ভারতে বসে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফেরার পরিকল্পনায় আওয়ামী নেতারা : দ্য গার্ডিয়ান
বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১১:২৩ এএম | আপডেট: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:২০ পিএম
বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধ, হত্যা, রাষ্ট্রদ্রোহ ও দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত হয়ে পলাতক থাকা আওয়ামী লীগের একাধিক শীর্ষ নেতা বর্তমানে ভারতের কলকাতা ও দিল্লিতে অবস্থান করছেন। সেখান থেকেই তারা দল পুনর্গঠন ও রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের কৌশল নির্ধারণে নিয়মিত বৈঠক ও যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
২০২৪ সালের জুলাই মাসে গণ-অভ্যুত্থানের মুখে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতা ছেড়ে ভারতে চলে যান। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই সময় সরকারবিরোধী আন্দোলন দমনে পরিচালিত অভিযানে প্রায় এক হাজার ৪০০ জন নিহত হন। এর পরপরই আওয়ামী লীগের হাজারো নেতা-কর্মী দেশত্যাগ করেন। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, তাদের মধ্যে অন্তত ৬০০ জন কলকাতায় আশ্রয় নিয়েছেন।
গণচাপের মুখে গত বছরের মে মাসে অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের সব রাজনৈতিক কার্যক্রম স্থগিত করে এবং দলটিকে আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও প্রচারণা থেকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। একইসঙ্গে দলটির শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে হত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও দুর্নীতির অভিযোগে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।
গত বছরের শেষ দিকে একটি যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন। তবে শেখ হাসিনা এই রায় প্রত্যাখ্যান করে একে ‘মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেন এবং ভারত থেকেই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিল্লিতে গোপন অবস্থান থেকে শেখ হাসিনা প্রতিদিন দীর্ঘ সময় ধরে দলীয় বৈঠক করছেন এবং বাংলাদেশে থাকা নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেনসহ একাধিক সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যকে নিয়মিতভাবে কলকাতা থেকে দিল্লিতে ডেকে কৌশলগত বৈঠক করা হচ্ছে বলেও জানা গেছে।
আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, দলটিকে নির্বাচনে অংশ নিতে না দেওয়া হলে ভোটের গণতান্ত্রিক বৈধতা ক্ষুণ্ন হবে। দলের সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, তারা নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং এই নির্বাচনকে ‘প্রহসন’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
অন্যদিকে, নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার বলছে, আসন্ন নির্বাচন গত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হতে যাচ্ছে। তবে আওয়ামী লীগ ইউনূসের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিশোধ নেওয়ার অভিযোগ তুলেছে, যা তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
মানবাধিকার সংস্থা ও জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রতিবেদনে শেখ হাসিনার শাসনামলে গুম, নির্যাতন, গোপন বন্দিশালা পরিচালনা, বিচার বিভাগের ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং সংবাদমাধ্যম দমনের অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ক্ষমতাচ্যুতির পর এসব গোপন বন্দিশালার অস্তিত্ব সম্পর্কে নতুন তথ্য প্রকাশ্যে আসে।
তবে অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধেও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সংখ্যালঘু সুরক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। পাশাপাশি শেখ হাসিনাকে দণ্ড দেওয়া ট্রাইব্যুনাল আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করেছে কি না, সে বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিভিন্ন পর্যবেক্ষক।
আওয়ামী লীগের নেতাদের দাবি, দেশজুড়ে প্রতিশোধমূলক সহিংসতায় তাদের শত শত নেতা-কর্মী নিহত বা কারাবন্দী হয়েছেন। তাদের ভাষ্য, দেশে ফিরলে প্রাণনাশের ঝুঁকি থাকায় তারা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন।
ভারতের ভূমিকা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানানো হলেও ভারত তা আমলে নেয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি দিল্লিতে এক সমাবেশে শেখ হাসিনার বক্তব্যের পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে একে বাংলাদেশের জনগণের প্রতি ‘অবমাননা’ হিসেবে উল্লেখ করে।
সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান
আরও পড়ুন
- কুখ্যাত এপস্টেইন নথিতে বাংলাদেশের আইসিডিডিআরবি
- পাকিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে সন্ত্রাসীদের সংঘর্ষ, নিহত শতাধিক
- ৭০ হাজার ফিলিস্তিনি হত্যার কথা স্বীকার করল ইসরায়েল
- কঙ্গোতে খনি ধসে নারী-শিশুসহ দুই শতাধিক প্রাণহানি
- মালয়েশিয়ায় ৫৬ বাংলাদেশিসহ ২১৮ অভিবাসী আটক
- আসন্ন নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্র কোনো পক্ষ নেবে না : মার্কিন রাষ্ট্রদূত
- ইরানের বিরুদ্ধে আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেবে না সৌদি আরব
- ইন্দোনেশিয়ায় ভয়ঙ্কর মাত্রার ভূমিধসে সাত জন নিহত, আহত ৮২