1. »
  2. জাতীয়

প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে মুক্তি পেলেন কুষ্টিয়ার সেই স্কুলশিক্ষক

বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:৩৫ এএম | আপডেট: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:৩৫ এএম

প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে মুক্তি পেলেন কুষ্টিয়ার সেই স্কুলশিক্ষক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বাংলা উচ্চারণ নিয়ে শ্রেণিকক্ষে মন্তব্য করার অভিযোগে আটক কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের স্কুলশিক্ষক গোলাম কিবরিয়া লালনকে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। শিক্ষককে আটকের বিষয়টি জানার পর প্রধানমন্ত্রী ক্ষুব্ধ হন এবং তাঁকে কোনো ধরনের হয়রানি না করে সম্মানের সঙ্গে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেন। 

পরে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশি নিরাপত্তায় ওই শিক্ষককে তাঁর নিজ বাসভবনে পৌঁছে দেওয়া হয়।

গোলাম কিবরিয়া লালন দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বাংলা বিষয়ের শিক্ষক। দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুস্পষ্ট নির্দেশনায় শিক্ষককে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং পুলিশি নিরাপত্তায় তাঁকে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়।

শিক্ষককে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও উপদেষ্টা মাহ্‌দী আমিন বুধবার দিবাগত রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জানান, শ্রেণিকক্ষে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য নিয়ে শিক্ষকের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে স্থানীয় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে অসন্তোষ ও উত্তেজনা তৈরি হয়। বিদ্যালয় চত্বরে বিক্ষোভের পরিস্থিতিতে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ শিক্ষককে হেফাজতে নিয়ে থানায় যায়।

মাহ্‌দী আমিন বলেন, বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিগোচর হলে তিনি এতে ক্ষুব্ধ হন। পরে সংশ্লিষ্ট থানাকে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়, শিক্ষককে যেন কোনো ধরনের হেনস্তা করা না হয় এবং সসম্মানে ও নিরাপদে তাঁর বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ পাওয়ার পর পুলিশ শিক্ষক গোলাম কিবরিয়া লালনকে তাঁর বাড়িতে পৌঁছে দেয়।

মাহ্‌দী আমিনের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী মনে করেন ভিন্নমত ও মতপ্রকাশের অধিকার গণতান্ত্রিক সমাজের স্বাভাবিক অংশ। কারও বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত থাকলেও তাঁর মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রতি সম্মান দেখানো প্রয়োজন। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহাবস্থানের মধ্য দিয়েই গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী হয় বলে প্রধানমন্ত্রী মনে করেন।

এর আগে বুধবার বেলা ১১টার দিকে ভেড়ামারা-প্রাগপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের প্রাগপুর এলাকা থেকে শিক্ষক গোলাম কিবরিয়া লালনকে আটক করে পুলিশ। স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীদের একাংশের অভিযোগ, গত মঙ্গলবার বিকেলে দশম শ্রেণির বাংলা ক্লাসে জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বাংলা ভাষণের প্রসঙ্গ ওঠে। এ সময় শিক্ষক লালন প্রধানমন্ত্রীর বাংলা উচ্চারণ নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ করা হয়।

বিষয়টি জানাজানি হলে বুধবার সকালে কয়েকজন অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। তাঁরা শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ বিদ্যালয়ে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং নিরাপত্তার স্বার্থে শিক্ষককে হেফাজতে নিয়ে থানায় যায়।

তবে ঘটনাটিকে ভুল বোঝাবুঝি হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রাগপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও প্রাগপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফুজ্জামান মুকুল। তিনি জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শিক্ষক লালন কোনো কটূক্তি বা আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগ অস্বীকার করেন।

শিক্ষক পুলিশকে জানান, দীর্ঘ সময় প্রবাসে থাকার কারণে প্রধানমন্ত্রীর বাংলা উচ্চারণে কিছুটা অস্পষ্টতা তৈরি হয়েছে—শ্রেণিকক্ষে সাধারণ আলোচনার সময় তিনি শুধু এ কথাই বলেছিলেন। পরে তাঁর বক্তব্যকে অতিরঞ্জিতভাবে উপস্থাপন করায় ভুল বোঝাবুঝি ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।