1. »
  2. জাতীয়

জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৬:৫৮ পিএম | আপডেট: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৬:৫৮ পিএম

জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

দীর্ঘদিনের অপর্যাপ্ত গ্যাস অনুসন্ধান ও আমদানি নির্ভরতার কারণে সৃষ্ট বর্তমান জ্বালানি সংকট থেকে দেশকে বের করে আনতে সরকার সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

আজ বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত মহিলা আসন-৩৫ এর সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে গৃহীত পরিকল্পনার কারণে জ্বালানি খাত রীতিমতো পঙ্গু হয়ে পড়েছিল। দীর্ঘদিনের অপর্যাপ্ত গ্যাস অনুসন্ধান ও আমদানি নির্ভরতাই বর্তমান সংকটের মূল কারণ উল্লেখ করে তিনি জানান, এই সংকট থেকে উত্তরণে বর্তমান সরকার একাধিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর অংশ হিসেবে ১৫০টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভার কর্মসূচির আওতায় ইতিমধ্যে ৩০টি কূপের খনন সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। এর মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে ১৪০ এমএমসিএফডি গ্যাস যুক্ত হয়েছে। বর্তমানে চলমান আরও ৭টি কূপের খনন শেষ হলে অতিরিক্ত ৮৫ এমএমসিএফডি গ্যাস যুক্ত হবে বলে জানান তিনি। অবশিষ্ট কূপগুলোর খনন পর্যায়ক্রমে প্রকল্প আকারে গ্রহণ করা হচ্ছে।

দেশীয় গ্যাসের উৎস অনুসন্ধানের লক্ষ্যে ৪ হাজার ৫০০ লাইন কিলোমিটার ২ডি সিসমিক সার্ভে এবং ৪ হাজার ২০০ বর্গ কিলোমিটার ৩ডি সিসমিক সার্ভে পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডকে (বাপেক্স) শক্তিশালী করতে আরও দুটি নতুন রিগ কেনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, অফশোর মডেল পিএসসি ২০২৬ অনুমোদনের পর বিড রাউন্ড আহ্বান করা হয়েছে, আর অনশোর মডেল পিএসসি অনুমোদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অফশোর ও অনশোর অনুসন্ধানে গ্যাসের সন্ধান মিললে তা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এলএনজি অবকাঠামো সম্প্রসারণ প্রসঙ্গে তিনি জানান, কক্সবাজারের মহেশখালীর গভীর সমুদ্রে কুতুবজোমে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের লক্ষ্যে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে, এবং ২০২৮ সালের ডিসেম্বর নাগাদ এই টার্মিনাল থেকে রিগ্যাসিফাইড এলএনজি সরবরাহ শুরুর প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

আগামী দুই বছরের মধ্যে এলএনজি আমদানি আরও ৬০০ এমএমসিএফডি বাড়বে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া পায়রা বা মোংলা বন্দর এলাকা কিংবা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সমুদ্র উপকূলে জরুরি ভিত্তিতে আরও এক-দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি, যা বাস্তবায়িত হলে দেশের সামগ্রিক জ্বালানি নিরাপত্তা আরও বৃদ্ধি পাবে।

উল্লেখ্য, স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনের প্রথম ৩০ মিনিট প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বের জন্য নির্ধারিত ছিল।