1. »
  2. আবহাওয়া

উত্তরাঞ্চলে বন্যার পূর্বাভাস, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সংকেত

রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬ ১১:২৪ এএম | আপডেট: রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬ ১১:২৪ এএম

উত্তরাঞ্চলে বন্যার পূর্বাভাস, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সংকেত

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একযোগে বাড়ছে নদ-নদীর পানি। উজানে ভারতের ভারী বৃষ্টির প্রভাবে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি দ্রুত বাড়ায় আগামী সোমবারের মধ্যে উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি)। একই সময়ে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে কুশিয়ারা নদীর পানি ইতোমধ্যে বিপৎসীমা ছাড়িয়েছে।

এফএফডব্লিউসির সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, আগামী দুদিনে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি আরও বেড়ে কোথাও কোথাও বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। 

এতে ঝুঁকিতে রয়েছে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল। তবে স্বস্তির খবর হলো, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি বাড়লেও তা এখনও বিপৎসীমার নিচেই রয়েছে, আর কেন্দ্রের ভাষ্যমতে আগামী পাঁচ দিনে গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকার পানি বাড়লেও তা বিপৎসীমা অতিক্রমের সম্ভাবনা নেই।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, জেলার কোনো নদীর পানি এখনও বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি, তবে আসামে ভারী বৃষ্টির কারণে তিস্তা-ধরলা-দুধকুমারের পানি আরও বাড়তে পারে। ব্রহ্মপুত্রের পানি এবার বিপৎসীমা ছাড়ানোর সম্ভাবনা কম বলেও জানান তিনি।

গাইবান্ধার নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, জেলার সব নদীর পানি বাড়ছে এবং তিস্তার পানি কোথাও কোথাও বিপৎসীমা ছাড়াতে পারে, যদিও যমুনা বিপৎসীমার নিচেই থাকবে বলে ধারণা করছেন তিনি। চলতি মাসের শুরুতে ব্রহ্মপুত্র-যমুনার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় গাইবান্ধা সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সাঘাটার চরাঞ্চলে বন্যা হয়েছিল বলে জানান তিনি, যে কারণে জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাও হয়েছে।

রংপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, তিস্তার পানি রংপুর ও কুড়িগ্রামে আরও বাড়বে, স্বল্পমেয়াদি বন্যার শঙ্কা থাকলেও পানি এখনও বিপৎসীমার নিচে।

উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে বায়ুচাপের তারতম্য বাড়ায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কায় মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি সাবধানে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া রংপুর বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিরও পূর্বাভাস রয়েছে।

সুরমা-কুশিয়ারা অববাহিকায় সুরমা নদী ছাতক এবং কুশিয়ারা নদী মৌলভীবাজারের শেরপুর পয়েন্টে সতর্কসীমার কাছাকাছি রয়েছে, আগামী তিন দিনে যা আরও বাড়তে পারে। নেত্রকোনার কলমাকান্দা পয়েন্টে সোমেশ্বরী নদীর পানিও বিপৎসীমার ওপরে বইছে। তবে আত্রাই, করতোয়া, ছোট যমুনা ও যমুনেশ্বরী নদীর পানি কিছুটা কমেছে, যদিও নওগাঁর কয়েকটি পয়েন্টে আত্রাই ও ছোট যমুনা এখনও সতর্কসীমায়। জামালপুর ও বগুড়ায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনার পানি সতর্কসীমার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে, আর ঢাকার আশপাশে ধলেশ্বরীর পানি কিছুটা বাড়লেও বুড়িগঙ্গা, তুরাগ ও টঙ্গী খাল স্থিতিশীল রয়েছে।

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে টানা চার দিন ধরে বরিশাল বিভাগের কীর্তনখোলা, তেঁতুলিয়া, মেঘনা, বিষখালী, বলেশ্বর ও পায়রাসহ একাধিক নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বইছে। অস্বাভাবিক জোয়ারে উপকূলীয় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে ডুবে গেছে বিভিন্ন লঞ্চ-ফেরিঘাটের গ্যাংওয়ে ও পন্টুন, যাত্রীদের ঝুঁকি নিয়ে ওঠানামা করতে হচ্ছে। বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী তাজুল ইসলাম বলেন, এবারই প্রথম একসঙ্গে এতগুলো নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে।

টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদের পানি বেড়ে যাওয়ায় গতকাল শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কাপ্তাই বাঁধের ১৬টি স্পিলওয়ে গেট খুলে দেওয়া হয়েছে। 

কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, গেট দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে ৯ হাজার কিউসেক এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিট দিয়ে আরও ৩২ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে ছাড়া হচ্ছে। কেন্দ্র ব্যবস্থাপক মাহমুদ হাসান জানান, পানি ছাড়ার আগে হ্রদের পানির উচ্চতা ছিল ১০৪ দশমিক ০৯ ফুট (এমএসএল), যেখানে বিপৎসীমা ধরা হয় ১০৮ ফুট।