বিমান বহরে যুক্ত হচ্ছে ২৪ উড়োজাহাজ, ডিসেম্বরেই তৃতীয় টার্মিনাল চালু
শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬ ০১:৫৪ পিএম | আপডেট: শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬ ০১:৫৪ পিএম
বাংলাদেশের বিমানবন্দরগুলোতে নতুন সেবা-সংস্কৃতি গড়ে তোলা, জাতীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থার আধুনিকায়ন এবং দেশকে একটি আঞ্চলিক এভিয়েশন হাবে রূপান্তরের লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার।
বাসসকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এ কথা জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম। তিনি বলেন, "আমরা শুধু সমস্যা সমাধান করছি না; বিমানবন্দরগুলোতে একটি নতুন সেবাসংস্কৃতি গড়ে তুলছি।"
মন্ত্রী জানান, লাগেজ ব্যবস্থাপনা, বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনা ও ইমিগ্রেশন সেবা নিয়ে যাত্রীদের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে ইতিমধ্যে দেশের তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আচরণবিধি চালু করা হয়েছে এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা মাঠপর্যায়ে নিয়মিত তদারকি করছেন।
লাগেজ নিরাপত্তায় ভিজিল্যান্স টিম, বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরা, সিসিটিভি নজরদারি ও ব্যাগেজ রিকনসিলিয়েশন সিস্টেম চালুর পাশাপাশি লাগেজ সরবরাহের সময়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ, আধুনিক গ্রাউন্ড-হ্যান্ডলিং যন্ত্রপাতি ও অতিরিক্ত জনবলের পাশাপাশি ইমিগ্রেশন-কাস্টমস-এয়ারলাইন্সের মধ্যে সমন্বয়ও জোরদার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
বিমান খাত সম্প্রসারণের প্রধান উদ্যোগ হিসেবে জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর আধুনিকায়নের কথা তুলে ধরেন আফরোজা খানম।
তিনি জানান, বহরে নতুন ২৪টি উড়োজাহাজ যুক্ত হবে— এর মধ্যে ১৪টি বোয়িং ও ১০টি এয়ারবাস। ধাপে ধাপে এসব উড়োজাহাজ যুক্ত করে বিমানকে একটি আধুনিক মিশ্র বহরের আন্তর্জাতিক মানের এয়ারলাইন্সে রূপান্তর করা হবে।
পাশাপাশি চলতি বছর পাঁচটি উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার উদ্যোগের আওতায় ইতিমধ্যে ৪০টি প্রতিষ্ঠান আবেদন জমা দিয়েছে। সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় ২০৩৪-৩৫ অর্থবছরের মধ্যে বহরকে ৪৭টি উড়োজাহাজে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে সুশাসন, ব্যবসায়িক কৌশল ও সেবার রূপান্তর— এই তিন ভিত্তিতে ব্যাপক সংস্কার চলছে, যেখানে মেধাভিত্তিক নিয়োগ ও জবাবদিহিতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। লাভজনক রুট শক্তিশালী করার পাশাপাশি বাহরাইন, মালে, জাকার্তা, সিউল, সিডনি, কুনমিং ও নিউইয়র্কসহ নতুন গন্তব্যে ফ্লাইট চালুর সম্ভাবনাও পর্যালোচনা করা হচ্ছে, তবে তা নির্ভর করবে বাণিজ্যিক সম্ভাবনা, বাজার চাহিদা ও নিয়ন্ত্রক অনুমোদনের ওপর।
আফরোজা খানম জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী ১৬ ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার।
তিনি বলেন, "তৃতীয় টার্মিনাল শুধু আরেকটি টার্মিনাল নয়; এটি বাংলাদেশের বিমান পরিবহন খাতে এক যুগান্তকারী অগ্রগতি।"
বিমান পরিবহনের পাশাপাশি বাংলাদেশকে প্রতিযোগিতামূলক পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতেও কাজ করছে সরকার। ভিসা নীতিমালা-২০২৬-এর আওতায় ভিসা প্রক্রিয়া আধুনিকায়ন ও ধাপে ধাপে ই-ভিসা চালুর পাশাপাশি মেডিকেল ট্যুরিজম, মেডিকেল অ্যাটেনড্যান্ট ও রিলিজিয়াস ট্যুরিস্ট ভিসা চালুর প্রস্তাব রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
এ ছাড়া ইকো-ট্যুরিজম, কমিউনিটিভিত্তিক পর্যটন, জলভিত্তিক পর্যটন ও রন্ধনশৈলীভিত্তিক পর্যটনের মতো বিশেষায়িত খাত সম্প্রসারণেও কাজ চলছে।
আফরোজা খানম আশা প্রকাশ করেন, আগামী এক বছরের মধ্যেই মানুষ তৃতীয় টার্মিনাল চালু, বিমানবন্দরের সেবার মানোন্নয়ন, ডিজিটালাইজেশন ও পর্যটনে বাংলাদেশের শক্তিশালী ব্র্যান্ডিংয়ে দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখতে পাবেন। ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে নিরাপদ, আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের বিমান পরিবহন ও পর্যটন গন্তব্যে পরিণত করাই সরকারের চূড়ান্ত লক্ষ্য বলে জানান তিনি।
সূত্র: বাসস
আরও পড়ুন
- যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা শিপারকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন
- রাতের আঁধারে উত্তর সিটির বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী
- বন্ধ শিল্পকারখানা চালুর প্রক্রিয়া ২০২৬ সালের মধ্যেই শেষ করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
- প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সমাজ পরিবর্তনের আশা জাগাচ্ছেন : মির্জা ফখরুল
- ঢাকা পৌঁছেছেন মার্কিন বিশেষ দূত সার্জিও গর
- দেশকে এগিয়ে নিতে ১৮ ঘণ্টা কাজ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী : মির্জা ফখরুল
- রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তারিখ ঠিক হয়নি, তবে যেকোনো সময় প্রস্তুত ইসি: সিইসি
- বঙ্গভবনে দাফতরিক কার্যক্রম শুরু করলেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন