মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে যুদ্ধ,যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি এফ-৩৫ ধ্বংসের দাবি ইরানের
শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬ ০৯:৪৯ এএম | আপডেট: শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬ ০৯:৪৯ এএম
পাঁচ দিনের বিরতি ভেঙে ইরানে ফের বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার রাতের এই হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে দেশটিতে। জবাবে কুয়েত ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান। একই সময়ে গাজা, লেবানন ও সিরিয়ায় নতুন করে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এতে সংঘাত এখন মধ্যপ্রাচ্যের বড় একটি অংশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, আর পাল্টাপাল্টি হুমকিতে পরিস্থিতি হয়ে উঠেছে আরও জটিল।
শুধু যুক্তরাষ্ট্র-ইরান নয়, সংঘাতের আঁচ লেগেছে আরও কয়েকটি দেশে। বুধবার প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথভাবে ইরাকে হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব। ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীর হামলার মুখেও পড়েছে দেশটি। একই দিন মিসরের বন্দরে হামলার শিকার হয়েছে দুটি জাহাজ। জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ দুই নৌপথ— হরমুজ ও বাব আল-মানদেব প্রণালি ঘিরেও চলছে উত্তেজনা।
অথচ কিছুদিন আগেই পরিস্থিতি স্বাভাবিকের দিকে যাচ্ছিল বলে মনে হচ্ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেও বলেছিলেন, আলোচনা ভালোভাবে এগোচ্ছে; ইরানও জানিয়েছিল আলোচনার আগ্রহের কথা। কিন্তু নতুন করে শুরু হওয়া পাল্টাপাল্টি হামলা সেই কূটনৈতিক উদ্যোগ ভেস্তে যাওয়ারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের ভাষ্য, জর্ডানে একটি মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই বুধবার রাত থেকে নতুন করে ইরানে হামলা শুরু হয়। আরও অভিযানের প্রস্তুতি হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে ৫০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। হামলা শুরুর আগে ফক্স নিউজকে ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের ওপর কঠোর হামলা চালানো হবে এবং তারা কঠিন শাস্তি পাবে। হামলার পর ইরানের আইআরজিসি জানিয়েছে, মার্কিন হুমকি যত দিন থাকবে, তত দিন নিজেদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সবকিছুই করবে তেহরান।
ইরানি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় কেশম দ্বীপে তিন বেসামরিক নাগরিক এবং জানজান প্রদেশে আইআরজিসির তিন সদস্য নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া বুশেহর, জাম, খোরমোজ, আহভাজ, ফারস প্রদেশের বিভিন্ন এলাকা, বন্দর আব্বাস ও কিশ দ্বীপও হামলার শিকার হয়েছে।
মার্কিন হামলার জবাবে কুয়েত ও জর্ডানে ব্যাপক হামলা চালায় ইরানি বাহিনী, যা বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। উপসাগরীয় জোট জিসিসি এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে। আইআরজিসির দাবি, কুয়েতের আলী-আল-সালেম ঘাঁটিতে হামলায় দুটি ড্রোন হ্যাঙ্গার ও একটি জ্বালানি ট্যাংক ধ্বংস হয়েছে। কুয়েত সরকার জানিয়েছে, এই হামলায় একটি চীনা প্রতিষ্ঠানের ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে এক শ্রমিক নিহত হয়েছেন।
জর্ডানের আল-আজরাক বিমানঘাঁটিতেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে আইআরজিসি। বাহিনীটির ভাষ্য, এই হামলায় তিনটি মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ধ্বংস এবং আরও তিনটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে মার্কিন বাহিনী এই দাবি নাকচ করেছে।
বুধবার রাতে দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন গ্রামে ইসরায়েলি হামলার বিস্ফোরণ শোনা গেছে উপকূলীয় টায়ার শহর পর্যন্ত। আল-মানসুরি, মাজদাল জৌন ও মাজরাত বুয়ুত আল-সিয়াদ গ্রামে ভোর পর্যন্ত বোমাবর্ষণ চালানো হয় বলে জানিয়েছে লেবাননের সংবাদ সংস্থা। সিরিয়ার কুনেইতরা এলাকাতেও হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল।
এদিকে গাজায় ইসরায়েলি অভিযান অব্যাহত থাকায় বৃহস্পতিবার আরও ছয়টি মরদেহ হাসপাতালে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে উপত্যকাটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এ নিয়ে ইসরায়েলি অভিযানে গাজায় মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৩ হাজার ৩৪১ জনে।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস দীর্ঘদিন ধরেই আশঙ্কা প্রকাশ করে আসছিলেন, আলোচনায় না ফিরলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে। বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে তাঁর মুখপাত্র ফারহান হক জানান, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ সেই আশঙ্কাকেই সত্যি প্রমাণ করছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান কুইন্সি ইনস্টিটিউটের গবেষক ত্রিতা পার্সি মন্তব্য করেছেন, হামলা চালিয়েও ইরানকে আলোচনায় ফেরাতে ব্যর্থ হয়েছেন ট্রাম্প, আর এই মুহূর্তে প্রতিশোধ ছাড়া তাঁর অন্য কোনো লক্ষ্য দেখছেন না তিনি।
আরও পড়ুন
- কঙ্গোতে ইবোলায় মৃত্যু ছাড়াল দেড় হাজার, নিয়ন্ত্রণ ছাড়িয়ে যাওয়ার শঙ্কা
- বাংলাদেশের ভ্রমণ সতর্কতায় বড় পরিবর্তন আনল যুক্তরাষ্ট্র
- বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানালেন আমিরাতের প্রেসিডেন্ট, শিগগিরই ঢাকা সফরের আগ্রহ
- বিরতি ভেঙে ইরানে ফের মার্কিন হামলা শুরু
- রাশিয়া-ইউক্রেন পাল্টাপাল্টি হামলায় নিহত অন্তত ১০
- যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলে গুলিতে নিহত ২, আহত ৫
- ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের মজুত সংকটে থমকে গেছে ইরানে মার্কিন হামলা
- সিরিয়ায় দুই বাসের সংঘর্ষে নিহত ৩৫