বঙ্গোপসাগরে এলপিজি বহনকারী জাহাজে ভয়াবহ আগুন
রবিবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৪ ১০:২৬ এএম | আপডেট: রবিবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৪ ১২:০০ পিএম
বঙ্গোপসাগরের কুতুবদিয়া পয়েন্টে নোঙর করা এলপিজি বহনকারী লাইটারেজ জাহাজ ‘সুফিয়া’য় অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর জানা যায়নি।
গতকাল শনিবার (১২ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১টার দিকে কুতুবদিয়া পয়েন্টের দক্ষিণে নোঙর করা সুফিয়া নামে ওই জাহাজে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর উদ্ধারকারী দল রোববার (১৩ অক্টোবর) ভোরে পর্যন্ত ওই জাহাজে থাকা ৩১ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছে।
কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গভীর সাগরে নোঙর করা জাহাজে আগুন লাগার বিষয়টি সঠিক। বিষয়টি নিয়ে আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। এ ছাড়া নৌবাহিনী এবং কোস্ট গার্ডকে জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ কোস্টগার্ড পূর্ব জোনের (চট্টগ্রাম) ক্যাপ্টেন মো. জহিরুল হক বলেন, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক কোস্টগার্ড টাগশিপ, তিনটি মেটাল শার্ক অগ্নিনির্বাপণে কাজ করছেন। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার তৎপরতায় রয়েছে কোস্টগার্ড।
নৌপুলিশের ওসি মো. একরামুল হক বলেন, বিষয়টি আমরাও শুনেছি। বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ রেখে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা অব্যাহত রাখছি।
কোস্টগার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার খন্দকার মুনিফ তকির বলেন, গভীর সাগরে নোঙর করা ওই জাহাজে হঠাৎ আগুন জ্বলতে দেখা যায়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়। খবর পেয়ে কোস্টগার্ডের একটি জাহাজ, একটি টাগবোট ও চারটি স্পিডবোট উদ্ধার ও আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। এ ছাড়া আগুন নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের সঙ্গে নৌবাহিনী ও পোর্টের অগ্নিনির্বাপক দলসমূহ যৌথভাবে কাজ করছে। রোববার ভোর পর্যন্ত ওই জাহাজে থাকা ৩১ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি।
এর আগে চট্টগ্রাম নগরের পতেঙ্গায় ইস্টার্ন রিফাইনারির ক্রুড অয়েল বহনকারী বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের দুটি জাহাজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পরপর পৃথক দুটি ঘটনায় বিএসসি নাশকতার আশঙ্কা করছিল।
১২ দিনের ব্যবধানে তিনটি দেশীয় জাহাজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নিঃসন্দেহে অস্বাভাবিক বলে মত বিভিন্ন দেশি-বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজে ক্যাপ্টেন হিসেবে কাজ করা আতিক ইউ খানের। তিনি বলেন, গত ৩০ বছরে এমন কিছু দেখিনি। রোববার (১৩ অক্টোবর) সকালে ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে এ কথা জানান আতিক ইউ খান।
পোস্টে তিনি বলেন, ২৫ বছর বিদেশি জাহাজে ছিলাম। খুবই উঁচুমানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল এবং সেভাবে মেইনটেইন করা হতো। দেশীয় জাহাজে ১২ দিনের মধ্যে পরপর তিনটি জাহাজে অগ্নিকাণ্ড আর বিস্ফোরণ নিঃসন্দেহে খুবই অস্বাভাবিক ঘটনা।
এর আগে গত সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় ‘বাংলার জ্যোতি’ নামে একটি তেলবাহী জাহাজে আগুনের পর বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ সময় তিনজনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
আরও পড়ুন
- রাজশাহীতে সিএনজি-ভটভটির সংঘর্ষ, নিহত ৩
- তুরাগে গ্যাস বিস্ফোরণে নারী-শিশুসহ একই পরিবারের ১০ জন দগ্ধ
- পুরান ঢাকায় গ্যাস লিকেজে আগুন, একই পরিবারের ৩ জন দগ্ধ
- রাজধানীতে গ্যাস বিস্ফোরণে একই পরিবারের ৪ জন দগ্ধ
- চট্টগ্রামে গ্যাস বিস্ফোরণ : শিশুসহ ৯ জন দগ্ধ, সবার অবস্থা আশঙ্কাজনক
- মুন্সীগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ মোটরসাইকেল আরোহী নিহত
- রাজধানীর ওয়ারীতে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দগ্ধ ৮
- মৌচাক ফ্লাইওভারে সিএনজি-মোটরসাইকেল সংঘর্ষ, নিহত ২