হরমুজ প্রণালিতে মাইন বিস্ফোরণে ৪ তেলবাহী জাহাজে আগুন
শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ ০৮:২৩ এএম | আপডেট: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ ০৮:২৩ এএম
হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় সাগরে পুঁতে রাখা মাইনে আঘাত লেগে চারটি তেলবাহী জাহাজে আগুন ধরে যাওয়ার দাবি করেছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দেওয়া পৃথক বিবৃতিতে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ও সেনাবাহিনী এ তথ্য জানায়।
ইরানের আইআরজিসি জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় হরমুজ প্রণালির দক্ষিণাঞ্চলের অননুমোদিত নৌপথ দিয়ে চলাচলের চেষ্টা করার সময় তিনটি তেলবাহী জাহাজ সাগরে পুঁতে রাখা মাইনে আঘাত পায়। এতে বিস্ফোরণের পর জাহাজগুলোতে আগুন ধরে যায়।
পরে দেশটির সেনাবাহিনী জানায়, হরমুজ প্রণালির পূর্বাঞ্চলে আরও একটি তেলবাহী জাহাজ মাইন বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আগুনের কবলে পড়ে। জাহাজটি নিষিদ্ধ ও বিপজ্জনক এলাকায় চলাচল করছিল বলে দাবি করেছে তারা।
আইআরজিসির অভিযোগ, প্রথম তিনটি জাহাজ তাদের রাডার ও নেভিগেশন ব্যবস্থা বন্ধ রেখেছিল। এ ছাড়া ইরানের নৌবাহিনীর সতর্কবার্তাও উপেক্ষা করেছিল জাহাজগুলো। তবে এসব ঘটনার সুনির্দিষ্ট সময় ও জাহাজগুলোর পতাকাবাহী দেশের নাম তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
এদিকে ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও বৃহস্পতিবার গভীর রাতে জানায়, ওমানের খাসাব উপকূল থেকে প্রায় ২৫ নটিক্যাল মাইল বা ৪৬ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে হরমুজ প্রণালিতে একটি জাহাজে আগুন লাগার খবর পেয়েছে তারা।
এর আগে একই এলাকায় আরও দুটি সামুদ্রিক নিরাপত্তা ঘটনার তথ্য দিয়েছিল সংস্থাটি। এর একটি ঘটনায় আগুন ধরে একটি ঐতিহ্যবাহী আরবীয় নৌযান ডুবে যায়। অন্য ঘটনায় অজ্ঞাত কোনো বস্তু বা ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় একটি তেলবাহী জাহাজ।
গত কয়েক সপ্তাহে হরমুজ প্রণালিতে একাধিক জাহাজ মাইনে আঘাত পাওয়ার খবর দিয়েছে ইরান। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করে, নৌযান চলাচলের প্রধান পথগুলো থেকে সব মাইন অপসারণ করা হয়েছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের এ দাবির বিরোধিতা করেছেন আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি। বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লেখেন, হরমুজ প্রণালি থেকে মাইন সরানোর দাবির পক্ষে বিবৃতি নয়, স্বাধীন প্রমাণ দেখাতে হবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে ইরান। বিশ্বের মোট ব্যবহৃত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সাধারণত এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।
এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ আরোপ করেছে এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচলে সহায়তা করছে।
রোববার সেন্টকম জানায়, গ্রীষ্মকাল থেকে এ পর্যন্ত তাদের সহায়তায় উপসাগরীয় দেশগুলো হরমুজ প্রণালি দিয়ে ১৫০ কোটি ব্যারেল তেল রপ্তানি করেছে।
ইরানের দাবি, ওমান উপকূলঘেঁষা দক্ষিণাঞ্চলীয় করিডর দিয়ে জাহাজ চলাচলের অনুমতি নেই।
আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, অননুমোদিত ওই নৌপথ মাইন পুঁতে বিপজ্জনক করে রাখা হয়েছে। এ পথে চলাচলের দায় জাহাজের মালিক ও নাবিকদেরই নিতে হবে। একই সঙ্গে সেন্টকমের দাবিকে বিভ্রান্তিকর বলেও উল্লেখ করেছে বাহিনীটি।
এদিকে পৃথক এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোয়েন্দা ড্রোন জব্দ করার দাবিও করেছে আইআরজিসি। তাদের ভাষ্য, হরমুজ প্রণালির পশ্চিমাঞ্চলে অভিযান চালিয়ে নৌবাহিনীর ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ইউনিট যুক্তরাষ্ট্রের এমকিউএম-১৭০ মডেলের একটি ড্রোন জব্দ করেছে।
সূত্র: আলজাজিরা
আরও পড়ুন
- সুদানে ড্রোন হামলায় শতাধিক নিহত, বেশিরভাগই নারী-শিশু
- ইসরায়েলে নির্বাচনে নেই স্পষ্ট বিজয়ী, সরকার গঠন নিয়ে অচলাবস্থা
- স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত ৬৪
- সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর শঙ্কায় নেতানিয়াহু জোট, সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা
- বাংলাদেশকে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে দেখছে জাপান: তাকাইচি
- ভারতে এলোপাথাড়ি গুলিবর্ষণে নিহত ৫
- হরমুজ প্রণালিতে কুয়েতি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা
- সৌদিতে আরামকোর তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলা, নিহত ২