খাটো করার চেষ্টায় বলে শহীদ জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের অনিবার্য চরিত্র : প্রধানমন্ত্রী
শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২৬ ০৮:৪৫ পিএম | আপডেট: শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২৬ ০৯:১৩ পিএম
এমন কোনো আলোচনা-সমালোচনা করা ঠিক হবে না যা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে খাটো করে—বলে সতর্ক করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যানস্বরূপ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীত নিয়ে সবসময় পড়ে থাকলে এক চোখ অন্ধ হয়, আর অতীতকে ভুলে গেলে দু’চোখই অন্ধ হয়ে যায়। অতীতকে ভুলে যাওয়া যাবে না, আবার অতীত নিয়ে এত বেশি চর্চা হয়েছে যা ভবিষ্যতকে বাধাগ্রস্ত করেছে।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের অন্যতম চরিত্র, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা দেখেছি অতীতে জিয়াউর রহমানের এবং দেশের জন্য তার অবদানকে নানাভাবে খাটো করার চেষ্টা করা হয়েছে। এ থেকেই প্রমাণিত হয় যে, জিয়াউর রহমান দেশের মুক্তিযুদ্ধে একজন অনিবার্য চরিত্র।
তিনি বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমান হঠাৎ করে স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি। প্রথম জীবনে প্রেসিডেন্ট জিয়া রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন না; তিনি ছিলেন একজন সামরিক সৈনিক। তিনি যে বাংলাদেশের স্বাধীনতা তাঁর মনে লালন করতেন এবং এর জন্য যে দীর্ঘ মানসিক প্রস্তুতি নিয়েছিলেন, তা তার লিখিত প্রতিফলনে প্রমাণিত।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ১৯৭২ সালের ২৬ মার্চ শহীদ জিয়ার লেখা ‘একটি জাতির জন্ম’ প্রবন্ধটি প্রকাশিত হয়। তখন মুক্তিযুদ্ধ মাত্র শেষ হয়েছিল। সেই সময় একজন মুক্তিযোদ্ধাও এই বইয়ের কোনো বিষয় নিয়ে বিরোধিতা করেননি। এতেই প্রমাণ হয়, শহীদ জিয়া দেশের মুক্তিযুদ্ধের অনবদ্য চরিত্র। পরবর্তীতে প্রবন্ধটি আবারও ১৯৭৪ সালে সাপ্তাহিক বিচিত্রায় প্রকাশিত হয়। তখনও কোনো রাজনৈতিক দল বা মুক্তিযোদ্ধারা কেউ আপত্তি করেননি। সে সময় ক্ষমতাসীন কারা ছিল সবাই জানেন। এটি প্রমাণ করে তাঁর লেখা প্রতিটি শব্দ সঠিক।
১৯৭২ সালের ২৬ মার্চ প্রথম স্বাধীনতা দিবসে দৈনিক বাংলা পত্রিকায় ও ৭৪-এ সাপ্তাহিক বিচিত্রায় প্রকাশিত প্রবন্ধের শেষ পর্বের কিছু লাইন প্রধানমন্ত্রী পাঠ করেন। শহীদ জিয়াউর রহমান প্রবন্ধের শেষে লিখেছেন: "তখন রাত ২টা বেজে পনেরো মিনিট, ২৬ মার্চ ১৯৭১ সাল রক্তের আখরে বাঙালির লিখা একটি দিন। বাংলাদেশের জনগণ চিরদিন স্মরণ রাখবে এই দিনটিকে। স্মরণ রাখবে, ভালোবাসবে, এই দিনটি তারা কখনো ভুলবে না; কোনো দিন না।"
তিনি বলেন, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের যে গৌরবগাঁথা আছে তা নিয়ে আলোচনা হবে, এটাই স্বাভাবিক। তবে আলোচনা-সমালোচনা ও গবেষণার নামে এমন কোনো কিছু করা ঠিক হবে না, যা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে খাটো করে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার সামনে অনেক মুক্তিযোদ্ধা আছেন। যুগের পর যুগ যারা স্বাধীনতার লড়াই করেছেন, তারাই উপলব্ধি করতে পারেন স্বাধীনতার মূল্য কতখানি। স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনিদের দিকে তাকালেই যা বোঝা যায়।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা আমরা ২০২৪-এ হাজার প্রাণের বিনিময়ে রক্ষা করেছি। ৭১ থেকে ২৪ সকল আন্দোলনের একটি মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল স্বাধীন-সার্বভৌম তাবেদারহীন একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের আকাঙ্ক্ষা সীমাহীন হলেও সম্পদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সাধ ও সাধ্যের মধ্যে ফারাক থাকলেও আমি বিশ্বাস করি, ঐক্যবদ্ধভাবে সবাই মিলে দেশের জন্য কাজ করলে স্বনির্ভর বাংলাদেশ গঠন সম্ভব।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার আপনাদের নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার, আপনাদের সরকার। তাই জনগণের জীবনমান উন্নয়নে আমরা পদক্ষেপ গ্রহণ করছি। ইতিমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন, বৃক্ষরোপণ, কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
সকলে ভালো থাকার অঙ্গীকার করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের এই স্বাধীনতা দিবসের অঙ্গীকার এমন হোক যে কোনো নির্দিষ্ট অংশ নয়, সব শ্রেণিপেশার মানুষ একত্রে ভালো থাকবে। আমরা একসঙ্গে সহঅবস্থান করে খারাপকে দূরে রেখে ভালোকে কাছে টেনে নিয়ে ভালো থাকার চেষ্টা করি। এই হোক আমাদের স্বাধীনতা দিবসের অঙ্গীকার, প্রত্যাশা, প্রতিজ্ঞা-শপথ।
এর আগে দুপুর ৩টায় পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াতের মাধ্যমে স্বাধীনতা দিবসের আলোচনা শুরু হয়। দোয়া পরিচালনা করেন জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের সভাপতি মাওলানা নেসারুল হক।
স্বাধীনতা দিবসের এই আলোচনা সভায় বিএনপির সিনিয়র নেতারা বক্তব্য রাখেন—বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং সালাহউদ্দিন আহমদ।
আরও পড়ুন
- ৩ লাখ টন জ্বালানি কেনার অনুমোদন দিল সরকার
- দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে তৃতীয় দিনের উদ্ধার অভিযান শুরু
- স্বাধীনতা দিবসে বাংলাদেশকে পাকিস্তানের শুভেচ্ছা
- দেড় যুগ পর স্বাধীনতা দিবসে বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত
- জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার মাজারে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
- উত্তরা-বনানীসহ চার থানায় ওসি বদলি
- ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে সরকারের উদ্যোগ
- বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করলেন প্রধানমন্ত্রী