জ্বালানি তেল সরবরাহ বাড়াল সরকার
রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১১:০২ এএম | আপডেট: রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১১:০২ এএম
দেশে জ্বালানি তেলের বাজারে সৃষ্ট অস্বাভাবিক চাপ সামাল দিতে আজ থেকে সরবরাহ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, ডিজেল, অকটেন ও পেট্রোলে বাড়তি বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে অকটেনের সরবরাহ ২০ শতাংশ এবং পেট্রোল ও ডিজেল ১০ শতাংশ করে বাড়ানো হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি চাহিদা তৈরি হয়েছে। অথচ সরবরাহ এতদিন দেওয়া হচ্ছিল গত বছরের গড় হিসেবে। ফলে বাড়তি চাহিদা পূরণ না হওয়ায় বাজারে সংকট দেখা দেয়। এ অবস্থায় জেলা প্রশাসনের সহায়তায় পাম্পভিত্তিক নতুন বরাদ্দ নির্ধারণ করা হচ্ছে, যাতে প্রকৃত চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়।
দেশের মোট জ্বালানি ব্যবহারের প্রায় ৬৩ শতাংশই ডিজেল। চলতি এপ্রিলে ডিজেলের চাহিদা প্রায় চার লাখ টন। বর্তমানে কার্যকর মজুত রয়েছে প্রায় ১ লাখ ২ হাজার টন। এর সঙ্গে আরও চারটি জাহাজে এক লাখ টনের বেশি ডিজেল যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য আলাদা করে প্রায় ৮০ হাজার টন মজুত রাখা আছে। সরবরাহ সীমিত থাকায় এ মাসে দৈনিক গড় বিক্রি কমে ১১ হাজার ১০৭ টনে নেমে এলেও আজ থেকে তা বাড়িয়ে প্রায় ১৩ হাজার টনে উন্নীত করা হচ্ছে। গত বছরের একই সময়ে দৈনিক গড় বিক্রি ছিল ১১ হাজার ৮৬২ টন।
অকটেনের ক্ষেত্রে সরাসরি ঘাটতি না থাকলেও চাহিদার চাপ বেশি। বর্তমানে দেশে প্রায় ২৯ হাজার ৪৮৪ টন অকটেন মজুত রয়েছে, যা প্রায় ২৫ দিনের চাহিদা পূরণে সক্ষম। তবুও ভোক্তা পর্যায়ে চাপ কমাতে দৈনিক সরবরাহ ১ হাজার ১২৯ টন থেকে বাড়িয়ে প্রায় ১ হাজার ৩৬৬ টনে নেওয়া হচ্ছে, অর্থাৎ অতিরিক্ত ২৩৭ টন যোগ করা হচ্ছে।
পেট্রলের ক্ষেত্রেও সরবরাহ বাড়ানো হচ্ছে। বর্তমানে মজুত রয়েছে প্রায় ১৮ হাজার ৮৩০ টন। এপ্রিলে দৈনিক গড়ে ১ হাজার ২৫৩ টন বিক্রি হলেও এতে আরও ১৩৭ টন যুক্ত করা হচ্ছে।
জ্বালানি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, স্বাভাবিকভাবে বছরে চাহিদা ৪ থেকে ৫ শতাংশ বাড়ে। কিন্তু আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ও আতঙ্কজনিত অতিরিক্ত কেনাকাটার কারণে এবার চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। তাই বাস্তব চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ বাড়িয়ে বাজার স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে দেশের বাজারে দাম নির্ধারণ করায় সরকারকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতি।
সংগঠনটির সদস্য সচিব মীর আহসান উদ্দিন পারভেজ বলেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে অপ্রয়োজনীয় মজুত প্রবণতা কমবে এবং বিক্রয় ব্যবস্থায় আরও স্বচ্ছতা আসবে বলে তারা আশা করছেন।
আরও পড়ুন
- ভারত থেকে ডিজেল পাম্পিং শুরু
- বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান আর নেই
- বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন
- জ্বালানি সরবরাহে স্বস্তির ইঙ্গিত, দেশে আসছে আরও ৫ জাহাজ
- দেশের বাজারে কমল স্বর্ণের দাম
- যুদ্ধবিরতির প্রভাবে তেলের বাজারে বড় ধাক্কা, দাম কমলো ১৬ শতাংশ
- জ্বালানি চাহিদা মেটাতে ডিজেল-অকটেন আমদানির অনুমোদন
- বিকল্প পথে দেশে আসছে আরও এক লাখ মেট্রিক টন জ্বালানি তেল