1. »
  2. জাতীয়

মেধা ও যোগ্যতায় দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনলে স্বীকৃতি: প্রধানমন্ত্রী

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:২৪ পিএম | আপডেট: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:২৪ পিএম

মেধা ও যোগ্যতায় দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনলে স্বীকৃতি: প্রধানমন্ত্রী

গত আগস্টে বিজয়ীদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেছেন, দেশের সন্তানরা মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে যা কিছু ভালো অর্জন করবে, সরকার রাষ্ট্রের অবস্থান থেকে সেই অর্জনের স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা করবে।

আন্তর্জাতিক পবিত্র কোরআন প্রতিযোগিতায় পুরস্কার বিজয়ী বাংলাদেশের হাফেজদের সংবর্ধনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, মেধা ও যোগ্যতার মাধ্যমে দেশের সন্তানরা ভালো কোনো অর্জন করলে রাষ্ট্রীয়ভাবে তার স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক পবিত্র কোরআন প্রতিযোগিতায় পুরস্কারজয়ী বাংলাদেশের হাফেজদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় হাফেজদের অর্জন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, এটি দেশের জন্যও গৌরবের। মেধাবীদের উৎসাহিত করা এবং তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হলে এর সুফল ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ও দেশ পাবে।

তিনি বলেন, দেশের সন্তানরা তাদের মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে যে কোনো ভালো অর্জন করলে সরকার রাষ্ট্রীয় অবস্থান থেকে সেটির স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা করবে। এ কারণেই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হাফেজদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।

সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের মতো বিষয় নয়, এই বক্তব্যটি হাফেজদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের প্রসঙ্গেই দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে সরকারের সহযোগিতার প্রয়োজন হলে নিয়ম অনুযায়ী জানালে সম্ভবপর সহযোগিতা করা হবে।

তিনি বলেন, দেশের ছেলেমেয়েরা আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে নিজেদের পাশাপাশি দেশের জন্য সম্মান ও গৌরব বয়ে আনুক—এটাই সরকারের প্রত্যাশা।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে পুরস্কারজয়ী হাফেজদের কয়েকজন শিক্ষক তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে সম্ভবপর সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

দেশে শান্তি ও পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবার কাজের ধরন ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু লক্ষ্য একই—দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা এবং মানুষকে স্বাভাবিক ও সম্মানজনকভাবে বাঁচার সুযোগ করে দেওয়া।

তিনি বলেন, সরকার দেশের জন্য ও মানুষের জন্য কাজ করতে চায় এবং সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশের জন্য ভালো কিছু পরিবর্তন আনতে চায়।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী পুরস্কারজয়ী হাফেজদের বই উপহার দেন। এ সময় প্রতিযোগিতায় যে সূরাগুলো তিলাওয়াত করে তারা পুরস্কার পেয়েছেন, সেগুলোর আয়াতও তাদের কণ্ঠে শোনেন তিনি।

সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত এবারের প্রতিযোগিতায় ১৩৩ দেশের ৩৩৪ জন প্রতিযোগী অংশ নেন। বাংলাদেশের হাফেজরা বিভিন্ন বিভাগে সাফল্য অর্জন করেন। হাফেজা মুসফিরা বিনতে মাহমুদ ৩০ পারা হিফজ, তাজবিদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে তৃতীয় এবং হাফেজা রাবেতা বিনতে রমজান ১৫ পারা বিভাগে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন।

এ ছাড়া বাংলাদেশের হাফেজ মোহাম্মদ জাকারিয়া ১৫ পারা হিফজ, তাজবিদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে প্রথম এবং হাফেজ শেখ মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান আশরাফী ৩০ পারা হিফজ, তাজবিদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে তৃতীয় হয়েছেন।

অনুষ্ঠানে ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ, প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পুরস্কারজয়ী হাফেজদের শিক্ষক ও অভিভাবকরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।