1. »
  2. সমগ্র দেশ

পহেলা ফাল্গুন ও বিশ্ব ভালোবাসা দিবস আজ

শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১০:৪১ এএম | আপডেট: শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১০:৪১ এএম

পহেলা ফাল্গুন ও বিশ্ব ভালোবাসা দিবস আজ

আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি—একই সঙ্গে পহেলা ফাল্গুন এবং বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। ঋতুরাজ বসন্তের প্রথম দিনে প্রকৃতি যেমন রঙিন হয়ে ওঠে, তেমনি মানুষের মনও ভরে ওঠে ভালোবাসার উচ্ছ্বাসে। ফুলের রঙ, হালকা বাতাস আর নতুন দিনের আলোয় বসন্ত যেন প্রেমেরই এক সুর বয়ে আনে।

পহেলা ফাল্গুনে বসন্তবরণের আনন্দে মেতে ওঠেন সব বয়সের মানুষ। তরুণ-তরুণীরা রঙিন পোশাকে, ফুলের সাজে উদযাপন করেন দিনটি; প্রবীণরাও স্মৃতিমাখা আবেগে অনুভব করেন বসন্তের নবজাগরণ। তাই বসন্তকে অনেকেই বলেন ‘প্রেমের ঋতু’। ইতিহাসে জানা যায়, ১৫৮৫ সালে মোগল সম্রাট আকবর ১৪টি উৎসবের প্রচলন করেন, যার একটি ছিল বসন্ত উৎসব। সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় আজও বসন্ত উৎসব রঙ, রূপ ও আনন্দে উদযাপিত হয়।

অন্যদিকে, বিশ্ব ভালোবাসা দিবস বা ভ্যালেন্টাইনস ডে পশ্চিমা সংস্কৃতি থেকে এলেও, বাঙালি সংস্কৃতিতে এটি পেয়েছে ভিন্ন এক আবেগময় রূপ। আজকের ভালোবাসা কেবল প্রেমিক-প্রেমিকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়—মা-বাবা, স্বামী-স্ত্রী, ভাইবোন, সন্তান কিংবা বন্ধু—সবার প্রতিই ভালোবাসা প্রকাশের বিশেষ দিন এটি। ছোট উপহার, আন্তরিক শুভেচ্ছা আর মিষ্টি চমকে দিনটি হয়ে ওঠে আরও অর্থবহ।

ইতিহাসবিদদের মতে, রোমান সাম্রাজ্যের সময়কার কিছু প্রথা থেকে এই দিবসের সূত্রপাত। এক খ্রিস্টান পাদ্রি ও চিকিৎসক সেন্ট ভ্যালেনটাইনের নামেই দিনটির নামকরণ। ২৭০ খ্রিস্টাব্দে ১৪ ফেব্রুয়ারি রোমান সম্রাটের আদেশে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। বলা হয়, মৃত্যুর আগে তিনি এক চিঠিতে স্বাক্ষর করেছিলেন—‘ফ্রম ইয়োর ভ্যালেন্টাইন’। সেখান থেকেই ভালোবাসার এই প্রতীকী অভিব্যক্তির সূচনা।

আরও একটি প্রেক্ষাপট রয়েছে—প্রাচীন রোমে ‘জুনো’ উৎসব। বিয়ে ও সন্তানের দেবী জুনোর নামে পালিত এই উৎসবের সঙ্গে পরবর্তীতে সেন্ট ভ্যালেনটাইনের স্মৃতি যুক্ত হয়ে ১৪ ফেব্রুয়ারিকে ভালোবাসার দিন হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। সময়ের পরিক্রমায় তা ইউরোপ ছাড়িয়ে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে।

শেষ পর্যন্ত ভালোবাসা এক সার্বজনীন অনুভূতি—যা ভাষা, দেশ, ধর্ম ও বয়সের সীমা অতিক্রম করে মানুষকে মানুষে যুক্ত করে। বসন্তের এই দিনে ভালোবাসা হোক আরও উদার, আরও নির্মল, আরও গভীর