প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ভাতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:২৩ এএম | আপডেট: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:৪৫ এএম
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সরকারি ভাতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাষ্ট্রের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যতে এ ভাতা বাড়ানো হবে, যাতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা আরও স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপন করতে পারেন।
গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করাকে সরকার ও সমাজের দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁরা সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাঁদের প্রয়োজন ও অধিকার যথাযথভাবে বিবেচনায় নিতে হবে। অতীতে এ ক্ষেত্রে যেসব ঘাটতি ছিল, সেগুলো পূরণে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করতে চায়।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সরকারি প্রতিষ্ঠান ও আদালতে সাংকেতিক ভাষা ব্যবহারের সুযোগ তৈরির বিষয়টি বিবেচনা করা হবে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হবে।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। তথ্যপ্রযুক্তি খাতেও তাঁদের প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। এ বিষয়ে সমাজকল্যাণমন্ত্রীকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে নির্দেশনা দেন তিনি।
চিকিৎসাসেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে যোগাযোগের প্রতিবন্ধকতা দূর করতে হাসপাতালগুলোতে সাংকেতিক ভাষায় দক্ষ ব্যক্তিদের ব্যবস্থা করার বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে প্রতিবন্ধী নারীদের আইনি সহায়তা নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেন তিনি।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণে নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যানের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, এ বিষয়ে সঠিক তথ্য সংগ্রহ করে সরকারের কাছে উপস্থাপনের জন্য বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে।
প্রতিবন্ধী কৃষকদের বিশেষ সুযোগ-সুবিধা দেওয়া এবং সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর বিষয়টিও সরকার বিবেচনা করবে বলে জানান তিনি।
গণপরিবহনে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের যাতায়াত সহজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন নারীদের জন্য পিংক বাসসেবা আরও উপযোগী করার পাশাপাশি ঢাকা ও অন্যান্য বড় শহরে প্রতিবন্ধীবান্ধব বাস চালুর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হবে।
নতুন ভবনের নকশা অনুমোদনের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রবেশ ও চলাচলের উপযোগী ব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের সুবিধা না থাকলে সংশ্লিষ্ট ভবনের নকশা অনুমোদন না দেওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির প্রস্তাবকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন প্রধানমন্ত্রী। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
জাতীয় সংসদে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার প্রস্তাব প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, বিষয়টি সাংবিধানিক বিবেচনার সঙ্গে যুক্ত। এ বিষয়ে দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আইনি সহায়তা নিশ্চিত করতে সমাজকল্যাণ, আইন এবং নারী ও শিশুবিষয়ক সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। এর মাধ্যমে আইনি সহায়তা কার্যক্রমে অগ্রগতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নানা সীমাবদ্ধতা ও প্রতিকূলতার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, তাঁদের সমস্যাগুলো অনুধাবন করে সরকার সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেওয়ার চেষ্টা করবে। প্রত্যেক মানুষের সম্মান ও মর্যাদা নিয়ে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাও যেন প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা পেয়ে স্বাবলম্বী ও স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবনযাপন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করবে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির (বিপিকেএস) প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক আব্দুস সাত্তার দুলালের সঞ্চালনায় ৩০ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও সংগঠনের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন। তাঁরা নিজেদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন।
এ সময় প্রতিবন্ধী ক্রীড়াবিদ মো. মহসিন প্রধানমন্ত্রীর জন্য একটি ক্যাপ উপহার এনেছেন বলে জানালে মঞ্চ থেকে নেমে এসে সেটি গ্রহণ করেন তারেক রহমান। এ ছাড়া বিদেশে খেলাধুলায় অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে মহসিনের দলকে সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার।
অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত বক্তা ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে গ্রুপ ছবিতে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী।
আরও পড়ুন
- সওজের ৪০০ স্থাপনায় বসবে সৌর প্যানেল, লক্ষ্য ৫ হাজার ১৪৪ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন
- জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী রোববার
- ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানবিক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর
- সংগ্রামী রীপা গোমেজের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী
- প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তায় রাতভর সচিবালয়ে প্রতিমন্ত্রী
- পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
- আব্দুল হাইয়ের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক
- রাজধানীর ৯৮ বাস রুট কমে হবে ৩২, ছয় মাসে বাস্তবায়নের লক্ষ্য