নিরাপদ, পরিকল্পিত ও পরিবেশবান্ধব নগর গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী
সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:২৯ এএম | আপডেট: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:২৬ পিএম
পরিকল্পিত, নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, পরিকল্পিত নগরায়ণ ও আবাসন নিশ্চিত করা এবং সীমিত আয়ের মানুষের জন্য বাসস্থানের ব্যবস্থা করা সরকারের অন্যতম প্রধান নির্বাচনী অঙ্গীকার।
সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব বসতি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব বসতি দিবসের তাৎপর্য শুধু একটি ঘর বা আবাসনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। টেকসই আবাসনের সঙ্গে নিরাপদ পানি, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, উন্নত পয়ঃনিষ্কাশন, গণপরিবহন, সড়ক যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সরাসরি জড়িত। সর্বোপরি মানুষের মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করাও এর অংশ।
বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশে সবার জন্য নিরাপদ ও টেকসই বাসস্থান নিশ্চিত করা সহজ নয় উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে হলে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই সামনে এগোতে হবে। নাগরিকদের শুধু একটি বাসস্থান দেওয়াই যথেষ্ট নয়, সেটিকে নিরাপদ ও টেকসই করাও এখন সময়ের দাবি।
দেশের নগরাঞ্চলে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা বর্তমানে অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপে রয়েছে। দেশের অন্যান্য বড় শহরেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এ বাস্তবতায় ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’ ধারণাটিকে গুরুত্ব দিয়ে সব শ্রেণির মানুষের জন্য নিরাপদ, মানসম্মত ও সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, সর্বজনীন আবাসন নাগরিকদের অন্যতম মৌলিক অধিকার। এ অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য বাসযোগ্য, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ আবাসনের ব্যবস্থা করাও সরকারের পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
পরিকল্পিত নগরায়ণের জন্য প্রতিটি সিটি করপোরেশন ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের কাজ চলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল, কুমিল্লা, রংপুর ও নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক, নিরাপদ, সহনশীল ও টেকসই নগর গড়ে তোলার পাশাপাশি জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার ১১ নম্বর অভীষ্ট অর্জনের পথও সহজ হবে।
নগরাঞ্চলে মানুষের অতিরিক্ত চাপ কমাতে শহরের সঙ্গে দেশের অন্যান্য এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা আরও দ্রুত, সাশ্রয়ী ও নিরাপদ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে গ্রামাঞ্চলে নাগরিক সুবিধা বাড়িয়ে শহরমুখী মানুষের চাপ কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু ঢাকা ও কয়েকটি বড় শহরকে কেন্দ্র করে উন্নয়ন না করে দেশের প্রতিটি অঞ্চলকে জাতীয় উন্নয়নের মূলধারায় যুক্ত করতে চায় সরকার। সরকারের লক্ষ্য কেন্দ্রীভূত নগরায়ণের পরিবর্তে বিকেন্দ্রীভূত ও ভারসাম্যপূর্ণ নগর এবং আঞ্চলিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা।
এ লক্ষ্যে সারা দেশের জন্য স্থানিক পরিকল্পনা প্রণয়নের পাশাপাশি ঢাকার আশপাশে দ্বিতীয় পর্যায়ের শহর গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
আবাসন উন্নয়নে পরিবেশ সুরক্ষার ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রকৃতি ও পরিবেশকে গুরুত্ব দিয়ে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ ও বিভিন্ন উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা শহরে পরিকল্পিত আবাসন গড়ে তোলা হচ্ছে।
আবাসন সংকট মোকাবিলায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোক্তা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সবার জন্য বাসযোগ্য, সাশ্রয়ী, পরিবেশসম্মত ও নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করতে ব্লকভিত্তিক আবাসন উৎসাহিত করার পাশাপাশি এলাকাভিত্তিক পার্ক ও খেলার মাঠ এবং নির্ধারিত এলাকায় শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার উদ্যোগও অব্যাহত রয়েছে।
সরকারের নেওয়া পরিকল্পনাগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে ‘সবার জন্য নিরাপদ বাসস্থান’ দেশের নাগরিকদের জন্য বাস্তবতায় পরিণত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।
আরও পড়ুন
- প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে টয়োটা তুশো করপোরেশনের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ
- দেশের সব হাসপাতালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জরুরি নির্দেশনা
- আগামী শিক্ষাবর্ষে পাঠ্যক্রমে যুক্ত হচ্ছে ৪ নতুন বিষয়
- পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন ফ্রান্সিস হালজেন
- আবাসন মেলার উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- বিশ্ব বসতি দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী, রোপণ করলেন স্বর্ণচাঁপা
- বিমানের বহরে আসছে ১১ এয়ারবাস, চুক্তি ৭ অক্টোবর
- অস্ট্রেলিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন সেনাপ্রধান