ঢাকা মেডিকেলের ৮০ বছর পূর্তিতে ক্যাম্পাসে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা
বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬ ১১:৩৫ এএম | আপডেট: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬ ০৪:২২ পিএম
ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ৮০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে আগামী শনিবার, ১১ জুলাই প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শনে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ উপলক্ষে ক্যাম্পাসজুড়ে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি, বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের ‘২০ হোস্টেল প্রকল্প’-এর আওতায় দু’টি ছাত্রী হোস্টেলের নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে। এ ছাড়া তিনি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও একটি আলোচনা সভায় অংশ নেবেন। প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী ডা. জুবাইদা রহমানও এ সময় উপস্থিত থাকবেন।
বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা এই পরিদর্শনকে একটি মিলনমেলার সঙ্গে তুলনা করছেন। তাদের ভাষ্যে, প্রধানমন্ত্রীর আগমনে পুরো ডিএমসিয়ান পরিবার উচ্ছ্বসিত, এবং এ সফরের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তারা আশাবাদী।
এমবিবিএস পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থী মো. সাকিবুল হাসান বাসসকে জানান, নিজ ক্যাম্পাসে প্রধানমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে তারা স্বাস্থ্যখাতের সমস্যাগুলো সরাসরি তুলে ধরার সুযোগ পাবেন এবং প্রধানমন্ত্রী তা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবেন বলে তারা বিশ্বাস করেন।
বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ও ঢামেক ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম বাসসকে বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান ও ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ঢাকা মেডিকেল কলেজের অবদান ছিল অবিস্মরণীয়। তিনি জানান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এ প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়নে বহু পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছিলেন, আর সেই ধারাবাহিকতাতেই তারেক রহমানের এই সফর।
যুবদলের স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ও ঢামেক শাখা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ডা. বেলাল হোসেন নাজিম বলেন, দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে প্রধানমন্ত্রীর নিরলস কাজ করার অঙ্গীকার অনুপ্রেরণাদায়ক, এবং তার এই আগমন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, চিকিৎসক ও কর্মকর্তাদের উৎসাহিত করবে।
ঢামেক ছাত্র সংসদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও কার্ডিওলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. মাহমুদুর রহমান নোমান জানান, এই আগমন ডিএমসিয়ানদের জন্য গৌরব ও নতুন আশার বার্তা বয়ে আনবে এবং তরুণ প্রজন্মকে দায়িত্বশীল নেতৃত্বে উদ্বুদ্ধ করবে। তিনি স্মরণ করেন, ২০০১-০২ সালে ঢামেকসুর সাধারণ সম্পাদক থাকাকালে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের কর্মস্পৃহা তাকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল।
ঢামেক শাখা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ডা. বাদশা বলেন, দেশের সর্ববৃহৎ চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবেই শুধু নয়, প্রতিটি জাতীয় সংকট ও দুর্যোগে মানুষের আস্থার প্রতীক হিসেবেও ঢাকা মেডিকেল কলেজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। প্রতিষ্ঠানের সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে তিনি প্রধানমন্ত্রী ও তার সহধর্মিণীর এই পরিদর্শনকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানান, এবং আশা প্রকাশ করেন যে এ সফরে চিকিৎসা, শিক্ষা, গবেষণা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন আরও গতি পাবে।
১৯৪৬ সালের ১০ জুলাই প্রতিষ্ঠিত ঢাকা মেডিকেল কলেজ রাজধানীতে অবস্থিত একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ, যা দেশের অন্যতম শীর্ষ চিকিৎসাবিজ্ঞান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচিত। এখানে পাঁচ বছর মেয়াদি স্নাতক (এমবিবিএস) কোর্সের পাশাপাশি স্নাতকোত্তর পর্যায়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি প্রদান করা হয়।
সূত্র: বাসস
আরও পড়ুন
- ধানের শীষ হাতে দাঁড়ানো নিরাপত্তাকর্মীর জন্য প্রধানমন্ত্রীর মানবিক উপহার
- প্রশ্নফাঁস ও ডিজিটাল কারসাজি ঠেকাতে সংসদে নতুন আইন পাস
- সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া আকস্মিক পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী
- উন্নয়ন হতে হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক, ন্যায়সঙ্গত ও পল্লীকেন্দ্রিক: মির্জা ফখরুল
- শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়াতে ও শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়নে কাজ করছে সরকার: প্রতিমন্ত্রী
- প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে 'আইএপিবি' প্রধান নির্বাহীর সৌজন্য সাক্ষাৎ
- প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ
- পিজিআরের সদস্যদের ত্যাগ চিরকাল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে: প্রধানমন্ত্রী