ও স্মরণীয়। এই ঐতিহাসিক বিদায় সম্ভব হয়েছে যাঁদের নিষ্ঠা, যত্ন ও পেশাদার দায়িত্ববোধের কারণে, তাঁদের সবার প্রতি তিনি অন্তর থেকে কৃতজ্ঞ।

তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর কর্মকর্তা ও সদস্যদের বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান। বলেন, তাঁরা শুধু শৃঙ্খলা বজায় রাখেননি, বরং শোকাবহ পরিবেশেও মানবিকতার অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন এবং লাখো মানুষের নিরাপদ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছেন।

নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নারী-পুরুষ সদস্যদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তারেক রহমান। এর মধ্যে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও ভিডিপি, র‍্যাব এবং এপিবিএনের সদস্যদের অবদানের কথা উল্লেখ করেন তিনি। তাঁদের ধৈর্য, সততা ও দায়িত্বশীলতার কারণেই বিপুলসংখ্যক মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে শোক ও শ্রদ্ধা জানাতে পেরেছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এ ছাড়া ডিজিএফআই, এনএসআই ও স্পেশাল ব্রাঞ্চের সদস্যদের নীরব কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও স্মরণ করেন তারেক রহমান। তাঁদের সতর্কতা ও পেশাদারিত্বের ফলে পুরো আয়োজন নিরাপদ ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের পিএসও, ডিজি এসএসএফ এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত, তথ্য ও সম্প্রচার, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক, সংস্কৃতি ও ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সমন্বিত ভূমিকার জন্যও ধন্যবাদ জানান।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিক প্রচেষ্টার কারণে বিদেশি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা সরাসরি উপস্থিত থেকে সমবেদনা জানাতে পেরেছেন উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, এতে দেশের সীমানার বাইরেও তাঁর মায়ের প্রতি গভীর সম্মানের প্রতিফলন ঘটেছে।

কয়েক বর্গ কিলোমিটারজুড়ে ছড়িয়ে থাকা জনসমুদ্রের মধ্যেও দেশ-বিদেশের সাংবাদিকরা অত্যন্ত প্রতিকূল পরিস্থিতিতে নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে জানাজা ও দাফনের খবর বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছে দিয়েছেন বলেও তিনি কৃতজ্ঞতা জানান।

সবশেষে তারেক রহমান মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ও অন্তর্বর্তী সরকারের সদস্যদের প্রতিও ধন্যবাদ জানান। জাতীয় শোকের এই সময়ে তাঁদের ব্যক্তিগত উপস্থিতি ও সার্বিক সহায়তাকে তিনি তাঁর পরিবারের জন্য অমূল্য সমর্থন হিসেবে উল্লেখ করেন।

পরিবারের পক্ষ থেকে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠান নয়—মানুষ হিসেবে সবার এই সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধ তাদের হৃদয় স্পর্শ করেছে। এই সম্মিলিত শক্তির কারণেই পুরো জাতি মর্যাদার সঙ্গে খালেদা জিয়ার স্মৃতিকে সম্মান জানাতে পেরেছে—আলহামদুলিল্লাহ।