1. »
  2. অর্থ বাণিজ্য
আসন্ন জাতীয় নির্বাচন

বিকাশ–নগদ–রকেটে লেনদেন সীমিত করছে সরকার

রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১১:২৫ এএম | আপডেট: রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ০২:২৪ পিএম

বিকাশ–নগদ–রকেটে লেনদেন সীমিত করছে সরকার

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ও ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ লেনদেনে সাময়িক সীমাবদ্ধতা আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর ফলে বিকাশ, নগদ ও রকেটসহ সব মোবাইল ব্যাংকিং সেবায় একজন গ্রাহক দিনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা লেনদেন করতে পারবেন। প্রতিটি লেনদেনের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে এক হাজার টাকা।

এ ছাড়া নির্বাচনের সময় ব্যাংকিং চ্যানেলে ইন্টারনেট ব্যাংকিং ব্যবহার করে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি অর্থ স্থানান্তর সেবা বন্ধ রাখা হবে। আগামী ৮ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এসব সীমাবদ্ধতা কার্যকর থাকবে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে।

ভোটারদের প্রভাবিত করতে অর্থের অপব্যবহার ঠেকাতে নির্বাচন কমিশনের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) এই পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। তা বাস্তবায়নে প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রয়োজনে লেনদেনের সীমায় সামান্য পরিবর্তনও হতে পারে বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে অর্থ লেনদেন সীমিত করার কাজ চলছে। এ বিষয়ে চলতি সপ্তাহেই প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

লেনদেনের বর্তমান ও প্রস্তাবিত সীমা

বর্তমানে বিকাশ, নগদ ও রকেটসহ এমএফএস গ্রাহকেরা দৈনিক সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা এবং মাসে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন করতে পারেন। দিনে সর্বোচ্চ ৫০টি এবং মাসে ১০০টি লেনদেনের সুযোগ রয়েছে।

নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, নির্বাচনী সময় (৮–১৩ ফেব্রুয়ারি) একজন গ্রাহক দিনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা ও সর্বোচ্চ ১০ বার অন্য গ্রাহকের কাছে অর্থ পাঠাতে পারবেন। এই প্রস্তাব বাস্তবায়নে বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ শুরু করেছে।

ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি লেনদেন বন্ধ

বর্তমানে ব্র্যাক ব্যাংকের আস্থা, সিটি ব্যাংকের সিটিটাচ, ইসলামী ব্যাংকের সেলফিন, ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংকের নেক্সাস পে এবং পূবালী ব্যাংকের পাই অ্যাপ ব্যবহার করে ব্যক্তি গ্রাহকেরা প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন করতে পারেন। প্রতিটি লেনদেনের সীমা তিন লাখ টাকা।

নির্বাচনের সময় এই অ্যাপগুলোর মাধ্যমে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি অর্থ স্থানান্তর সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার প্রস্তাব দিয়েছে বিএফআইইউ, যা বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে।

নগদ টাকা উত্তোলনে নজরদারি জোরদার

এরই মধ্যে ১১ জানুয়ারি থেকে নগদ টাকা জমা ও উত্তোলনে তদারকি জোরদার করা হয়েছে। কোনো হিসাবে এক দিনে এক বা একাধিক লেনদেনে ১০ লাখ টাকা বা তার বেশি নগদ জমা বা উত্তোলন হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে বিএফআইইউতে নগদ লেনদেন প্রতিবেদন (সিটিআর) দাখিল করতে হবে।

পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত সিটিআর সাপ্তাহিক ভিত্তিতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন দাখিলে ব্যর্থতা, ভুল বা মিথ্যা তথ্য প্রদান করলে অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, সিটিআরে অস্বাভাবিক লেনদেন শনাক্ত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে হবে। ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।