1. »
  2. খেলার মাঠ

ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কট, পাকিস্তানকে আইসিসির সতর্কবার্তা

সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০৯ পিএম | আপডেট: সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০৯ পিএম

ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কট, পাকিস্তানকে আইসিসির সতর্কবার্তা

২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচ বয়কটের ঘোষণার পর পাকিস্তানকে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত পাকিস্তান ক্রিকেটের ওপর গুরুতর ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি ক্রিকেটের বৃহত্তর স্বার্থে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে (পিসিবি) সংকটের একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজে বের করার আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

রোববার (২১ ফেব্রুয়ারি) পাকিস্তান সরকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানায়, ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে পাকিস্তান দলকে। তবে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচে তারা মাঠে নামবে না।

এ ঘোষণার প্রায় তিন ঘণ্টা পর এক বিবৃতিতে আইসিসি জানায়, এ বিষয়ে এখনো পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো অবস্থান জানানো হয়নি। পাকিস্তান সরকারের ঘোষণার বিষয়টি তারা অবগত থাকলেও পিসিবির আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের অপেক্ষায় রয়েছে আইসিসি।

বিবৃতিতে সংস্থাটি উল্লেখ করে, নির্দিষ্ট কোনো ম্যাচে অংশ না নেওয়ার ধারণা বৈশ্বিক ক্রীড়া ইভেন্টের মৌলিক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে সূচি অনুযায়ী সব দল সমান শর্তে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে—এটাই প্রত্যাশিত।

আইসিসি আরও জানায়, তাদের আয়োজিত টুর্নামেন্টগুলো ক্রীড়াসুলভ সততা, প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতা, ধারাবাহিকতা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। নির্দিষ্ট ম্যাচ বর্জনের সিদ্ধান্ত এসব প্রতিযোগিতার চেতনা ও স্বচ্ছতাকে ক্ষুণ্ন করতে পারে।

সংস্থাটি বলেছে, তারা রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণে সরকারের ভূমিকার প্রতি সম্মান জানায়। তবে এই সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক ক্রিকেটের স্বার্থে কিংবা বিশ্বজুড়ে ক্রিকেটপ্রেমী দর্শকদের জন্য ইতিবাচক নয় বলেই মনে করছে আইসিসি।

আইসিসির মতে, পিসিবির উচিত নিজ দেশের ক্রিকেটের ওপর সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিবেচনায় নেওয়া। কারণ এ ধরনের সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক ক্রিকেট ব্যবস্থাকেও প্রভাবিত করতে পারে, যার অংশীদার ও সুবিধাভোগী হিসেবে পিসিবি নিজেই যুক্ত।

বিবৃতির শেষাংশে আইসিসি জানায়, তাদের প্রধান লক্ষ্য হলো আইসিসি পুরুষদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সফলভাবে আয়োজন করা। এ দায়িত্ব পিসিবিসহ সব সদস্য বোর্ডের। তাই সকল পক্ষের স্বার্থ রক্ষা করে একটি পারস্পরিকভাবে গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানোর আশাবাদ ব্যক্ত করেছে সংস্থাটি।

ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্তের সুনির্দিষ্ট কারণ পাকিস্তান সরকার প্রকাশ করেনি। তবে এর আগে বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় আইসিসির বিরুদ্ধে দ্বিচারিতার অভিযোগ তুলেছিলেন পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি। সে সময় তিনি বলেছিলেন, টুর্নামেন্টে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

উল্লেখ্য, রাজনৈতিক বৈরিতার কারণে গত এক দশকের বেশি সময় ধরে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কোনো দ্বিপাক্ষিক ক্রিকেট সিরিজ অনুষ্ঠিত হয়নি। কেবল আইসিসি ও এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের টুর্নামেন্টেই দুই দল মুখোমুখি হয়ে থাকে। গত বছর এশিয়া কাপে ভারতীয় দলের পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের সঙ্গে হাত না মেলানো নিয়েও ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়।