1. »
  2. ধর্ম

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) আজ

বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬ ০৯:৪৪ এএম | আপডেট: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬ ০৯:৪৪ এএম

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) আজ

আজ বুধবার পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম ও ওফাতের পুণ্যস্মৃতিবিজড়িত এই দিনে সারাদেশে পালিত হচ্ছে সাধারণ সরকারি ছুটি।

হিজরি সনের ১২ রবিউল আউয়াল মুসলিম বিশ্বে ঈদে মিলাদুন্নবী হিসেবে পালিত হয়। প্রায় ১,৪০০ বছর আগে ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে এই দিনে মক্কার কুরাইশ বংশে জন্মগ্রহণ করেন আখেরি নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)। আবার ৬৩২ খ্রিস্টাব্দের একই দিনে ৬৩ বছর বয়সে তিনি ওফাত লাভ করেন। জন্মের আগেই পিতৃহীন হওয়া এবং অল্প বয়সে মা ও দাদাকে হারানো নবী করিম (সা.) ৪০ বছর বয়সে ৬১০ খ্রিস্টাব্দে নবুয়ত লাভ করেন এবং পরবর্তী ২৩ বছর আল্লাহর বাণী প্রচারে ব্যয় করেন।

দিনটি উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে মহানবীর (সা.) আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে হিংসা-বিদ্বেষ পরিহার করে শান্তি ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ার আহ্বান জানান এবং দেশবাসী ও বিশ্বের মুসলমানদের শুভেচ্ছা জানান। 

প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, মহানবীর (সা.) জীবনাদর্শ অনুসরণ করে ন্যায়, দায়িত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়া সম্ভব। তিনি মহানবীর (সা.) আবির্ভাবকে মানবসভ্যতার ইতিহাসে এক অনন্য ঘটনা বলে উল্লেখ করেন। 

দিনটি উদযাপনে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে পক্ষকালব্যাপী কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার বাদ মাগরিব বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পূর্ব সাহানে অনুষ্ঠান শুরু হয়, যার  প্রধান অতিথি হিসেবে উদ্বোধন করেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। 

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত একই স্থানে প্রতিদিন বাদ মাগরিব ওয়াজ মাহফিলে দেশবরেণ্য আলেম-ওলামারা বয়ান করবেন।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রকাশ করা হয়েছে সিরাত স্মরণিকা ও ক্রোড়পত্র। জাতীয় মসজিদের পূর্ব ও দক্ষিণ সাহানে চলছে মাসব্যাপী ইসলামী বইমেলা। 

এ ছাড়া রয়েছে কিরাত মাহফিল, হামদ-নাত মাহফিল, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও বাংলাদেশ বেতারের যৌথ সেমিনার, নবী করিম (সা.)-এর শানে রচিত কবিতা পাঠের মাহফিল, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদরাসা শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ইসলামী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা এবং ইসলামী ক্যালিগ্রাফি প্রদর্শনী।

দেশের বিভিন্ন মসজিদ, মাদরাসা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কোরআন তিলাওয়াত, আলোচনাসভা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে তুলে ধরা হচ্ছে মহানবী (সা.)-এর জীবন, আদর্শ ও মানবতার জন্য তার অবদান। দিনটি উপলক্ষে সারাবিশ্বের মুসলমানরা মহানবী (সা.)-এর জীবন ও সুন্নাহ অনুসরণের অঙ্গীকার করবেন এবং ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে শান্তি, ন্যায় ও মানবিকতা প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় গ্রহণ করবেন।