ইরানে একাধিক বিস্ফোরণ, দুই তেলবাহী ট্যাংকারে আগুন
রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬ ১০:১৫ এএম | আপডেট: রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬ ১০:১৫ এএম
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ‘অননুমোদিত পথে’ চলাচলের চেষ্টা করার সময় মাইনের আঘাতে দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে আগুন ধরে যায়। এসব ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সময় শনিবার (৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি কেশম দ্বীপ, জাস্ক, সিরিক ও বন্দর আব্বাস শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। তবে এসব এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে পারেনি ইরানি কর্তৃপক্ষ।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে দেশটির সামরিক তৎপরতার সঙ্গে এসব বিস্ফোরণের সম্পর্ক থাকতে পারে। ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজে একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, বিস্ফোরণগুলো ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে ইরানি কর্মকর্তারা নিশ্চিত করে কিছু জানাননি। অন্যদিকে, আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম এক সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, কেশম দ্বীপে বিস্ফোরণের শব্দের সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কোনো সম্পর্ক নেই।
এদিকে রোববার (৮ নভেম্বর) ভোরে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌবাহিনী জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির ‘অননুমোদিত পথে’ চলাচলের চেষ্টা করার সময় মাইনের আঘাতে দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে আগুন ধরে যায়।
তবে ট্যাংকার দুটিতে আগুন লাগার ঘটনার সঙ্গে আগের দিন ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় শোনা বিস্ফোরণের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি।
হরমুজ প্রণালিতে চলাচলের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ লঙ্ঘনের অভিযোগে বিভিন্ন জাহাজে হামলা চালিয়েছে ইরান। গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে তেহরান এমন পদক্ষেপ নিচ্ছে।
এর আগে শনিবার তাসনিম জানিয়েছিল, কেশম দ্বীপে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। তবে এ ঘটনায় সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্র ওই দ্বীপে হামলা চালানোর কয়েক দিন পরই নতুন করে বিস্ফোরণের খবর সামনে এল। এর আগে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা ছিল সীমিত পরিসরের। বড় ধরনের সামরিক অভিযান পুনরায় শুরুর অংশ হিসেবে ওই হামলা চালানো হয়নি।
এদিকে শনিবার সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, অবরোধ ভেঙে যাওয়ার চেষ্টা করা একটি বাণিজ্যিক জাহাজকে অচল করে দিয়েছে তাদের বাহিনী।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) ভাষ্য অনুযায়ী, জাহাজটি অবরোধ লঙ্ঘনের চেষ্টা করলে একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান থেকে সেটির পেছনের অংশ লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। এতে জাহাজটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে।
সূত্র: রয়টার্স
আরও পড়ুন
- পোল্যান্ডে বন্দুকধারীর এলোপাতাড়ি গুলিতে নিহত ৯, আহত অন্তত ১৬
- নেতানিয়াহু নন, ইসরায়েলে সরকার গঠনের দায়িত্ব পাচ্ছেন আইজেনকট
- হুথিদের ৪৪০ যোদ্ধাকে নিষ্ক্রিয় করার দাবি ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর
- জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো ও ইরান যুদ্ধ বন্ধে কাজ করবে ডেমোক্র্যাটরা : শুমার
- রিপাবলিকানদের নির্বাচনী বিপর্যয়ের পেছনে ইরান যুদ্ধ: ট্রাম্প
- মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে ট্রাম্পের দল, ফিরছে ডেমোক্র্যাটরা
- যুক্তরাষ্ট্রে আবাসিক এলাকায় প্রাইভেট জেট বিধ্বস্ত, নিহত ৯
- অর্ণবের পর নতুন ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা, সরানো হচ্ছে উপকূলের মানুষ