1. »
  2. জাতীয়

সাইবার অপরাধ ঠেকাতে সিকিউরিটি ইউনিট গঠনের পরিকল্পনা

মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০৮ পিএম | আপডেট: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:১২ পিএম

সাইবার অপরাধ ঠেকাতে সিকিউরিটি ইউনিট গঠনের পরিকল্পনা

সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা আরও বাড়াতে অ্যাডিশনাল আইজিপির নেতৃত্বে একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্থায়ী সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট গঠনের পরিকল্পনা করছে সরকার। এ ইউনিটে প্রকৌশল, তথ্যপ্রযুক্তি ও কম্পিউটার সায়েন্সে দক্ষ পুলিশ সদস্যদের কাজে লাগানো হবে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মিরপুরে বাংলাদেশ পুলিশ স্টাফ কলেজের (পিএসসি) বোর্ডরুমে কলেজের পরিচালনা বোর্ডের ২১তম সভায় সভাপতির বক্তব্যে এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশ বাহিনীতে প্রকৌশল, আইটি ও কম্পিউটার সায়েন্স বিষয়ে পড়াশোনা করা অনেক সদস্য রয়েছেন। তাদের জ্ঞান ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে প্রস্তাবিত সাইবার সিকিউরিটি ইউনিটকে আরও কার্যকর করে গড়ে তোলা হবে।

তিনি বলেন, বর্তমানে পুলিশ সদর দপ্তর, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) বিভিন্ন ডিজিটাল অপরাধের তদন্ত ও ফরেনসিক বিশ্লেষণের কাজ অ্যাডহক ভিত্তিতে পরিচালনা করছে। তবে সাইবার অপরাধের ধরন ও পরিধি বাড়ায় এসব কার্যক্রমকে একটি স্থায়ী ও সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

পুলিশের দক্ষতা ও মনোবল বাড়াতে প্রশিক্ষণের ওপর সরকারের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মাস্টার ট্রেইনার পর্যায়ের কর্মকর্তাদের আরও দক্ষ করে তুলতে অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়াতে হবে।

প্রয়োজনে বিদেশি প্রশিক্ষক এনে কিংবা আধুনিক প্রশিক্ষণ সুবিধা তৈরি করে পুলিশ কর্মকর্তাদের পেশাগত দক্ষতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। 

এর ফলে সাইবার স্পেসসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশ আরও কার্যকরভাবে প্রস্তুতি নিতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সভায় পিএসসির ২০তম পরিচালনা বোর্ড সভার কার্যবিবরণী উপস্থাপন করা হয় এবং প্রয়োজনীয় সংশোধন শেষে তা অনুমোদন দেওয়া হয়। পাশাপাশি আগের সভায় নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতিও পর্যালোচনা করা হয়।

এ সময় পিএসসির ভূমি ব্যবহারের জন্য এমআরটির প্রস্তাব, বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ কোর্সের বৈদেশিক অংশে প্রশিক্ষণের জন্য অর্থ বরাদ্দ এবং পুলিশ স্টাফ কলেজের অধীনে পূর্ণাঙ্গ ও স্বতন্ত্র ‘গবেষণা ও উদ্ভাবন সেন্টার’ প্রতিষ্ঠার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

এ ছাড়া পুলিশ স্টাফ কলেজের বিধিসমূহের সরকারি অনুমোদন, বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণকে পদোন্নতি ও পদায়নের অগ্রাধিকার শর্ত হিসেবে যুক্ত করার প্রস্তাব, ইন্টারপা (ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব পুলিশ একাডেমিজ)-এর সদস্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেশে প্রশিক্ষণের আয়োজন এবং বিদেশে প্রশিক্ষণার্থী পাঠানোর কার্যক্রম নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সভায় পিএসসির অবকাঠামো উন্নয়ন, মাস্টার্স ইন ফরেনসিক সায়েন্স এবং মাস্টার্স ইন ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম অ্যান্ড গভর্ন্যান্স কোর্স চালু, পুলিশ স্টাফ কলেজের রজতজয়ন্তী উদযাপন এবং সার্কভুক্ত দেশগুলোর জন্য প্রশিক্ষণ আয়োজনের বিষয়ও উঠে আসে।