1. »
  2. সমগ্র দেশ

চট্টগ্রাম বন্দরে ফের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট ঘোষণা

শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ০৩:০৭ পিএম | আপডেট: শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ০৩:০৭ পিএম

চট্টগ্রাম বন্দরে ফের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট ঘোষণা

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বাতিলসহ চার দফা দাবিতে আবারও অচল হয়ে পড়তে যাচ্ছে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর। চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ এবং শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) আগামীকাল রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য লাগাতার ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে।

আজ শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের এস রহমান হলে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবীর ও মো. ইব্রাহিম খোকন। কর্মবিরতি স্থগিতের মাত্র দুই দিনের মাথায় নতুন করে এই কর্মসূচি ঘোষণায় বন্দরে ফের চরম অচলাবস্থার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এর আগে শুক্রবার রাতেও শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের নেতারা একই ধরনের আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এনসিটি বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। পাশাপাশি বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামানকে অপসারণ ও তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্তের দাবি জানানো হয়। আন্দোলনে অংশ নেওয়া শ্রমিক-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া সব ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা—বদলি, সাময়িক বরখাস্ত ও চার্জশিট—প্রত্যাহারের দাবিও জানানো হয়। এছাড়া আন্দোলনরত শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা আইনি হয়রানি না করার আহ্বান জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, গত ৫ ফেব্রুয়ারি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে আলোচনার পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়েছিল। উপদেষ্টার আশ্বাসে রমজান মাস ও আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে শ্রমিকরা দুই দিনের জন্য কর্মসূচি স্থগিত করেছিলেন।

তবে শ্রমিক নেতাদের অভিযোগ, আলোচনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বন্দর চেয়ারম্যান আন্দোলনকারী ১৫ জন নেতার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং সম্পদ তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) চিঠি দেন। এই পদক্ষেপকে তারা ‘অনৈতিক’ ও ‘আগুন নিয়ে খেলা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তাদের অভিযোগ, বন্দর চেয়ারম্যান পতিত সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়নের মাধ্যমে বন্দরকে অস্থিতিশীল করতে চাইছেন।

রোববার থেকে শুরু হতে যাওয়া এই অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানিকৃত খাদ্যশস্য, শিল্পকারখানার কাঁচামাল এবং রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাকের কনটেইনার খালাস কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, ধর্মঘট দীর্ঘ হলে জেটিতে জাহাজের জট ও ইয়ার্ডে কনটেইনার জট মারাত্মক আকার ধারণ করবে। এতে প্রতিদিন শত কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতির মুখে পড়তে পারে সরকার।

এ ছাড়া শিপিং এজেন্ট ও ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত ডেমারেজ চার্জ গুনতে হবে। সামনে রমজান মাস থাকায় নিত্যপণ্যের বাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার পাশাপাশি মূল্য স্থিতিশীল রাখা কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, এনসিটি ইজারা বাতিলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এবং শ্রমিকদের বিরুদ্ধে নেওয়া হয়রানিমূলক সব ব্যবস্থা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত বন্দরে কোনো কাজ চলবে না।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ইফতেখার কামাল খান, এস কে খোদা তোতন, মো. হারুন, তসলিম হোসেন সেলিম ও ফজলুল কবির মিন্টুসহ অন্যান্য নেতারা।