1. »
  2. অর্থ বাণিজ্য

বিশ্ববাজারে স্বর্ণ ও রুপার দামে বড় পতন

শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:১২ পিএম | আপডেট: শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:১২ পিএম

বিশ্ববাজারে স্বর্ণ ও রুপার দামে বড় পতন

আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবান ধাতু স্বর্ণ ও রুপার দামে আবারও বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। সাম্প্রতিক কয়েক দিনে কিছুটা বাড়লেও শক্তিশালী মার্কিন ডলার এবং বৈশ্বিক শেয়ারবাজারে অস্থিরতার কারণে স্বর্ণ ও রুপার দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৭৩৫ দশমিক ৯৯ ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার মূল্য ২ দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৭৫২ দশমিক ৪০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

রুপার বাজারে পতনের হার আরও বেশি। এদিন রুপার দাম ৩ দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৮ দশমিক ৯৭ ডলারে নেমে এসেছে। এর আগের সেশনেও রুপার দাম প্রায় ১৯ শতাংশ কমেছিল, যা বাজারে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক ইকুইটি বাজারের নিম্নমুখী প্রবণতা এই পতনের অন্যতম কারণ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বিপুল বিনিয়োগ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় বৃহস্পতিবার এমএসসিআইয়ের বৈশ্বিক সূচক ১ শতাংশের বেশি কমেছে। একই সঙ্গে মার্কিন ট্রেজারির চাহিদা বৃদ্ধি এবং পণ্যের বাজারে অস্থিরতা রুপার দামে চাপ সৃষ্টি করেছে।

এছাড়া মার্কিন ডলার বর্তমানে দুই সপ্তাহের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। সাধারণত ডলার শক্তিশালী হলে অন্যান্য মুদ্রার বিপরীতে স্বর্ণের দাম তুলনামূলক ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে, ফলে এর চাহিদা কমে যায় এবং দাম নিম্নমুখী হয়।

মার্কিন শ্রমবাজারের দুর্বল তথ্যও বাজারে প্রভাব ফেলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ডিসেম্বরের শেষে চাকরির সুযোগ প্রায় ৩ লাখ ৮৬ হাজার কমেছে, যা ২০২০ সালের পর সর্বনিম্ন। এই পরিস্থিতি ভবিষ্যতে সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা তৈরি করলেও বর্তমানে শক্তিশালী ডলার স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির সম্ভাবনাকে সীমিত করে রেখেছে।

এদিকে, ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রভাব অন্যান্য মূল্যবান ধাতুতেও পড়েছে। স্পট প্লাটিনামের দাম ৩ দশমিক ৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৯১৬ দশমিক ৪৫ ডলারে নেমেছে, যদিও গত ২৬ জানুয়ারি এটি সর্বোচ্চ উচ্চতায় পৌঁছেছিল। তবে ব্যতিক্রম হিসেবে প্যালাডিয়ামের দাম কিছুটা বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৬৩৮ দশমিক ২৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

সার্বিকভাবে, শক্তিশালী ডলার, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবান ধাতুর দামে এই অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে।