1. »
  2. রাজনীতি

গুপ্তরা এখন জালেম রূপে ফ্যাসিস্টদের রীতিনীতি প্রয়োগ করছে: তারেক রহমান

বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ০২:৩২ পিএম | আপডেট: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ০৩:৩৫ পিএম

গুপ্তরা এখন জালেম রূপে ফ্যাসিস্টদের রীতিনীতি প্রয়োগ করছে: তারেক রহমান

বাংলাদেশে এক গুপ্ত সংস্থার নেতাকর্মীরা নতুন জালেমের রূপে আবির্ভাব হয়েছে। জনগণ যাদের গুপ্ত পরিচয়ে চেনে, তারা সেই ফ্যাসিস্টদের রীতিনীতি প্রয়োগ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

আজ বুধবার দুপুরে বরিশালের বেলস পার্ক মাঠে নির্বাচনী মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, কুমিল্লার জামায়াতের এক গুপ্ত নেতা বলেছে, “১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আপনে জনগণের পা ধরবেন, এরপর জনগণ আপনাদের পা ধরবে।” তিনি প্রশ্ন তুলেন, দেশের জনগণকে নিয়ে এ ধরনের তুচ্ছ তাচ্ছিল্লা কিভাবে করা যায়। তিনি বলেন, এরা নতুন জালেমের রূপে আবির্ভাব হয়ে ফ্যাসিস্ট রীতিনীতি প্রয়োগ করেছে। এ দল দীর্ঘ সময় ধরে আওয়ামী লীগের সামনে পেছনে ছিল। তাই তাদের কাছ থেকে দেশের মানুষ ভালো কিছু আশা করতে পারে না।

তিনি বলেন, “আমি আমার নেতাদের বলি, ১৩ তারিখ থেকে আপনারা জনগণের পা ধরবেন। কারণ দেশের মানুষই ক্ষমতার উৎস। ৫ আগস্ট এটি দেশের মানুষ প্রমাণ করেছে। এসব গুপ্ত নেতারা নির্বাচিত হলে জনগণের জন্য চরম দুর্ভোগ অপেক্ষা করছে। গুম্পদের বিরুদ্ধে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।”

তিনি কষ্টের সঙ্গে বলেন, নতুন এই জালেম দলের নেতা নারীদের উদ্দেশ্যে একটি কলঙ্কিত শব্দ ব্যবহার করেছে। তারা নারীদের নিয়ে কলঙ্কিত শব্দ ব্যবহার করে বলেছে, তাদের আইডি হ্যাক হয়েছিল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইডি হ্যাক হয়নি। “যেই দল দেশের নারীদের প্রতি শ্রদ্ধা রাখে না, তারা দেশের অগ্রগতি নিশ্চিত করতে পারে না। ধরা পড়ে তারা মিথ্যা বলছে। এদের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।”

গুপ্ত দলের কথিত নেতারা সৎ প্রশাসন গড়ে তুলবে বললেও, অনৈতিকভাবে দেশের সাধারণ মানুষ ও মা-বোনদের কাছ থেকে এনআইডি ও বিকাশ নম্বর নিচ্ছে। তারেক রহমান বলেন, “যাদের শুরুই অনৈতিক, তারা কিভাবে সৎ প্রশাসন গড়ে তুলতে পারবে?”

তিনি দেশের নারীর অবদানকে বিশেষভাবে তুলে ধরেন। বলেন, দেশের প্রায় সব স্তরে নারীরা পুরুষদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে। গার্মেন্টস শিল্প দেশের গর্ব, সেখানে নারীদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নবী (স)-এর স্ত্রী বিবি খাদিজা একজন কর্মজীবী ছিলেন। বদরের যুদ্ধে হযরত আয়েশা নেতৃত্ব দিয়েছেন। ইসলামী ধর্ম ও দেশের সমাজে সব জায়গায় নারীদের অবদান রয়েছে। তাই নারীদের বাদ দিয়ে উন্নয়ন সম্ভব নয়।

তবে তিনি বলেন, এজন্য ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে নারী-পুরুষ উভয়কেই দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে।

বরিশালের উন্নয়ন নিয়ে তিনি বলেন, “বিশাল এই বরিশাল বিভাগ বেগম খালেদা জিয়া ঘোষনা করেছিলেন। পল্লি বিদ্যুৎ লাইন শহীদ জিয়াউর রহমান চালু করেছিলেন। এখানে ব্রিজ তৈরি করতে হবে, মেডিক্যাল সুবিধা উন্নয়ন করতে হবে। বিশেষ করে নদী ভাঙন রোধ করতে হবে। মসজিদ, মাদ্রাসা ও কবর ভেঙে যাচ্ছে।”

তিনি বরিশালের কৃষকদের জন্য কৃষিকার্ড বিতরণ এবং ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফের পরিকল্পনা জানিয়েছেন। হিমাগারের মাধ্যমে মাছসহ কৃষিপণ্য সংরক্ষণেও সাহায্য করার পরিকল্পনা রয়েছে। যুবদের জন্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, খেলাধুলায় পেশাদার প্রশিক্ষণ এবং হেলথকেয়ার সেবা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ভোটের দিনে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, “এতো মানুষ জীবন দিয়ে দেশকে স্বৈরাচার থেকে মুক্ত করেছে। আমাদের কাজ তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা। আমরা দেখছি গুপ্ত সংস্থার লোকজন কীভাবে ভুয়া ব্যালট সিল ছাপাচ্ছে। তারা সেগুলো পকেটে নিয়ে যাবে।”

মঞ্চে গুম ও হত্যার শিকার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে তিনি বলেন, “এই পরিবারের প্রত্যাশা, দেশের মানুষ তার অধিকার ফিরে পাবে। বিগত ১৬ বছর রাতের ডামি ভোটের নির্বাচন হয়েছে, কিন্তু ২০২৪ সালের আন্দোলনের ফলে ডামি নির্বাচনের নিয়ন্ত্রকরা পালিয়ে গেছে। এখন বাংলাদেশের মানুষ নির্বাচন করে ঠিক করবে কে দেশ পরিচালনা করবে।”

শেষে তিনি বরিশাল বিভাগের জন্য ‘ধানের শীষ’ প্রার্থীদের পক্ষে ভোট চেয়ে জনগণকে বিএনপিকে সমর্থন করার আহ্বান জানান।