জুয়া প্রতিরোধে সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রেখে আইন পাস
মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬ ০৬:২৪ পিএম | আপডেট: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬ ০৬:২৪ পিএম
জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’। নতুন এই আইনের মাধ্যমে প্রায় দেড়শ বছরের পুরোনো ব্রিটিশ আমলের ‘দ্য পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট, ১৮৬৭’ রহিত করা হয়েছে। আইনে জুয়া, অনলাইন জুয়া, দূরবর্তী জুয়া, বেটিং, বাজিকর, ম্যাচ ফিক্সিং, স্পট ফিক্সিং, ডিজিটাল গ্যাম্বলিং প্ল্যাটফর্ম, ডিজিটাল ওয়ালেট, ক্রিপ্টোকারেন্সি, ভুয়া সিম, ঘোস্ট সিম, ভুয়া এমএফএস অ্যাকাউন্ট, মিরর সাইট ও ভিপিএনসহ মোট ২৪ ধরনের বিষয়কে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।
গত ২৩ জুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জাতীয় সংসদে বিলটি উত্থাপন করেন। পরে পরীক্ষা করে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য বিলটি আইন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। কমিটির সুপারিশের পর মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেড়শ বছরেরও বেশি পুরোনো বিদ্যমান আইন বর্তমান সময়ের প্রযুক্তিনির্ভর জুয়া মোকাবিলায় আর যথেষ্ট নয়। সংবিধানের ১৮(২) অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রকে জুয়া নিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ২০১৮ সালের জেলা প্রশাসক সম্মেলনে আইনটি যুগোপযোগী করে শাস্তির পরিমাণ বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছিল।
তিনি বলেন, অনলাইন জুয়া, স্পোর্টস বেটিং, ভার্চুয়াল ক্যাসিনো, ক্রিপ্টোকারেন্সিভিত্তিক জুয়া, ভুয়া সিম, ভুয়া এমএফএস অ্যাকাউন্ট, বায়োমেট্রিক জালিয়াতি, ভিপিএন ও ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে সংঘটিত জুয়া, অর্থপাচার ও প্রতারণা দেশের সামাজিক শৃঙ্খলা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, জননিরাপত্তা ও তরুণ সমাজের জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে উঠেছে, যা মোকাবিলায় আধুনিক ও সমন্বিত আইন প্রয়োজন।
নতুন আইনের দ্বিতীয় অধ্যায়ে মোট ১৪ ধরনের অপরাধ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ততা, অনলাইন বা দূরবর্তী জুয়া পরিচালনা, অনলাইন বেটিং, জুয়ার স্থান পরিচালনা বা ব্যবহার, জুয়ার সামগ্রী প্রস্তুত-সংরক্ষণ-বিক্রি-বিতরণ, বাজিকর হিসেবে কার্যক্রম, ম্যাচ ও স্পট ফিক্সিং, জুয়ার বিজ্ঞাপন ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা, ভিপিএন-প্রক্সি-মিরর সাইট ব্যবহার করে জুয়া পরিচালনা, ভুয়া সিম-এমএফএস অ্যাকাউন্ট-বায়োমেট্রিক জালিয়াতির মাধ্যমে জুয়া এবং জুয়ার অর্থ লেনদেন, অর্থপাচার ও ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার।
সাধারণ জুয়ার অপরাধে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড বা দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। অনলাইন বা দূরবর্তী জুয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড ও এক কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড, আর অনলাইন বেটিংয়ের জন্য সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড ও পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। জুয়ার স্থান পরিচালনা বা ব্যবহারের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড, চার লাখ টাকা অর্থদণ্ডের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ভবন, যানবাহন বা সার্ভার অবকাঠামো বাজেয়াপ্তের ক্ষমতাও রাখা হয়েছে।
জুয়ার সামগ্রী সংরক্ষণ বা ব্যবহারের জন্য সর্বোচ্চ তিন বছর কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং সামগ্রী বাজেয়াপ্ত বা ধ্বংসের নির্দেশ দেওয়ার বিধান রয়েছে। বাজিকর হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড ও পাঁচ কোটি টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
আরও পড়ুন
- প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বাজেট পরবর্তী নৈশভোজ বাতিল, সাশ্রয় ৫০ লাখ টাকা
- হাসিনার বক্তব্য প্রচার বন্ধে আদালতের নির্দেশনা মানছে না কিছু গণমাধ্যম: তথ্য উপদেষ্টা
- ন্যায়ভিত্তিক অর্থনৈতিক কাঠামো গড়াই বাজেটের মূল লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী
- প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে 'VEON'এর চেয়ারম্যানের সৌজন্য সাক্ষাৎ
- পাঁচ দিনের সফরে চেক রিপাবলিক ও স্লোভাকিয়া গেলেন সেনাপ্রধান
- অবসরভাতা বিতরণ বোর্ডে সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি : শিক্ষামন্ত্রী
- মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘স্পারসো’ আকস্মিক পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- মালয়েশিয়া-চীন সফরে কোনো ব্যক্তিগত নয়, এটি দেশের অর্জন: প্রধানমন্ত্রী