1. »
  2. আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ড উচ্চতায় পেট্রোলের দাম, যুদ্ধ শেষে কমবে বলছেন ট্রাম্প

শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬ ১০:৫৮ এএম | আপডেট: শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬ ১০:৫৮ এএম

যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ড উচ্চতায় পেট্রোলের দাম, যুদ্ধ শেষে কমবে বলছেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম নতুন রেকর্ড ছুঁয়েছে। আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের (এএএ) তথ্য অনুযায়ী, প্রতি গ্যালন পেট্রোলের দাম এখন ৪ দশমিক ৩০ ডলারে পৌঁছেছে, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১ দশমিক ১২ ডলার বেশি। 

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে এই দাম ছিল ৩ ডলারেরও নিচে। গত এক সপ্তাহেই জ্বালানির দাম বেড়েছে ২৭ সেন্ট। 

বিশেষজ্ঞরা এর পেছনে মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন ইরানের হরমুজ প্রণালি অবরোধ এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের বন্দরগুলোতে আরোপিত নৌ অবরোধকে। তেলের দাম ইতোমধ্যে প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। 

গত চার বছরে এত উচ্চমূল্য আর দেখা যায়নি — সর্বশেষ ২০২২ সালের জুলাইয়ে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। ক্যালিফোর্নিয়ায় পরিস্থিতি আরও নাজুক — প্রায় চার কোটি মানুষের এই রাজ্যে দাম প্রতি গ্যালনে ৬ ডলারও ছাড়িয়ে গেছে।

এই পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, সময় তার পক্ষেই আছে এবং যুদ্ধ শেষ হলেই জ্বালানির দাম হঠাৎ করে কমে আসবে। তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন কথা বলছে। ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম বাড়তেই থেকেছে বলে জানিয়েছে আলজাজিরা।

ট্রাম্প একই সঙ্গে ইরানের দেওয়া প্রাথমিক চুক্তি প্রস্তাব — যেখানে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল — প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি দাবি করেন, ইরান সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে প্রায় পরাজিত এবং চুক্তি করতে মরিয়া। পাশাপাশি তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। উল্লেখ্য, ইরান সব সময়ই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

অন্যদিকে তেহরান তার অবস্থানে অনড়। ইরান জানিয়েছে, নৌ অবরোধ প্রত্যাহার না করলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো সরাসরি আলোচনায় বসা হবে না। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, 

চলমান 'না যুদ্ধ, না শান্তি' পরিস্থিতিতে ইরানের ধৈর্যের সীমা ফুরিয়ে আসছে এবং নৌ অবরোধের নামে চলা এই দমনমূলক আচরণ আর মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।

সূত্র: আলজাজিরা