জাতিসংঘের কার্যকারিতা ফেরাতে জরুরি সংস্কারের আহ্বান খলিলুর রহমানের
বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:৫৪ এএম | আপডেট: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:৫৪ এএম
জাতিসংঘের কার্যকারিতা ফিরিয়ে আনা, নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি সংস্কার এবং বিশ্বজুড়ে হারানো আস্থা পুনর্গঠনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনী ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। এবারের অধিবেশনের মূল প্রতিপাদ্য—‘আস্থা পুনরুদ্ধার, রূপান্তর ব্যবস্থাপনা: সবার জন্য কার্যকর জাতিসংঘ’।
নিরাপত্তা পরিষদের বর্তমান কাঠামোর বৈষম্য তুলে ধরে খলিলুর রহমান বলেন, জাতিসংঘের সবচেয়ে বড় আঞ্চলিক সদস্যগোষ্ঠী এবং শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের অন্যতম প্রধান অংশীদার হওয়ার পরও আফ্রিকার নিরাপত্তা পরিষদে কোনো স্থায়ী আসন নেই।
আফ্রিকাকে জাতিসংঘের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আফ্রিকার প্রতিনিধিত্বের দাবি কোনো করুণা নয়; এটি ন্যায়বিচার এবং জাতিসংঘের গ্রহণযোগ্যতার প্রশ্ন।
নিরাপত্তা পরিষদকে আরও স্বচ্ছ ও প্রতিনিধিত্বশীল করার পাশাপাশি বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন সাধারণ পরিষদের সভাপতি। এ ক্ষেত্রে সাধারণ পরিষদের আন্তঃসরকারি আলোচনা প্রক্রিয়ার প্রতিও সমর্থন জানান তিনি।
বিশ্বজুড়ে আস্থা পুনর্গঠনে তিনটি কৌশলের কথা উল্লেখ করেন খলিলুর রহমান। এগুলো হলো—নিজেদের ব্যর্থতা সম্পর্কে স্পষ্ট ও বাস্তববাদী হওয়া, সুনির্দিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় সুশীল সমাজ ও বিজ্ঞানীদের আরও বেশি সম্পৃক্ত করা।
বৈশ্বিক বৈষম্য ও সামরিক ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তার ভাষ্য, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের অগ্রগতি যখন থমকে আছে, তখন ওইসিডি দেশগুলোর উন্নয়ন সহায়তা এক বছরে ২৩ শতাংশ কমে ১৭৫ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। বিপরীতে বিশ্বব্যাপী সামরিক ব্যয় বেড়ে প্রায় ৩ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
গাজা, সুদান, ইউক্রেন, মিয়ানমার ও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রসঙ্গ তুলে ধরে খলিলুর রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক আইন এবং বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার নীতি কোনোভাবেই নির্বাচনী বা পক্ষপাতমূলকভাবে প্রয়োগ করা উচিত নয়।
ভাষণে বাংলাদেশের কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থীশিবির এবং হাইতিতে জাতিসংঘের মানবিক কার্যক্রমের ইতিবাচক ভূমিকার উদাহরণও তুলে ধরেন তিনি।
এ ছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার নিয়েও সতর্ক করেন সাধারণ পরিষদের সভাপতি। তার মতে, পানি সরবরাহ, বিদ্যুৎ ও সামরিক খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল ক্ষেত্রে এআইয়ের অপব্যবহার মানব সভ্যতার জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
এআইভিত্তিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা ঠেকাতে বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ত করে দ্রুত প্রমাণভিত্তিক বৈশ্বিক নীতিমালা এবং নিয়ন্ত্রণ কাঠামো বা ‘গার্ডরেল’ তৈরির আহ্বান জানান খলিলুর রহমান।
আরও পড়ুন
- রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে ফেরানোর বিকল্প নেই: প্রধানমন্ত্রী
- নিরাপদ ও সুরক্ষিত ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ছে বাংলাদেশ: রেহান আসাদ
- জাতিসংঘ সদর দপ্তরে হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক
- জাতিসংঘ মহাসচিবের স্বাগত প্রাতরাশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- পুলিশে বড় রদবদল
- সরকার নির্ধারিত ভাড়ার বেশি আদায় করলে রুট পারমিট বাতিল: সড়ক পরিবহনমন্ত্রী
- বাড়ল বাস ভাড়া
- আগামী জানুয়ারিতে ইউপি নির্বাচন: ইসি মাছউদ