1. »
  2. রাজনীতি

নিজের উপদেষ্টাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ দিতে জামায়াত আমিরের চিঠি

মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০৪ পিএম | আপডেট: মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০৪ পিএম

নিজের উপদেষ্টাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ দিতে জামায়াত আমিরের চিঠি

নিজের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসানকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর পদমর্যাদায় পদায়নের অনুরোধ জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের কাছে চিঠি দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

গত ২২ ফেব্রুয়ারি বিরোধী দলীয় নেতার দপ্তর থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠিটি পাঠানো হয়। মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে এমন অনুরোধ পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জামায়াত আমির মনে করেন, তার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টাকে পদায়ন করা হলে বিরোধী দলের পররাষ্ট্রনীতি সরকারের কাছে উপস্থাপন ও পর্যালোচনা সহজ হবে এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব হবে।

তবে সাবেক একাধিক পররাষ্ট্র সচিবসহ পেশাদার কূটনীতিকরা বলছেন, বাংলাদেশে এর আগে এ ধরনের কোনো নজির নেই। এমনকি এ অঞ্চলের দেশগুলোতেও বিরোধী দলের কাউকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এভাবে পদায়নের ঘটনা শোনা যায় না।

তাদের মতে, যুক্তরাজ্যসহ পশ্চিমা অনেক দেশে ছায়া মন্ত্রিসভার মাধ্যমে বিরোধী দল সরকারকে নীতিগতভাবে চ্যালেঞ্জ করে থাকে। আবার ভারত ও পাকিস্তানের মতো দেশে বড় কোনো সংকট বা জাতীয় প্রয়োজনের সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল একসঙ্গে কাজ করার নজির রয়েছে।

সাবেক ও বর্তমান কূটনীতিকদের মতে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রাষ্ট্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল একটি প্রতিষ্ঠান। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাজ করার ক্ষেত্রে দেশের স্বার্থ, সরকারের অগ্রাধিকার এবং ক্ষমতাসীন দলের নীতিকে সমন্বয় করেই এ মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এমন পরিস্থিতিতে বিরোধী দলের কাউকে মন্ত্রণালয়ের ভেতরে যুক্ত করা হলে সমন্বয়হীনতা ও জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকতে পারে।

এ বিষয়ে জামায়াত আমিরের একান্ত সচিব মো. নজরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, চিঠি পাঠানোর বিষয়টি সম্পর্কে মাহমুদুল হাসান আগে থেকেই আমিরকে অবহিত করেছিলেন এবং তিনি মৌখিক সম্মতিও দিয়েছিলেন। তবে মন্ত্রীর পদমর্যাদার বিষয়টিতে জামায়াত আমিরের সম্মতি ছিল না।

তিনি বলেন, বিষয়টি জানার পর শফিকুর রহমান এ নিয়ে মাহমুদুল হাসানের সঙ্গে কথা বলেন। পরে মাহমুদুল হাসানকে বাদ দিয়ে ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেমকে জামায়াত আমিরের নতুন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। বিষয়টি পররাষ্ট্র সচিবকেও জানানো হয়েছে।

চিঠিতে বিরোধী দলীয় নেতা উল্লেখ করেন, অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান তার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। মূলধারার বিভিন্ন রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে তার পেশাগত যোগাযোগ ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে তিনি জাতিসংঘ, কমনওয়েলথ, আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরাম, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ এশিয়া, আফ্রিকা, ওশেনিয়া, আমেরিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে ভূমিকা রেখেছেন।

চিঠিতে তিনি আরও বলেন, মাহমুদুল হাসানকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পদায়ন করা হলে বিরোধী দলের পররাষ্ট্রনীতি সরকারের কাছে উপস্থাপন ও পর্যালোচনা করা সহজ হবে এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব হবে।

ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা ও দেশের পররাষ্ট্রনীতি সমন্বয়ের স্বার্থে বিষয়টি সরকারের বিবেচনার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।