1. »
  2. জাতীয়

যুদ্ধবিরতির কয়েক ঘণ্টা পরই আবার হরমুজ প্রণালি বন্ধ

বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১০:২৮ এএম | আপডেট: বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১০:২৮ এএম

যুদ্ধবিরতির কয়েক ঘণ্টা পরই আবার হরমুজ প্রণালি বন্ধ

বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার আশার মধ্যেই নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় বন্ধ করে দিয়েছে দেশটি।

বুধবার (৮ এপ্রিল) লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলার প্রতিবাদে এই সিদ্ধান্ত নেয় ইরান। দেশটির আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফারস নিউজ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এর আগে সকালে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, ইরানের বিরুদ্ধে বোমা হামলা দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। এর কিছুক্ষণ পরই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি পাল্টা যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়ে সব সামরিক ইউনিটকে হামলা বন্ধের নির্দেশ দেন।

যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে দুটি তেলবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হলেও, লেবাননে হামলা শুরু হতেই ইরান দ্রুত সব নৌ চলাচল আবার বন্ধ করে দেয়।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সংকটের মূল কারণ যুদ্ধবিরতির আওতা নিয়ে অস্পষ্টতা। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে শাহবাজ শরিফ দাবি করেছিলেন, এই চুক্তির আওতায় লেবানন ফ্রন্টও অন্তর্ভুক্ত থাকবে—অর্থাৎ ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার সংঘর্ষও বন্ধ থাকার কথা ছিল।

তবে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানায়, যুদ্ধবিরতি কেবল ইরানের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। এরই ধারাবাহিকতায় তারা লেবাননে হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তুতে বড় ধরনের বিমান হামলা চালায়।

এই হামলার জেরে ক্ষুব্ধ হয়ে ইরান আবার হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করে। ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বর্তমানে শত শত তেল ও গ্যাসবাহী ট্যাংকার ভারত মহাসাগরে আটকা পড়ে আছে বলে জানা গেছে।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের সঙ্গে জরুরি ফোনালাপে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছেন। তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, লেবাননে হামলা বন্ধ না হলে তারা শান্তিচুক্তি থেকে পুরোপুরি সরে দাঁড়াবে এবং পাল্টা জবাব দেবে।

সব মিলিয়ে, বহুল আলোচিত এই যুদ্ধবিরতি এখন অনিশ্চয়তার মুখে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও ভূরাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।