বিশ্ববাজারে কমল স্বর্ণের দাম
বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬ ০৫:৫৫ পিএম | আপডেট: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬ ০৫:৫৫ পিএম
আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৪৫ ডলার ৫৯ সেন্ট।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টা ১৪ মিনিট পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ডের মুনাফা (ইল্ড) বৃদ্ধি এবং ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শের মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত মন্তব্যের প্রভাবে এই দরপতন হয়েছে।
এর আগের দিন স্বর্ণের দাম সর্বোচ্চ ২ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছিল। তবে আগস্ট মাসের ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণ ফিউচার শূন্য দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে লেনদেন হয়েছে ৪ হাজার ৪৩ ডলার ৭০ সেন্টে। বেঞ্চমার্ক ১০ বছর মেয়াদি যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি নোটের মুনাফা বেড়ে যাওয়ায় সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণ ধারণের ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে, ফলে বিনিয়োগকারীদের কাছে এর আকর্ষণ কিছুটা কমেছে।
এএনজেডের বিশ্লেষক সোনি কুমারী বলেন, মূল্যস্ফীতির আশঙ্কায় সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হলে ট্রেজারি ইল্ডও বাড়ে, আর সেটিই বর্তমানে স্বর্ণের দামে চাপ সৃষ্টি করছে।
বুধবার ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার অপরিবর্তিত রাখে এবং ফেড প্রধান কেভিন ওয়ার্শ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন, যা ভবিষ্যৎ নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। উচ্চ সুদের পরিবেশে সুদবিহীন সম্পদ হওয়ায় স্বর্ণের চাহিদা সাধারণত কমে যায়, যদিও একে মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবেই বিবেচনা করা হয়।
সিএমই গ্রুপের ফেডওয়াচ টুল অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা নীতিগত সিদ্ধান্তের আগে প্রায় ৮১ শতাংশ থাকলেও তা এখন কমে ৬৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জুন মাসের পার্সোনাল কনজাম্পশন এক্সপেন্ডিচার (পিসিই) মূল্যসূচকের তথ্য প্রকাশের অপেক্ষায় আছেন বিনিয়োগকারীরা, যা ফেডের মূল্যস্ফীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়।
ভূরাজনৈতিক অস্থিরতাও বাজারে প্রভাব ফেলছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, বুধবার তারা ইরানে নতুন করে হামলা চালিয়েছে, যাতে পাঁচ মাস ধরে চলা সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের অতিরিক্ত দেশগুলোকে জড়িয়ে বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা বেড়েছে। টিডি সিকিউরিটিজের বিশ্লেষকদের মতে, গ্রীষ্মজুড়ে তেলের দাম বাড়ার চাপ থাকায় স্বর্ণের দাম ধীরে ধীরে প্রতি আউন্স ৩ হাজার ৯০০ ডলারের দিকে নেমে যেতে পারে।
স্পট মার্কেটে রুপার দাম শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ কমে ৫৭ ডলার ৪৯ সেন্ট এবং প্লাটিনামের দাম ১ শতাংশ কমে ১ হাজার ৫৯৫ ডলার ৩৮ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। তবে প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে পৌঁছেছে ১ হাজার ২৫৫ ডলার ৬৭ সেন্টে।
সূত্র: রয়টার্স