1. »
  2. আন্তর্জাতিক

সুদানে ড্রোন হামলায় শতাধিক নিহত, বেশিরভাগই নারী-শিশু

বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:৪২ পিএম | আপডেট: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:৪২ পিএম

সুদানে ড্রোন হামলায় শতাধিক নিহত, বেশিরভাগই নারী-শিশু

সুদানের পশ্চিমাঞ্চলীয় দারফুরে একটি ব্যস্ত বাজারে ড্রোন হামলায় শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন। নিহতদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও শতাধিক মানুষ।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) দক্ষিণ দারফুরের নিয়ালা শহরের একটি বাজারে এ হামলা হয়। সেখানে সাধারণ ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের পাশাপাশি আধাসামরিক বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

সহিংসতা পর্যবেক্ষণকারী মানবাধিকার সংস্থা ইমার্জেন্সি লয়ার্স জানিয়েছে, হামলায় ১০০ জনের বেশি মানুষ নিহত এবং ১১৩ জন আহত হয়েছেন। আরএসএফের গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত নিয়ালা শহরের ওই বাজারে খাদ্যদ্রব্য ও অন্যান্য পণ্য বিক্রি করছিলেন সাধারণ ব্যবসায়ীরা।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলার সময় বাজারে বিপুলসংখ্যক আরএসএফ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। রাত ৮টার দিকে ড্রোনটি আঘাত হানলে বহু মানুষ হতাহত হন। নিহতদের মধ্যে খাবার ও চা বিক্রি করা নারী এবং শিশুরাও ছিলেন।

দারফুরের ত্রাণকর্মী মোবারক বেখেত বলেন, চলমান সংঘাতে সবচেয়ে বেশি মূল্য দিতে হচ্ছে বেসামরিক মানুষকে। তাঁরা প্রাণ হারাচ্ছেন, স্বজন ও ঘরবাড়ি হারাচ্ছেন এবং প্রতিনিয়ত নতুন করে বোমা হামলার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।

অন্যদিকে, সুদানের সেনাবাহিনীর পক্ষে লড়াই করা স্পেশাল অপারেশনস ফোর্সেসের মুখপাত্র মোহামেদ দিদান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দাবি করেছেন, নিয়ালার পশ্চিমে দুমাইয়া ক্যাম্পে সুনির্দিষ্ট বিমান হামলায় ১৫০ জনের বেশি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্য নিহত হয়েছেন।

তবে সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক প্রাথমিক তথ্যে ২১ জন নিহত ও ৪০ জনের বেশি আহত হওয়ার কথা জানিয়েছে। নিরাপত্তাজনিত সীমাবদ্ধতা এবং চলমান সামরিক অভিযানের কারণে ঘটনাস্থল থেকে নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সহায়তা সংস্থা মেডিসিনস স্যান ফ্রঁতিয়ের (এমএসএফ) জানিয়েছে, তাদের সহায়তাপুষ্ট একটি হাসপাতালে ৩৬টি মরদেহ নেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ২১ জনের পরনে ছিল বেসামরিক পোশাক। এ ছাড়া ওই হাসপাতালে ১৫০ জনের বেশি আহত ব্যক্তিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

বাজারে হামলার নিন্দা জানিয়ে এমএসএফ বলেছে, বাজার, বাড়িঘর ও গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামো কখনোই হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়া উচিত নয়। সংঘাতে জড়িত সব পক্ষকে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সুদানে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে উঠেছে ড্রোন হামলা। দীর্ঘদিনের সংঘাতে দেশটিতে খাদ্যসংকট তীব্র হয়েছে এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে শরণার্থী সংকট আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

সূত্র: আল জাজিরা