জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো ও ইরান যুদ্ধ বন্ধে কাজ করবে ডেমোক্র্যাটরা : শুমার
বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬ ১০:২৮ এএম | আপডেট: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬ ১০:২৮ এএম
যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের পর জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ বন্ধ করাকে প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা করেছেন সিনেটে দলটির নেতা চাক শুমার। বুধবার (স্থানীয় সময়) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অবস্থানের কথা জানান।
শুমার বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সহযোগিতা থাকুক বা না থাকুক, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে কাজ করবে ডেমোক্র্যাটরা। কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষেই দলটির জয় নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি বলেন, এই বিজয় জনগণের অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা এবং ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকাণ্ডের জবাবদিহি নিশ্চিত করার নতুন সুযোগ তৈরি করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন জনগণের উদ্দেশে পাঁচ শব্দের বার্তা দেন শুমার। তিনি বলেন, ‘মার্কিন জনগণের জন্য আমাদের পাঁচটি শব্দ রয়েছে। স্বস্তি আসছে।’
আগের নির্বাচনে পরাজয়ের পর সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার নিয়ে অনেকেই সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন। তবে এসব সন্দেহ উপেক্ষা করে ডেমোক্র্যাটরা নিজেদের লক্ষ্য ধরে রেখেছিলেন বলে জানান তিনি।
শুমারের মতে, নির্বাচনে দলটির জয়ের পেছনে মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং ট্রাম্প প্রশাসনের দুর্নীতি নিয়ে ভোটারদের উদ্বেগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
শুমার বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবার দাম বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বহু পরিবার আর্থিক সংকটে রয়েছে। অনেক পরিবারকে খাবার, জ্বালানি, চিকিৎসা ও ঘর গরম রাখার খরচের মধ্যে বেছে নিতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘মার্কিন পরিবারগুলো ভীষণ দুশ্চিন্তায় রয়েছে। তারা ভাবছে, কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য গাড়িতে তেল কিনবে, নাকি সন্তানদের খাওয়ানোর জন্য বাজার করবে? পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসার খরচ দেবে, নাকি শীতকালে ঘর গরম রাখতে বিদ্যুৎ বিল দেবে?’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রেসিডেন্টের সহযোগিতা থাকুক বা না থাকুক, আমরা খরচ কমাতে কঠোর পরিশ্রম করব। এ বিষয়ে কোনো ছাড় নেই।’
শুমার জানান, নির্বাচনী প্রচারের পরিকল্পনা করতে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নেতারা একসঙ্গে কাজ করেছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের মানুষের সমস্যা সম্পর্কে জানেন, এমন প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল।
তার অভিযোগ, রিপাবলিকানরা সাধারণ মানুষের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা বুঝতে ব্যর্থ হয়েছেন। জনগণের প্রয়োজনের চেয়ে তারা ট্রাম্পের রাজনৈতিক স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।
অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংকটের পাশাপাশি পররাষ্ট্রনীতিতেও ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থানের বিরোধিতা করেছেন শুমার। তিনি ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে সামরিক অভিযান চালানোর পক্ষে প্রশাসনের যুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
শুমারের অভিযোগ, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের কারণ সম্পর্কে ট্রাম্প মার্কিন জনগণকে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। বরং তিনি বারবার নিজের অবস্থান পরিবর্তন করছেন।
তিনি বলেন, ‘ইরানে আমরা কেন যুদ্ধ করছি, তা মার্কিন জনগণ কিছুতেই বুঝতে পারছে না। তিনি (ট্রাম্প) কখনোই বিষয়টি পরিষ্কার করেননি। তিনি প্রতিদিন, এমনকি প্রতি মিনিটে নিজের অবস্থান বদলান। এই যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে। অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।’
যুদ্ধ বন্ধে কংগ্রেসের সাংবিধানিক ক্ষমতা ব্যবহারের কথাও জানান ডেমোক্র্যাট নেতা। বিশেষ করে সরকারের অর্থ বরাদ্দ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে সামরিক অভিযানের বিরোধিতা করতে চান তারা।
শুমার বলেন, ‘আমরা এই যুদ্ধ বন্ধ করব। যুদ্ধ বন্ধের পক্ষে ইতিমধ্যে কয়েকজন রিপাবলিকানও আমাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। প্রতিষ্ঠাতারা প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণের একটি উপায় হিসেবে অর্থ বরাদ্দের ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে দিয়েছিলেন। এর উদ্দেশ্য ছিল, মার্কিন জনগণের সম্মতি ছাড়া কোনো প্রেসিডেন্ট যেন যুদ্ধে জড়াতে না পারেন।’
শুমার আরও জানান, ট্রাম্প প্রশাসন আইন লঙ্ঘন করলে কিংবা মার্কিন জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করলে ডেমোক্র্যাটরা তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপ নেবে। আইন প্রণয়নের মাধ্যমেও প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করা হবে।
তিনি বলেন, ‘ট্রাম্প যখনই মার্কিন জনগণের ইচ্ছা বা আইন অমান্য করবেন, তখনই আমরা তদন্ত শুরু করব, তাকে আদালতে নিয়ে যাব এবং আইন প্রণয়নের নানা পদক্ষেপের মাধ্যমে তাকে কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলব।’
ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে সীমাহীন ক্ষমতা নয়, বরং জনগণের দেওয়া দায়িত্ব হিসেবে দেখছেন বলে জানান শুমার।
তিনি বলেন, ‘এটি আমাকে নিয়ে নয়। এটি মার্কিন জনগণকে নিয়ে। তারা কী চায়, তাদের কী প্রয়োজন এবং তাদের সাহায্য করতে আমরা কী করতে পারি, সেটিই এখানে মূল বিষয়। খুব সহজ কথা।’
২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের এই জয় যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। বিভিন্ন টেলিভিশন নেটওয়ার্কের নির্বাচনী পূর্বাভাস অনুযায়ী, কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে যাচ্ছে দলটি।
প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর কঠোর নজরদারি, তদন্ত ও শুনানি পরিচালনার সুযোগ পাবে ডেমোক্র্যাটরা। অন্যদিকে, সিনেটের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে থাকলে আইন প্রণয়ন এবং প্রেসিডেন্টের মনোনীত ব্যক্তিদের নিয়োগের ক্ষেত্রেও দলটির প্রভাব বাড়বে।
ফলে ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্যে পরিবর্তন আসার পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে।
আরও পড়ুন
- রিপাবলিকানদের নির্বাচনী বিপর্যয়ের পেছনে ইরান যুদ্ধ: ট্রাম্প
- মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে ট্রাম্পের দল, ফিরছে ডেমোক্র্যাটরা
- যুক্তরাষ্ট্রে আবাসিক এলাকায় প্রাইভেট জেট বিধ্বস্ত, নিহত ৯
- অর্ণবের পর নতুন ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা, সরানো হচ্ছে উপকূলের মানুষ
- হরমুজ প্রণালিতে মাইন বিস্ফোরণে ৪ তেলবাহী জাহাজে আগুন
- সুদানে ড্রোন হামলায় শতাধিক নিহত, বেশিরভাগই নারী-শিশু
- ইসরায়েলে নির্বাচনে নেই স্পষ্ট বিজয়ী, সরকার গঠন নিয়ে অচলাবস্থা
- স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত ৬৪