1. »
  2. সমগ্র দেশ

দেশের ৭ জেলায় বন্যা, মৃত্যু বেড়ে ৫১

সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬ ১০:০৯ এএম | আপডেট: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬ ১০:০৯ এএম

দেশের ৭ জেলায় বন্যা, মৃত্যু বেড়ে ৫১

চট্টগ্রাম বিভাগের চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি এবং সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ—এই সাত জেলার লাখো মানুষ এখন বন্যার কবলে। 

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ১২ জুলাইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত এসব জেলার ৫৯টি উপজেলা বন্যাপ্লাবিত হয়েছে। 

পানিবন্দী হয়ে পড়েছে ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯১৮টি পরিবার, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ১০ লাখ ২২ হাজার ৯৬৩ জন। বন্যা, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫১, যা শনিবার ছিল ৪৪। 
সবচেয়ে বেশি ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে কক্সবাজারে, এরপর চট্টগ্রামে ১৩, বান্দরবানে ৬, রাঙামাটিতে ৩ ও মৌলভীবাজারে ১ জন।

মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ৫ জুলাই থেকে চট্টগ্রাম অঞ্চলে ভারী বর্ষণ শুরু হয়। ৫ জুলাই সকাল থেকে রোববার বিকেল পর্যন্ত চট্টগ্রামে মোট ১ হাজার ৩৫৪ দশমিক ৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হয়েছে ১৫১ দশমিক ৭ মিলিমিটার। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী দুই-তিন দিনও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। 

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম বড়ুয়া জানান, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অর্থাৎ চট্টগ্রাম অঞ্চলে এক দিনের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে, তবে সিলেট বিভাগের নিম্নাঞ্চলে অবস্থা আরও খারাপ হবে কি না তা নির্ভর করছে বৃষ্টির ওপর।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চট্টগ্রাম জেলা। বাঁশখালী, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ, ফটিকছড়ি ও হাটহাজারীর অনেক এলাকায় এখনো ঘরের ভেতরে পানি, নলকূপ ডুবে থাকায় বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। 

কক্সবাজারের চকরিয়া, পেকুয়া, মাতামুহুরী, রামু ও সদর এলাকায় কিছু জায়গায় পানি কমলেও দুর্ভোগ কাটেনি, কোথাও বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকছে এবং মানুষ নৌকায় চলাচল করছেন।

তিন পার্বত্য জেলা—বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে পানি ধীরে ধীরে নামতে শুরু করলেও গ্রামীণ সড়ক ভাঙা, সেতু ধসে পড়া এবং আমন-আউশের বীজতলা, জুমখেত ও সবজিক্ষেত ডুবে যাওয়ার ক্ষতি স্পষ্ট হয়ে উঠছে। 

এর মধ্যে সবচেয়ে নাজুক অবস্থা বান্দরবানের, যেখানে জেলা শহরের অধিকাংশ এলাকা এখনো পানির নিচে এবং বান্দরবান-চট্টগ্রাম ও বান্দরবান-রাঙামাটি সড়কের বিভিন্ন অংশ ডুবে আছে। রাঙামাটির বাঘাইছড়ি, বিলাইছড়ি ও বরকলে পানি কমতে শুরু করায় মানুষ আশ্রয়কেন্দ্র থেকে ঘরে ফিরছেন, যদিও বাঘাইছড়ির রূপকারী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ধনেশ্বর চাকমার ভাষ্যে অধিকাংশ মানুষ এখনো আশ্রয়কেন্দ্রেই আছেন। 

খাগড়াছড়ির দীঘিনালা-লংগদু সড়কে পানি নেমে যাওয়ায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।

হবিগঞ্জে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার পরিবার পানিবন্দী, নিম্নাঞ্চলে এখনো দুই থেকে আড়াই ফুট পানি জমে আছে। সদর উপজেলার বনগাঁও গ্রামের সিরাজ মিয়া বলেন, ঘরে পানি ঢুকেছে, গরু-ছাগল নিরাপদ জায়গায় সরাতে হয়েছে এবং কৃষিজমির ফসল নষ্ট হয়ে গেছে; কয়েক দিনের মধ্যে পানি না নামলে ক্ষতি আরও বাড়বে। 

মৌলভীবাজারের সাত উপজেলার পাঁচটিতে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, পানিবন্দী হয়েছে ৭ হাজারের বেশি পরিবার এবং একজনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে মন্ত্রণালয়।

সুনামগঞ্জে পাঁচ দিনের টানা বর্ষণ ও উজানের ঢলে নদ-নদী ও হাওরে পানি বেড়েছে, মঙ্গলবার মৌসুমের সর্বোচ্চ ২৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে সেখানে। নেত্রকোনায় উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টিতে নদ-নদীর পানি বাড়ছে, কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। 

কুড়িগ্রামে ধরলা, ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা ও দুধকুমার নদের ভাঙন বেড়েছে, নদীতীরের মানুষ বসতভিটা হারানোর শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। যশোরের কেশবপুর পৌর এলাকায় টানা ভারী বৃষ্টিতে দুই শতাধিক পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।